শহীদ মিনারের দেয়াল যখন প্রশ্রাবখানা

প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৭

শহীদ মিনারের দেয়াল (ছবিঃ কাজী ইমরান)

কাজী ইমরান-

জাতীয় দিবসগুলোর সময় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মূল বেদি ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকলেও বাকি দিনগুলোতে শহীদ মিনারের চারপাশের অবস্থা থাকে বেহাল। 

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

শহীদ মিনার হলো ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিসৌধ। আর এই স্মৃতিসৌধের চারিদিকে প্রায় সবসময়ই অপরিষ্কার দেখা যায়। শহীদ মিনারের পার্শ্ববর্তী দেয়ালগুলো যেন নিরলসভাবে বিনামূল্যে শৌচাগারের কাজ করে যাচ্ছে। সম্মুখে ফুচকা-চটপটির বড় দোকান। এসব তো দিনে চোখে পড়ার মতো ব্যাপার।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আশপাশে চলে আপত্তিকর কার্যকলাপ। পাশাপাশি মাদকসেবী ও ভাসমান মানুষ ‘রাতের আশ্রয়’ হিসেবেও ব্যবহার করেন গুরুত্বপূর্ণ এ স্থাপনাটিকে।

অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে অনেকেই ভিন্ন ভিন্ন আপত্তিকর কার্যকলাপে মেতে ওঠেন। রাত বাড়লে প্রেমিক যুগলরা মিশে যান অন্ধকারে। উঠতি বয়সীরা  মূল বেদিতে বসে গাঁজায় সুখটান দিচ্ছেন। আর গার্ডরা হয়তবা শুধু দর্শক হিসেবেই কর্মজীবন পার করে যাচ্ছেন।

ফুচকা-চটপটির দোকান (ছবিঃ কাজী ইমরান)

শহীদ মিনারের পবিত্রতা ও ভাবগাম্ভীর্য রক্ষার্থে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের করা একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ সালের ২৫ আগস্ট আট দফা নির্দেশনা জারি করে আদালত। নির্দেশনায় শহীদ মিনারের মূল বেদিতে সভা-সমাবেশ, পদচারণ, অনশন কর্মসূচি, ভবঘুরেদের আনাগোনা ও সকল ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করা এবং সার্বক্ষণিক পাহারার ব্যবস্থা করতে পূর্ত মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেয়া হয়।

প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ হয়েছিল অতিদ্রুত এবং নিতান্ত অপরিকল্পিতভাবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ শুরু করে রাত্রির মধ্যে তা সম্পন্ন করে। শহীদ মিনারের খবর কাগজে পাঠানো হয় ঐ দিনই। শহীদ বীরের স্মৃতিতে – এই শিরোনামে দৈনিক আজাদ পত্রিকায় ছাপা হয় শহীদ মিনারের খবর।

 

কমেন্টস