চাঁপাইনবাবগঞ্জে আওয়ামী লীগ নিয়ন্ত্রণ করছে জামায়াত-বিএনপি!

প্রকাশঃ ডিসেম্বর ৩১, ২০১৬

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে আওয়ামী লীগ চালাচ্ছে জামায়াত-বিএনপি থেকে আসা নেতাকর্মীরা। এখানে জামায়াত-বিএনপি থেকে আসা নেতাকর্মীরাই নিয়ন্ত্রণ করছে হাট-ঘাট, বালুঘাট, টিআর-টেন্ডারসহ লাভজনক সব কাজ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আওয়ামী লীগে নেই আওয়ামী লীগ। এলাকার মানুষ বিদ্রুপ করে বলেন, ‘আওয়ামী জামায়াত লীগ’। গত দেড় বছরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের এমপি আবদুল ওদুদের হাত ধরে হত্যা, নাশকতা, বিস্ফোরক ও অস্ত্র মামলার আসামি জামায়াত শিবিরের নেতারা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে। তারা ওদুদের সঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশ নিচ্ছেন। গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে জামায়াত নেতাদের সঙ্গে নিয়ে আবদুল ওদুদ শহীদ মিনারে ফুলও দিয়েছেন।

এমপি ওদুদের সঙ্গেও তারাই থাকছেন।এমপি ওদুদ আওয়ামী লীগের টিকিটে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসন থেকে পরপর দু’বার নির্বাচিত হলেও শুরু থেকেই প্রতিনিধিত্ব করছেন বিএনপি-জামায়াতের। দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এমপি ওদুদের এই দলবিমুখ অপতৎপরতার বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ দিয়ে কেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করলেও কোনো লাভ হয়নি। বরং তারাই নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরাই এসব তথ্য দিয়েছেন।

প্রকৃত আওয়ামী লীগ করেন এমন কাউকে এমপি ওদুদের সঙ্গে খুঁজে পাওয়া যাবে না।

এসব চিহ্নিত ব্যক্তিকে আওয়ামী লীগে যোগদানের ব্যাপারে এমপি আবদুল ওদুদের ভাষ্য, বিভিন্ন দল থেকে লোকজন আওয়ামী লীগে আসায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগ শক্তিশালী হচ্ছে। আওয়ামী লীগের ভোট বেড়েছে। তবে দলের ভেতরের কেউ কেউ এটা পছন্দ করেন না। যারা পছন্দ করেন না তারা কোনো কাজেও আসেন না। এখানে ভোটের রাজনীতি গুরুত্বপূর্ণ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আওয়ামী লীগে যোগদানকারী জামায়াত নেতা মাওলানা সোহরাব আলীর বিরুদ্ধে র‌্যাব পুলিশের ওপর হামলাসহ নাশকতার মোট ৭টি মামলা রয়েছে। সাবেক ছাত্র শিবির নেতা মিজানুর রহমান মিজান মুক্তিযোদ্ধা জালাল হত্যা মামলাসহ একাধিক নাশকতা মামলার আসামি। যোগদানকারী অন্যদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের একাধিক মামলা রয়েছে।

এদিকে জামায়াত-বিএনপির এসব নেতার দলে যোগদান প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মঈনুদ্দীন ম-লের বিরুদ্ধে ওদুদকে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে।

তবে তিনি বলেন, জামায়াত-বিএনপি নেতাদের যোগদানের বিষয়গুলো সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ দেখে। যারা দলে আসছে তারা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছে। আমি তো জেলার রাজনীতি করি।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন এমপি ওদুদের কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগ। আর তার বিতর্কিত ভূমিকার কারণে এই জেলায় সরকারের ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আওয়ামী লীগে এসেছেন মুক্তিযোদ্ধা জালাল হত্যা মামলার আসামি দুর্র্ধষ শিবির ক্যাডার মিজানুর রহমানসহ জামায়াতের শীর্ষ কয়েকজন নেতা। এসব নিয়ে দেশব্যাপী তোলপাড় হলেও এমপি ওদুদের কোনো ভাবান্তর নেই।

দলীয় নেতাকর্মীরা আরও জানান, জেলায় জামায়াতের এসব শীর্ষ নেতাদের আওয়ামী লীগে যোগদানের বিরোধিতাও ছিল নেতাকর্মীদের পক্ষে। কিন্তু ওদুদ কিছুই আমলে নেননি।

সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি তসিকুল ইসলাম বলেন, কেউ নিজের ইচ্ছায় দলত্যাগ করছেন, আবার কেউ মামলা-হামলার ভয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছেন।

জামায়াত নেতাদের আওয়ামী লীগে যোগদানের ওই সময় পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান তার প্রতিক্রিয়ায় ওই সময় বলেছিলেন, স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত শিবিরের চিহ্নিতদের দলে নেয়ার ফলাফল ভালো হবে না। এটা আওয়ামী লীগের আদর্শবিরোধী কাজ।

মিজানুর রহমান আরও জানান, তার পক্ষের নয় বলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর কমিটির অনুমোদন আটকে রেখেছেন এমপি ওদুদ। ২০১৪ সালের ২০ ডিসেম্বর সম্মেলনের মাধ্যমে পৌর কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের এমপি আবদুল ওদুদ বলেন ‘জামায়াত থেকে আওয়ামী লীগে এসে তারা এখন জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু বলছে- এটাই আমাদের কৃতিত্ব। দলে এসে তারা যদি সংশোধন হয় তাতে ক্ষতি নেই।’

পৌর কমিটি আটকে রাখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভিযোগ থাকায় কমিটির অনুমোদন হয়নি।

কমেন্টস