দিনাজপুরে পুলিশের মামলায় সরকারি কৌসুলি কারাগারে, ৪ ঘণ্টার মধ্যে জামিন

প্রকাশঃ জানুয়ারি ১১, ২০১৭

জাকির হোসেন, দিনাজপুর প্রতিনিধি-

দিনাজপুরের খানসামায় কলেজ জাতীয়করণের দাবিতে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা ২টি মামলায় সকালে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশের পর এজাহারভুক্ত আসামি দিনাজপুরের সরকারি কৌসুলি (জিপি) এ্যাডঃ মীর ইউসুফ আলী বিকেলে জামিন পেয়েছেন।

দিনাজপুরের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালত-২ থেকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশের ৪ ঘণ্টার মধ্যে জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে তিনি জামিন পেয়েছেন।

বুধবার সকাল ১১টায় পুলিশের দায়ের করা মামলায় চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালত-২ এ আত্মসমর্পন করে জামিনের আবেদন করলে তাকে জেল হাজতে প্রেরণের আদেশ দেন আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট লুৎফর রহমান।

জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের জেল হাজতে প্রেরণের আদেশের বিরুদ্ধে জিপি মীর ইউসুফ আলী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ক্রিমিনাল মিস কেসে জামিন প্রার্থনা করলে বিজ্ঞ বিচারক হোসেন শহীদ আহমদ বিকেল ৩টায় আবেদনের শুনানি শেষে জামিন মঞ্জুর করেন। জিপিকে পুলিশের দায়েরকৃত ২টি মামলায় জামিন দেয়া হয়।

জানা যায়, খানসামা ডিগ্রি কলেজকে জাতীয়করণের দাবিতে গত ৮ জানুয়ারী রবিবার অর্ধদিবস হরতাল কর্মসূচী পালন করে কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ এলাকাবাসী। দুপুরে আন্দোলনকারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করলে পুলিশ বাঁধা দেয়। বাঁধা উপেক্ষা করে মিছিল করলে উভয়ের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিআর সেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এই সংঘর্ষে ৫ পুলিশসহ প্রায় ২৫ জন আহত হয়।

উক্ত ঘটনায় খানসামা থানার এসআই দুলাল উদ্দিন বাদি হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ৪১ জনের নাম দিয়ে অজ্ঞাত আরও ৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। খানসামা উপজেলার সহজপুর গ্রামের বাসিন্দা জেলা জজশীপের সরকারি কৌসুলি (জিপি) এ্যাড. মীর ইউসুফ আলী এই মামলার ৯ নং আসামি এবং একই ঘটনায় এসআই তাহেদুল ইসলাম জ্বালাও পোড়াও আইনে ৩৭ জনের নাম দিয়ে অজ্ঞাত আরও ৬শ ব্যক্তিকে আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় জিপি মীর ইউসুফ আলীকে ৩নং আসামি করা হয়।

 

Advertisement

কমেন্টস