সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আমি এখন হাসপাতালে শয্যাশায়ী

প্রকাশঃ এপ্রিল ১৫, ২০১৭

সোহেল সানী-

সড়ক দুর্ঘটনার নিত্যচিত্র আমাদের এই দেশে। সাংবাদিকতা জীবনের প্রায় তিন দশকে সড়ক দুর্ঘটনা নিহত হওয়ার দৃশ্য একাধিকবার নিজেই প্রত্যক্ষ করছি। মর্মান্তিক খবর লিখেছি বহুবার। কিন্তু এবার প্রথবারের মতো সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হলাম নিজেই। ভাগ্যিস এখনো প্রাণে বেঁচে আছি পরম করুণাময় আল্লাহ্’র কৃপায়।

মটরবাইকে করে ডিআরইউ থেকে যাত্রা করেছিলাম, গুলশানস্থ বেসরকারি টিভি চ্যানেল ‘বৈশাখী’-র উদ্দেশ্যে। পথিমধ্যে দোস্ত শাবান মাহমুদ মোবাইল ফোনে বলেছিল, অশোক চৌধুরী দা’ ( বৈশাখীর প্রধান নির্বাহী ব্যক্তিত্ব) চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এসেছেন, আজ নয়. কাল তোমাকে নিয়ে যেতে বলেছেন, তাঁর বাবা গুরুতর অসুস্থ।

তবুও গুলশানের উদ্দেশ্যে গন্তব্য বহাল রেখে ছুটলাম। ফোনে যোগাযোগ করে গুলশান-১ এবং গুলশান-২ এর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ইউসিবিএল ব্যাংকে গেলাম। ব্যাংক কর্মকর্তা মহিম সাহেব বেশ কিছু টাকার পিনআপ করা একটা খাম আমার হাতে তুলে দিয়ে বিদায় জানালেন।

মটরবাইক চালক ছোট ভাই বাবু আমাকে নিয়ে ছুটলো জাতীয় প্রেসক্লাবের উদ্দেশ্যে। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ‘আড়ং’ এর সম্মুখে এসে দুর্ঘটনার কবলিত হই। পথচারীরা সড়ক থেকে সরিয়ে ফুটপাতে সরিয়ে রাখে। জানতে পারি সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত ওখানেই পড়ে থাকি। আমার মানি ব্যাগে রাখা বাংলাদেশ প্রতিদিনের পুরানো একটি পরিচয়পত্র সূত্র ধরে কেউ হয়তো, অফিসেকে জানায়। পরে শুনতে পাই ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আমার দোস্ত শাবান মাহমুদ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের বন্ধু মীর্জা মেহেদী তমাল, অতিপ্রিয় দৈনিক সমকালের ফসিউদ্দীন মাহতাব, বাংলাদেশ প্রতিদিনের রোহিত আলী রাজীবসহ প্রিয়জনরা মাইক্রো বাসে করে আমাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়, জ্ঞান হারানো অবস্থায়। আমাকে ওখানে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা চিকিৎসাসেবা দেয়। রাত ১২ টার দিকে জ্ঞান ফেরে বলে জানতে পারি।

গতকাল কাকরাইলস্থ ইসলামি ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে আমাকে ভর্তি করা হয়। শয্যাশায়ী। অধ্যাপক ডঃ এম ডি ইকবাল হোসেন চৌধুরীর (অর্থপেডিক) অধীনে আমি চিকিৎসাধীনে হাসপাতালটির ২ নম্বর ভবনের ১০৩৩ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন রয়েছি।

মধ্যরাতে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়েনর মহাসচিব ওমর ফারুক, জাতীয় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বন্ধু ইলিয়াস খান, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাখাওয়াৎ হোসেন বাদশা ও সাধারণ সম্পাদক মোরসালীন নোমানী, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ জামাল, ইত্তেফাকের বাবুসহ অনেক বন্ধু সহকর্মী, যারা আমাকে দেখে ছুটে আসেন, তাদের প্রতি আমি কৃতার্থতা জানাচ্ছি। নাম না জানা পথচারী অনেক ভাইও আমার পাশে থেকে তাদের মূল্যবান সময় ব্যয় করেছেন।

টেলিফোনে আমাকে সহানুভূতি জানিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা, আমাদের প্রিয়নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য জননেতা মোজাফফর হোসেন পল্টুও দুর্ঘটনার খবর শুনে আমাকে সমবেদনা জানিয়েছেন। সকল সাংবাদিক স্বজন, প্রিয়জন আমার জন্য দোয়া করবেন। আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন ওয়ান ইলেভেনের প্রথম দিনেই দুষ্কৃতিকারীরা কি নির্মমভাবে আমাকে কুপিয়ে জখম করেছিলো। প্যাটেলা স্থাপনে তিন তিনবার অপারেশন শেষেও আমাকে আড়াই বছর একরকম পঙ্গুত্ববরণের ন্যায় ক্রেস্টের ওপর ভর করে পথ চলতে হয়েছে। সিঁড়ি কিংবা দ্রুত হাঁটাচলায় আমি এখনও অক্ষম।

বিদায়ী বাংলা বছরের শেষ দিনে শিকার হলাম সড়ক দুর্ঘটনার। সেসময়ে পায়ের প্যাটেলা ভেতরে বসানো রডগুলো সরে যাওয়ায় হাঁটার অনুপযোগী হয়ে পড়েছি আবারও। বাম ঘাড়ে ও কোমোড়ে প্রচণ্ড আঘাতে ব্যথায় আমি কাতরাচ্ছি এখন।

দেশে সড়ক দুর্ঘটনা নিত্য দিনের। হতাহতের আতঙ্ক সারাদেশের সড়ক পথে।। একটি দিনের দেখা মিলছে না যে, সড়ক দুর্ঘটনা বাংলা মায়ের সন্তানের জীবন কেড়ে নিচ্ছে না। আমি সবার কাছে সুস্থ হয়ে যাতে চলাফেরা করতে সে জন্যে দোয়া চাই। আল্লাহ মেহেরবান নিশ্চয়ই তিনি আমাকে আবারও করুণা করবেন, যদি আপনাদের দোয়া বর্ষিত হয় আমার ওপর।

Advertisement

কমেন্টস