যে লোভে এমপি লিটনকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিলেন কাদের

প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

আবার সংসদ সদস্য (এমপি) হওয়ার জন্য গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে হত্যা করেছেন সুন্দরগঞ্জের জাতীয় পার্টি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য অব. কর্নেল ডা. আব্দুল কাদের খান।পৃথিবী থেকে এমপি লিটনকে সরিয়ে দিতে পারলেই নিজের এমপি হওয়ার পথ পরিস্কার হবে এমন ভাবনা থেকেই প্রায় এক বছরের পরিকল্পনা অনুযায়ী তিন খুনিদের ছয় মাস প্রশিক্ষণ দেন আবদুল কাদের খান।লিটন হত্যার একমাস ২০ দিন পর পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে এমন চাঞ্জল্যকর তথ্য।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করেন পুলিশের রংপুর রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) খন্দকার গোলাম ফারুক।

ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী এমপি লিটনকে খুন করতে সুন্দরগঞ্জের জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি কর্নেল ডা. আব্দুল কাদের খান নিজেই হত্যাকারীদের প্রশিক্ষণ দেন। মেহেদী হাসান, শাহীন এবং হান্নান এই তিনজন আদালতে ১৬৪ ধারায় তাদের স্বীকারোক্তি দেন। আর একজন তাদের সাথে ছিল সেও আমাদের নজরদারিতে আছে। যেকোনো মুহূর্তে গ্রেফতার হয়ে যাবে।

ডিআইজি আরো বলেন, মূলত এমপি হওয়ার লোভেই যে, লিটনকে তার পথ থেকে সরিয়ে দিতে পারলে আগামী নির্বাচনে তিনি এমপি হতে পারবেন। এই ভেবেই তিনি লিটনকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

এদিকে নিহত এমপি লিটনের বোন ফাহমিদা বুলবুল কাকলী বলেন, ভাইকে আর ফিরে পাব না। তাই ভাইয়ের হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন তাদের বিচার আমরা দেখতে চাই।

গাইবান্ধা কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের আহবায়ক এস আব্দুল সালাম বলেন, এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডের  বিষয়ে পুলিশ যেভাবে রহস্য উদঘাটন করেছে এবং আসামী গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। আমি মনে করি, এটা পুলিশের অন্যতম সক্ষমতা। এবং বাংলাদেশের পুলিশ যে ইচ্ছা করলে অনেক কিছু করতে পারে সেটি এই হত্যাকাণ্ডের আসামিদের গ্রেফতার করে প্রমাণ করেছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নে শাহবাজ (মাস্টারপাড়া) এলাকায় নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন। এ ঘটনায় লিটনের বোন তাহমিদা বুলবুল বাদী হয়ে অজ্ঞাত চার-পাঁচজনকে আসামি করে ১ জানুয়ারি সুন্দরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলায় এ পর্যন্ত আবদুল কাদের খানসহ ১১০ জনকে আটক করে পুলিশ। এর মধ্যে ২৪ জনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আবদুল কাদের খান গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর বাড়ি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম ছাপরহাটি (খানপাড়া) গ্রামে। তিনি পরিবারসহ বগুড়া জেলা শহরের রহমাননগরের চারতলা বাসভবনে থাকেন। ওই বাসভবনে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. কর্নেল (অব.) আবদুল কাদের খানের গরীব শাহ ক্লিনিক রয়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে কাদের খান জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পাননি। সেখান থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন।

 

Advertisement

কমেন্টস