ভয়াবহ তথ্য ফাঁস, ঢাকায় জঙ্গিদের কাছে আরো ২৪টি বোমা

প্রকাশঃ মার্চ ২৬, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

বিমানবন্দর সড়কের গোলচত্বরে শুক্রবার পুলিশের তল্লাশিচৌকির কাছে শরীরে বেঁধে রাখা বোমার বিস্ফোরণে নিহত যুবক নব্য জেএমবির সদস্য বলে ধারণা করছেন কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা।  ঢাকায় এই জঙ্গিগোষ্ঠীর কাছে আরও অন্তত ২৪টি বোমা আছে বলে তথ্য রয়েছে, যা নিয়ে উদ্বিগ্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাঁদের পাওয়া তথ্য অনুযায়ী অন্তত ৩০টি বোমা ঢাকায় নব্য জেএমবির কাছে এসেছে। এর মধ্যে র‌্যাবের ব্যারাকে হামলাকারী একটির বিস্ফোরণ ঘটান, আরেকটি তাজা উদ্ধার হয়। এর পরের শুক্রবার বিমানবন্দর সড়কের গোলচত্বরে একটি বিস্ফোরিত হয়। তাঁর ট্রলি ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয় আরও তিনটি শক্তিশালী বোমা। এ নিয়ে ছয়টি বাদ দিলে আরও অন্তত ২৪টি বোমা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব বোমা কোথায়, কার কাছে আছে সে সম্পর্কে জানা যায়নি।

গত  ৭ এপ্রিল আহমেদ আজওয়াদ বোমার চালান নিয়ে বাসে ঢাকায় আসার পথে কুমিল্লায় গ্রেফতার হন।  আহমেদ আজওয়াদকে রিমান্ডে নিলে পুলিশ জানতে পারে তাকে গ্রেফতারের আগে দুটি বোমার চালান ঢাকায় পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি। একেকটি চালানে প্রায় পাঁচ থেকে ছয়টি করে বোমা ছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, র‌্যাবের ব্যারাকে আত্মঘাতী বিস্ফোরণের পরপরই দেশের সব পুলিশ ফাঁড়ি, থানা ও তল্লাশিচৌকিতে কেউ ঢুকতে গেলে ভালো করে পরীক্ষা করার নির্দেশ ছিল। এরপর বিমানবন্দর সড়কের গোলচত্বরে পুলিশ বক্সের সামনের ফুটপাত দিয়ে চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়। নিহত তরুণ ওই ফুটপাত ধরেই এগোচ্ছিলেন। পুলিশ সদস্যরা কিছু জিজ্ঞাসা করার আগেই বিকট শব্দে বোমার বিস্ফোরণ হয়।

তিনি আরো বলেন, আশকোনায় র‌্যাবের ব্যারাকে, সর্বশেষ গত শুক্রবার বিমানবন্দর সড়কের গোলচত্বরে বিস্ফোরিত বোমা ও নিহত যুবকের ট্রলি ব্যাগ থেকে উদ্ধার করা বোমার ধরণ একই। এর আগে সীতাকুণ্ডের জঙ্গি আস্তানায়ও একই ধরনের উপাদানে তৈরি বোমা পাওয়া গেছে।

তবে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, নিহত যুবকের ব্যাগে তিনটি ও শরীরে একটি বোমা ছিল। ওই যুবক হয়তো বোমা নিয়ে বিমানবন্দরের ভেতরে যেতে চাইছিলেন। সামনে পুলিশ দেখে ঘাবড়ে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে শুক্রবার রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, সেটা আত্মঘাতী হামলা ছিল না। পুলিশের তল্লাশিচৌকি এড়াতে অতিসতর্কতা অবলম্বন করতে গিয়ে ওই ব্যক্তির সঙ্গে থাকা বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে।

শুক্রবারের বিমানবন্দর সড়কের গোলচত্বরে এই আত্মঘাতী বোমা হামলায় জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছিল। সেখানের বিরিয়ানি ঘরের দোকানদার মনিরুজ্জামান জানান, ‘১৫ বচ্ছর ধইরা এইখানে ব্যবসা করি। পাশে পুলিশ চেকপোস্ট, র‌্যাব, এপিবিএন। কোনো দিন ভয় পাই নাই। এখন পাইতেছি। কে কোন দিক দিয়া বোম মারে, সারাক্ষণ তাই ভাবতেছি।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ গতকাল দুপুর ১২টার দিকে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত যুবকের লাশ ময়নাতদন্তের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘নিহত ব্যক্তির শরীরে বাঁধা বোমা বিস্ফোরণের ধরণ দেখে তাঁকে আত্মঘাতী বলেই আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে। নিহত ব্যক্তির শরীরে ৫৪ ইঞ্চি তার প্যাঁচানো ছিল। ময়নাতদন্তের সময় ওই তার উদ্ধার হয়। তারটির একটি অংশ পিঠের পেছনে স্কচটেপ দিয়ে এবং রেগুলেটরের মতো একটি জিনিস বাঁ হাতের কব্জির সঙ্গে লাগানো ছিল। র‌্যাবের নির্মাণাধীন সদর দপ্তরের সামনে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে নিহত তরুণের সঙ্গে আশকোনা পুলিশ বক্সের সামনে নিহত তরুণের মৃত্যুর ধরণে মিল রয়েছে। তবে র‌্যাব সদর দপ্তরের সামনে নিহত তরুণের শরীরের সামনের দিকে বোমা বাঁধা থাকায় বুক থেকে সবকিছু উড়ে যায়। পুলিশ বক্সের সামনে নিহত তরুণের পিঠের পেছন থেকে নিচের অংশ উড়ে গেছে।’

সূত্র প্রথম আলো..

 

Advertisement

কমেন্টস