পীর পরিবর্তন করায় মুরিদকে হত্যা

প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৭

ব্রাহ্মণবাড়ীয়া প্রতিনিধি-

একসঙ্গে থাকতেন আব্দুল আলীম ও ইদ্রিস মিয়া। দু’জন পৃথক দুই পীরের মুরিদ। কিছুদিন পর আব্দুল আলীম ইদ্রিস মিয়াকে তার পীর দেওয়ানবাগীর মুরিদ করান। এ নিয়ে অস্বস্তি থেকে ইদ্রিস মিয়া আব্দুল আলীমকে হত্যা করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ঘাতক ইদ্রিস মিয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

রবিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনি জবানবন্দি দেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার (কোর্ট) ওসি মো. মাহবুবর রহমান রবিবার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, পীর বদলকে কেন্দ্র করে মতবিরোধ হওয়ায় ইদ্রিস মিয়া আব্দুল হালিমকে হত্যা করেন। কোদাল ও ছেনি নিয়ে গলা কাটার পর কেউ যেন আব্দুল হালিমের লাশ চিনতে না পারে সেজন্য আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় বলে জবানবন্দিতে ইদ্রিস উল্লেখ করেছে।

জবানবন্দির সূত্র ধরে পুলিশ জানায়, ঢাকায় থাকার সুবাদে শ্রমিক আব্দুল হালিমের সঙ্গে ইদ্রিস মিয়ার পরিচয় হয়। আব্দুল হালিম ছিলেন দেওয়ানবাগী পীরের ভক্ত। অন্যদিকে ইদ্রিস মিয়া আব্দুল মান্নান নামে এক পীরের ভক্ত। বছর খানেক আগে আব্দুল আলীমের কথামতো দেওয়ানবাগী পীরের ভক্ত হন ইদ্রিস মিয়া। কিন্তু এর পর থেকে পীর বদলানোর ঘটনায় ইদ্রিস মিয়ার মধ্যে অস্বস্তি ও মানসিক অশান্তি কাজ করতে থাকে। এ নিয়ে ইদ্রিস মিয়া ও আব্দুল হালিমের মধ্যে প্রায়ই মতবিরোধ হত।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় আখাউড়া এসে তিতন শাহ মাজার এলাকায় একশ’ টাকায় একটি ঘর ভাড়া করেন। ওই দিন রাতের কোনো এক সময়ে ইদ্রিস মিয়া প্রথমে আব্দুল হালিমের মাথায় আঘাত করে এবং পরে কোদাল ও ছেনি দিয়ে তার গলা কাটেন। কেউ যেন পরিচয় সনাক্ত না করতে পারেন সে কারণে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর এলাকার টানপাড়ার একটি ঘর থেকে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার দুপুরে শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার কুড়িকাহানিয়া গ্রামের এনতাজ মিয়ার ছেলে আব্দুল হালিমের লাশ উদ্ধার করা হয়। মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে পাওয়া খবরে পরিবারের লোকজন এসে আব্দুল হালিমের পরিচয় নিশ্চিত করে।

এ ঘটনায় পুলিশ নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টার মো. ইদ্রিস মিয়াকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে। আব্দুল হালিমের গলা অর্ধেক কাটা, মাথার পিছন দিকে আঘাত ও আগুনে শরীর পোড়া ছিল।

কমেন্টস