বছরের একদিন পুরুষ নারীকে ভালবাসে!

প্রকাশঃ মার্চ ৮, ২০১৮

ছবি: আবু সুফিয়ান জুয়েল

শাহ্‌রিয়ার নিশান।।

পুরুষ নারীকে ভালবাসে বছরের একদিন! তাও মানুষ হিসেবে না। ভালবাসে মা হিসাবে, বোন হিসাবে, কন্যা হিসাবে, স্ত্রী হিসাবে। আবার বিশেষ পরিস্থিতিতে যৌন চাহিদা মিটাতেও নারীকে ভালবাসে পুরুষ।

সর্বোপরি ‘নারী দিবস’ উপর বিশেষ সীল-মোহর মেরে রঙ মাখিয়ে সমাজের কাছে উপস্থাপন করা হয়। নিয়মনীতির সর্বোচ্চ প্রভাব দেখিয়ে বলা হয় আজ নারী দিবস।

আমাদের কারও কারও মানতে কষ্ট হলেও এটি সত্য যে, এখন পর্যন্ত পরিবারেই নারী বেশি নির্যাতিত হয়। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এখনো নারীকে কাজের বিনিময়ে তিন বেলা খাবার দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়।

আমাদের এটা ভুলে গেলে হবে না যে, নারীর অধিকার প্রশ্ন একটি রাজনৈতিক প্রশ্ন। সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থায় নারীকে পণ্যের চেয়ে বেশি কিছু গণ্য করা হয় না। অনেক সময় পশ্চিমা নারীবাদ বা সংস্কারবাদ বলে তারা সৃষ্টি করে বিভ্রান্তি। যা সামগ্রিকভাবে নারীকে পিছিয়ে দিচ্ছে অন্ধকার সুড়ঙ্গের দিকে।

একজন পুরুষের কাছে ‘যৌনতা’ অপেক্ষা ‘ভালোবাসা’ নস্যি। যৌনতা দোষনীয় বা নিন্দনীয় নয়। এই চাহিদা সবারই রয়েছে। কেননা, অন্য আট দশটি চাহিদার মত যৌনতাও একটি মৌলিক চাহিদা। কিন্তু নারীর কাছে আগে ভালোবাসা, পরে যৌনতা। নারী আর পুরুষের মধ্যে দ্বন্দ্বে শুরু বলতে গেলে এখান থেকেই।

বাংলাদেশের মতো সেমি-ফিউডাল সমাজে ধর্মের নামে নারীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বঙ্গ সমাজের তুখোড় প্রতিবাদি অনেক নারীকেও এক সময় মুখ বুজে অনেক কিছুই মেনে নিতে হয়। মানিয়ে নিতে হয় নীতি বিরুদ্ধ অনেক নিয়ম। নিজেকে উৎসর্গ করে সংসার, বাবা-মা, ভাই-বোন, ছেলে-সন্তানের জন্য।

তাই দিন শেষে নারী শুধু মায়ের জাত। স্পষ্টতই তার কাজ মা হওয়া, এর বাইরে তার আর কোন অস্তিত্ব নেই। এর বাইরে আমাদের এই সমাজ নারীকে অন্য কোনো দৃষ্টিতে কি কখনো দেখেছে? সমাজ কি বদলেছে তার দৃষ্টিভঙ্গি? প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থায় যেখানে গণ মানুষেরই মৌলিক অধিকার পরিপূর্ণরূপে অর্জিত নয়, সেখানে নারী মুক্তি একরকম অবাস্তব কল্পনা ছাড়া আর কী!

নারীর সংগ্রাম কেবল এককভাবে নারীর নয়, বরং একটি মানবিক সমাজ নির্মাণের সংগ্রামও। নারী মানুষ এই উপলব্ধির জন্য যতটা না সভ্য ও আধুনিক হওয়া প্রয়োজন তার চেয়ে অনেক বেশি প্রয়োজন মানবিক হওয়া। আমাদের সমাজের পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা, যৌন হয়রানি, নির্যাতন, ধর্ষণের মতো বিশ্রী এবং ভয়ঙ্কর এই রোগগুলো নিয়ে শুধু আবেগ দিয়ে চিন্তা না করে, তাতে সক্রিয় প্রতিবাদ এবং বুদ্ধিবৃত্তির সমন্বয় হয়ত একদিন এগুলো বন্ধ করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশের নারী আন্দোলন কর্মীদের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। বাংলাদেশে নিকট অতীতে নারীর অগ্রগতির যে উদাহরণ তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার নারী৷ এটি বিশ্বের বিরল ঘটনা এবং নারী অগ্রযাত্রার অন্যতম প্রেরণা৷ তাই এ আন্দোলন নারী-পুরুষের যৌথ প্রয়াসেই সফল হবে।

শক্তিশালী মানবিক পৃথিবী নির্মাণেরবিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের নারীরাও সমানতালে কাজ করছে ৷ নারীর এই অগ্রযাত্রা অব্যহত থাকুক৷ জয় হোক সুন্দর হোক পৃথিবীর ৷

তাই বছরের একদিন নারী নারী বলে পাগল হবেন কেন? ৩৬৫ দিনই নারীকে সম্মান দিতে হবে৷

কমেন্টস