ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় বাংলা বর্ষবরণের প্রতীক ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’

প্রকাশঃ এপ্রিল ৬, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক –

জাতিসংঘ শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সংস্থা ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের বর্ষবরণের অন্যতম প্রতীক মঙ্গল শোভাযাত্রা। শান্তি প্রতিষ্ঠা ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক এ শোভাযাত্রায় প্রতিবছরই শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ কল্যাণকামী হাজারও মানুষ অংশ নেন। কিন্তু এবারের বিষয়টি ব্যতিক্রম। ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় মঙ্গল শোভাযাত্রা স্বীকৃতি পাওয়ায় এবারের পহেলা বৈশাখে দেশব্যাপী বাংলা নববর্ষ উদযাপনে ব্যাপকভাবে মঙ্গল শোভাযাত্রা কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, সব জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট জেলা শিল্পকলা একাডেমিকে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর রমনায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় বাংলা নববর্ষ-১৪২৪ পালনের কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় দেশব্যাপী মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইউনেস্কো বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ’ তালিকায় মঙ্গল শোভাযাত্রার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার খবরটি সারাদেশসহ সারাবিশ্বের মানুষকে জানাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠকে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘ইউনেস্কোর ইনট্যানজিবল কালচারারল হেরিটেজ তালিকায় মঙ্গল শোভাযাত্রার অন্তর্ভুক্তি একটি বিশেষ অর্জন। এটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। এই স্বীকৃতির কথা গোটা বিশ্বকে জানাতে হবে।’

ওই সভায় সংস্কৃতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মঙ্গল শোভাযাত্রার এ স্বীকৃতি বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনার পরিচয়কে বিশ্বের দরবারে ব্যাপকভাবে দৃঢ় করেছে।’ এ কারণেই দেশের সব জেলা ও উপজেলায় বাধ্যতামূলকভাবে মঙ্গল শোভাযাত্রা পালনের পক্ষে মত দেন সংস্কৃতিমন্ত্রী। মন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে উপস্থিত সব কর্মকর্তা একমত হলে পহেলা বৈশাখে দেশব্যাপী মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়।

এরপর গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রমনায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় পহেলা বৈশাখ পালনের কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে অনুষ্ঠিত হয় আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের সভাপতিত্বে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (অনুষ্ঠান) মো. ফয়জুর রহমান ফারুকী সরকারিভাবে নববর্ষের খসড়া কর্মসূচি সভায় উপস্থাপন করেন।  এতে মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। কর্মসূচির সপক্ষে যুক্তি তুলে ধরে ওই বৈঠকেও সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ইব্রাহিম হোসেন খান বক্তব্য উপস্থাপন ধরেন। সভায় দেশব্যাপী মঙ্গল শোভা যাত্রা আয়োজনের সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত হয়।

বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রণালয়গুলোর সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্মসচিবসহ শিল্পকলা একাডেমি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিসিক, র‌্যাব ও তথ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ ইব্রাহিম হোসেন খান বলেন, ‘অশুভ শক্তি আর বিভেদের বিরুদ্ধে আজ বাংলাদেশের শান্তি ও সম্প্রীতিকামী সব মানুষের ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে মঙ্গল শোভাযাত্রা। ইউনেস্কোর ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজের তালিকায় মঙ্গল শোভাযাত্রা অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এবছরের নববর্ষের উৎসবটি নতুন মাত্রা পেয়েছে।’

Advertisement

কমেন্টস