Advertisement

ফরিদপুরে ৮ম শ্রেণির স্কুল ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার

প্রকাশঃ এপ্রিল ৭, ২০১৭

Advertisement

হারুন-অর-রশীদ,ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আকোটেরচর ইউনিয়নের দোপ আকট গ্রামে সংখ্যালঘু পরিবারের ৮ম শ্রেনীর এক স্কুল ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাতে। গণধর্ষনের ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে ছাত্রীটির বাবা বাদী হয়ে তিনজনকে আসামী করে সদরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। এদিকে, ধর্ষণের সাথে জড়িতরা এলাকায় বেশ প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ তাদের আটক করছেনা বলে অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষণের শিকার স্কুল ছাত্রীকে বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে এবং মামলা সূত্রে জানা গেছে, সদরপুর উপজেলার আকোটের চর ইউনিয়নের দোপ আকট গ্রামের পতিত পবন সরকারের মেয়ে, আকোটের চর জনসংঘ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেনীর ছাত্রী বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে প্রকৃতির ডাকে ঘরের বাইরে এলে আগে থেকে ওঁতপেতে থাকা বাবু কাজী, ফারুক মুন্সী, সাখাওয়াত কাজীসহ কয়েক বখাটে মুখ বেঁেধ তুলে নিয়ে যায়। পরে বখাটেরা বাড়ীর কিছু দুরের একটি বাগানে নিয়ে মেয়েটিকে গণধর্ষন করে। মেয়েটির পরিবারের সদস্যরা রাতে বিভিন্ন স্থানে তাকে খুঁজে না পেলেও ভোর ৫টার দিকে মুখ বাঁধা অবস্থায় বাড়ীর পাশের রাস্তায় দেখতে পায়। সকালে মেয়েটিকে সদরপুর থানায় নিয়ে আসা হলে প্রভাবশালী মহলটি পুলিশকে ম্যানেজ করে বিষয়টি ধামাচাপা দেবার চেষ্টা চালায়। ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিকেরা জানলে তারা থানায় গিয়ে এ বিষয়ে খোঁজ নেন। স্থানীয় সাংবাদিকেরা অভিযোগ করে বলেন, থানার ওসি ধর্ষণের বিষয় নিয়ে কোন কথা বলতে রাজী হননি।

এমনকি তিনি সাংবাদিকদের তার কক্ষ থেকে বের করে দেন। এদিকে, গণধর্ষণের বিষয়টি নিয়ে এলাকায় জানাজানি হলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। আসামীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবীতে স্থানীয়রা একজোট হলে পুলিশ একপর্যায়ে শুক্রবার দুপুরে ধর্ষণের মামলাটি নিতে বাধ্য হয়। মামলা দায়েরের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তমাখা পলিথিনসহ বেশকিছু আলামত সংগ্রহ করে। পরে ধর্ষিতাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ধর্ষিতার বাবা পতিত পবন সরকার অভিযোগ করে বলেন, আসামীরা বেশ প্রভাবশালী। মামলা করার পর তাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
স্থানীয় কয়েক এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেছেন, ধর্ষণের ঘটনার সাথে যারা জড়িত তারা এলাকায় বেশ প্রভাবশালী। এ মহলটি থানায় যাতে মামলা না হয় সেজন্য নানা চেষ্টা চালায়। কিন্তু এলাকাবাসীর চাপের কারণে থানা পুলিশ মামলা নিতে বাধ্য হয়। আসামীদের গ্রেফতার নিয়েও তারা সন্দিহান প্রকাশ করে বলেন, আসামীরা গ্রেফতার হবে বলে মনে হয়না।

অবিলম্বে ন্যাক্কারজনক এ ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবী জানান স্থানীয়রা। এ বিষয়ে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ জানান, ধর্ষনের ঘটনায় তিনজনকে আসামী করে একটি মামলা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এ বিষয়ে তাদের উপর কোন চাপ নেই বলে জানান তিনি।

Advertisement

 

Advertisement

কমেন্টস