১১বছর পর গ্রেফতার হল ধর্ষণ মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি

প্রকাশঃ জানুয়ারি ১১, ২০১৭

শামীম খান, মাগুরা প্রতিনিধি-

২০০৫ সালের জানুয়ারি মাসে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মেয়ে শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় এক প্রতিবেশির বাড়িতে গেলে আয়ুব হোসেন তাকে ধারালো অস্ত্রের মুখে ধর্ষণ করে, পরে নারী ও শিশু নির্যাতন বিশেষ ট্রাইবুনালে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় যাবজ্জীবন সাজা ভোগের দণ্ডাদেশ দেয়া হয়, ঘটনার পর থেকে আয়ুব হোসেন পলাতক ছিল।

আয়ুব হোসেন (৫০) কে গতরাতে (মঙ্গলবার) শ্রীপুর উপজেলার জোকা গ্রাম থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২০০৬ সালে ২৮ নভেম্বর মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন বিশেষ ট্রাইবুনালের বিজ্ঞবিচারক কাদের নেওয়াজ এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ধর্ষণের অভিযুক্ত প্রমাণিত হওয়ায় আয়ুব হোসেনকে যাবজ্জীবন সাজা ভোগের এই দণ্ডাদেশ দেন।

মামলার বাদী নির্যাতিতার মা (সুফিয়া বেগম) অভিযোগ করেন, ২০০৫ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথমদিকে তার প্রতিবন্ধী মেয়ে শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় এক প্রতিবেশির বাড়িতে গরুর খাবার আনতে গেলে আয়ুব হোসেন তাকে ধারালো অস্ত্রের মুখে ধর্ষণ করে।

পরবর্তীতে সে অন্তঃস্বত্তা হয়ে, ৫মাস পর ঘটনা জানাজানি হয়। এ সময় মেয়ের কাছ থেকে ঘটনা জেনে একটি বেসরকারি সংস্থার আইনী সহায়তায় আদালতে মামলা দেন।

এই মামলায় বিজ্ঞবিচারক আয়ুব হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড, ধর্ষণের ফলে জন্ম নেয়া কন্যা শিশুর পিতৃ স্বীকৃতিসহ ভরণ পোষণ নির্বাহের আদেশ দেন। এ রায়ের দীর্ঘ ১১বছর পর পলাতক আয়ুব হোসেনকে গতরাতে পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

আয়ুব হোসেন আটক হওয়ায় নির্যাতিতার মা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে শিশুর ভরণ-পোষনের জন্যে আয়ুব হোসেনের প্রতি আদালতের যে আদেশ আছে তা এখনো পর্যন্ত কার্যকর হয়নি বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

প্রসঙ্গত, রায় ঘোষণার সময় বিজ্ঞ বিচারক প্রয়োজনে আয়ুব হোসেনের সম্পদ বিক্রি করে ধর্ষিতার গর্ভে জন্ম নেয়া শিশুটির ভরণ পোষণের ব্যায় নির্বাহের জন্য ২০০৬ সালের ৩০ নভেম্বর জেলা প্রশাসক বরাবর (স্মারক নম্বর-২৪৯৩) আদেশ দেন। আদেশটি এখনো কার্যকর হয়নি। শিশুটি এক নি:সন্তান দম্পতির ঘরে বড় হচ্ছে।

Advertisement

কমেন্টস