Advertisement

র‍্যাবের দফতরে বোমা হামলাঃ মৃত্যুর ১৯ দিন আগে অপহৃত হন আবু হানিফ!

প্রকাশঃ মার্চ ১৯, ২০১৭

Advertisement

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

র‌্যাব সদর দফতরে আত্মঘাতী হামলার ঘটনার পর আশকোনার মুনমুন কাবাব ঘরের পেছন থেকে মো. হানিফ মৃধা ওরফে হানিফা (৩২)  নামে এক ব্যাক্তিকে আটক করা হয়। ধরা পড়ার পর অসুস্থবোধ করলে হাসপাতালে নেওয়ার পর সে মারা যায়। এদিকে মৃত্যুর ১৯ দিন আগে বরিশাল থেকে রাজধানীর বাসায় ফেরার পথে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে অপহৃত হন মো. আবু হানিফ।

নিহত হানিফের পরিবার জানিয়েছে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ডিবি পরিচয়ে তাকে অপহরণ করা হয়। এসময় সোহেল হোসেন মন্টু নামে আরও এক যুবককে অপহরণ করা হয়। যার খোঁজ এখনও মেলেনি।

পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, বরিশালে চরমোনাই পীরের মাহফিলে যোগ দেন তিনি। সেখান থেকেই ঢাকায় ফেরার পথে তাকে অপহরণ করা হয়। আবু হানিফ মৃধার বাড়ি বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের আমড়াগাছিয়া গ্রামে। সেখানে থাকেন আবু হানিফের বাবা আ. ছোবাহান, মা লিলি বেগম, হানিফের প্রথম স্ত্রী লাইলি বেগম এবং তিন সন্তান সুমাইয়া (৬), জান্নাতী (সাড়ে ৪) ও হাবিবা (দেড় বছর)। তার ছোটভাই আ. হালিম ও হালিমের পরিবারও গ্রামের বাড়িতেই থাকে।

হানিফের বাবা আ. ছোবাহানের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আবু হানিফ ১৫ থেকে ১৬ বছর আগে কাজের জন্য ঢাকায় পাড়ি জমান। প্রথমে ফুটপাতে ব্যবসা করতেন। পরে যাত্রীবাহী বাসের হেলপার, কন্ডাকটর ও ড্রাইভার হিসেবে চাকরি করেন। পরে হানিফ নিজে তিনটি বাস ও একটি প্রাইভেট কারের মালিক হন। ঢাকার বিভিন্ন রুটে এসব বাস ও প্রাইভেট কার ভাড়ায় চালানো হয়। ঢাকায় তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছিলেন।

তিনি আরও বলেন, গত মাসে (২৭ ফেব্রুয়ারি) চরমোনাই হুজুরের মাহফিলে যায় হানিফ। সেখানে মাহফিল শেষে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পরে ঢাকা থেকে এক লোক বাড়িতে ফোন করে জানায়, হানিফকে পাওয়া যাচ্ছে না। এই খবর শুনে হানিফের মা ও ছোট ভাই হালিম ঢাকায় গিয়ে খোঁজাখুঁজি করে। এমন সময় হানিফেরে প্রাইভেট কারের ড্রাইভার জানায়, কাঁচপুর ব্রিজের ওপর থেকে হানিফের গাড়িতে একদল লোক উঠে বসে। কিছু পথ যাওয়ার পর ড্রাইভারকে মারধর করে রাস্তায় ফেলে গাড়িসহ হানিফকে নিয়ে যায়। কে বা কারা এ কাজ করেছে, তা বলতে পারেনি ড্রাইভার।

এদিকে র‍্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (১৭ মার্চ) দুপুরে আশকোনায় নির্মাণাধীন র‌্যাব সদর দফতরে আত্মঘাতী হামলা চালায় এক জঙ্গি। কিন্তু, সেদিন এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন কোনও ব্যক্তিকে তখন আটকের খবর জানায়নি র‌্যাব। এ ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পর শনিবার বিকাল সোয়া ৫ টার দিকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে এক ব্যক্তি(হানিফের) মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায় র‌্যাব।

অপরদিকে হানিফের বাবা বলেন, আমার ছেলে খুব নিরীহ। তার আচার-আচরণ ভালো। সে জঙ্গি কর্মকাণ্ডের মতো কোনও কাজে জড়িত থাকতে পারে না। তবে আমি আমার ছেলে লাশ বাড়িতে আনতে চাই।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আবু হানিফের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের একটি মামলা রয়েছে। তবে পরিবারের কেউ মামলা সর্ম্পকে কিছু বলতে চাননি।

আবু হানিফ সম্পর্কে আমতলী থানার ওসি মো. শহীদ উল্লাহ বলেন, আমাদের কাছে তার ব্যাপারে তেমন কোনও তথ্য নেই। আমরা তদন্ত করে তার বিষয়ে জানতে চেষ্টা করছি।

Advertisement

 

Advertisement

কমেন্টস