কোথায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সেই প্রজন্ম?

প্রকাশঃ মার্চ ২৪, ২০১৮

আরিফ চৌধুরী শুভ।।

আমার ভাবনার কল্পনাতীত। এত উন্নয়নের কারিগর আমাদের  বঙ্গবন্ধু আজ এ কোথায়? এ ঘটনার জন্যে শুধু দু:খ প্রকাশ করলেই হবে না, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি আয়োজক কমিটির। অতি আবেগী আওয়ামীলীগ যত তাড়াতাড়ি বঙ্গবন্ধুকে পুঁজি করে পতিপত্তি হয়, স্বার্থ ফুরালে তার চেয়ে দ্রুতই ছুড়ে ফেলেন বঙ্গবন্ধুকে। হয়তো প্রধানমন্ত্রীকেও এভাবেই ছুড়ে ফেলবেন একদিন।

শুধু জনসভা করলেই কি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করা জাতি তৈরি হবে? কোথায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সেই প্রজন্ম? কে বানায়? এ সমাজে নৌকার এত জোয়ারের মধ্যেও একজন স্বাধীনতার স্থপতি ও বাঙ্গালী জাতির জনকের প্রতিকৃতি কিভাবে ময়লার স্তুপে স্থান পায়, খুব জানতে ইচ্ছে করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে। প্রধানমন্ত্রী কি এই ছবি এতক্ষণে দেখেছেন, নাকি উন্নয়ন উদযাপনের মাঝে বঙ্গবন্ধু এভাবেই চলে যান, যাবেন, ময়লার স্তুপে, আমাদের নোংরা মস্তিষ্কের পেছনে।

আমি রাজনীতির মানুষ নই, রাজনীতি বুঝি না। কিন্তু একটা জাতির কারিগরকে এভাবে অবমাননা কখনোই সহ্য করতে পারি না। এ দৃশ্য দেখেও যারা চুপ থাকাবে তারা কতটুকু আদর্শিক রাজনীতির হাতিয়ার তা নিয়েও সন্দেহ হয়। আজ মনে হচ্ছে সবাই শুধু প্রধানমন্ত্রীর অনুগ্রহ পাওয়ার জন্যে লেপাজধারী আওয়ামীর আদর্শ ধারণ করেন, কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে আদর্শিক ভাবে ধারণ করা প্রজন্মের সত্যিকারের যে বড়ই অভাব সেটি এই ছবির প্রমাণ করে।

যদি বঙ্গবন্ধুকে আদর্শিক ভাবে ধারণ করতো নৌকা অনুসারী ক্ষিপ্ত ও লিপ্ত তরুণরা, তাহলে ৭ মার্চে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে বাংলামোটরে তরুণীর শ্লীলতা হরণ করতো না জনসভামুখি ঐ তরুণরা। আমরা দেখতাম না খাদিজাকে আক্রমণকারী সিলেটের বদরুলদের, তুফানদের, বিশ্বজিৎ এর খুনিদের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের জামাকাপড় খুলে দিগম্বরকারী তরুণদের। এমন হাজারো উদাহরণের শেষ দৃশ্য চট্টগ্রামের পটিয়া জনসভা শেষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ময়লার স্তুপে ফেলে চলে যাওয়া। সভার আগে বঙ্গবন্ধু থাকেন জনসভামুখি তরুণদের হৃদয়ে, আর সভা শেষে বঙ্গবন্ধু চলে যান ময়লার স্তুপে। বঙ্গবন্ধুকে অনুসরণ করলে আজকের যুবকরা নাজমুলের মতো রাতারাতি হয়ে যান কোটি কোটি টাকার ব্যাংক শেয়ার হোল্ডার!

আমরাও ছেলেমেয়েরা রাজপথে থেকে ভ্যাট আন্দোলন করেছি মাসের পর মাস। কারো শ্লীলতাহানীতো দূরের কথা, কেউ লাখ লাখ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে একটি বিরোধমূলক প্রশ্ন পর্যন্ত তুলেনি।তোলার কোন সুযোগই পায়নি। আমাদের আদর্শ ছিল দেশের। আমাদের আদর্শ ছিল স্বার্থহীন উচ্চ শিক্ষিত একটি সমাজের। আমাদের স্বপ্ন ছিল বৈষম্যহীন উচ্চ শিক্ষিত স্বনির্ভর সমাজের। আমরা রক্তাক্ত হয়েছি। আমরাও ক্ষিপ্ত হয়েছি কিন্তু আমরা সফল হয়েছি। আমাদের সেদিনের দাবি পূরণ হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় সেদিন আমরা একটি বড় ধাক্কা দিতে পেরেছি।

বাংলাদেশের ইতিহাসে আমরা সেদিন প্রমাণ করে দেখিয়েছি আধুনিক প্রতিহিংসার রাজনীতির মোড়কহীন তরুণরা কতটা স্বচ্চ ও কতটা দেশপ্রেমিক হতে পারে। তারা চাইলে কি না করতে পারে। কিন্তু রাজনীতির মোড়কে যে তরুণ সমাজ আজ গণজোয়ার দেখাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর সভা সমাবেশে, বাইক শোডাউন করে আমাদের চারপাশে, তাদের অংশই আজ স্বাধীনতার স্থপতির প্রতিকৃতি ময়লার স্তুপে ফেলে চলে গেছেন। কারণ তাদের কান্ডারীর প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন হয় ক্ষমতার। প্রয়োজন হয় অর্থের। রাতারাতি নাজমূলদের মতো পুঁজিপতির মালিক হওয়া। তাই তারা তেলবাজী করলেই মিলে সবরকম সুবিধা। হায়রে ভাড়াটে রাজনীতি! হায়রে ভাঁড়াটে আদর্শ।

আমরা পরি না তাদের মতো। আমাদের কাণ্ডারী প্রয়োজন। আমাদের আজও একজন বঙ্গবন্ধুকে প্রয়োজন। তাই আমরা বলি, আমরা বঙ্গবন্ধুর পথে চলার চেষ্টা করি ও  চলি। তাই আমরা লিখি।

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির এই দৃশ্য আমাকে না যতটা কুকড়িয়েছে, তারচেয়ে বেশি কুকড়িয়েছে জাতির বিবেককে। সবার শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ হোক। আদর্শিক রাজনীতির চর্চা বৃদ্ধি পাক।

সাংবাদিক ও লেখক

উদ্যোক্তা ও সংগঠন, নো ভ্যাট অন এডুকেশন আন্দোলন।

কমেন্টস