রেলের ২০ সেকেন্ড দেরির কারণে জাপান ক্ষমা চাইলেও আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টার জন্যে নেই অনুশোচনা

প্রকাশঃ ডিসেম্বর ১, ২০১৭

বুলবুল আহমেদ।। 

সম্প্রতি জাপানের মিনামি নগরেয়ামা স্টেশন থেকে সুকুবা এক্সপ্রেস নামের বুলেট ট্রেনটি ছেড়ে যায় ৯টা বেজে ৪৪মিনিট ২০ সেকেন্ডে। কিন্তু ট্রেনটি ছাড়ে ৯টা বেজে ৪৪ মিনিট ৪০ সেকেন্ডে। আর এই ২০ সেকেন্ড দেরি করে ছাড়ার কারণে, ক্ষমা চেয়েছে দেশটির রেল কর্তৃপক্ষ। সত্যি অবাক করার মত বিষয়, অপর পক্ষে আমাদের দেশে যে ট্রেন গুলো চলাচলা করছে, তার বেশির ভাগই দেরি করে ছাড়ছে।

উন্নত দেশ গুলোতে ভোগান্তি এড়াতে ট্রেনের যাত্রাকে বেছে নেয় অধিকাংশ মানুষ। অপর পক্ষে আমাদের দেশের মানুষ, শুধু মাত্র ভোগান্তির কারণে ট্রেনে যেতে চাই না। কোন জবাব দিহিতা কি নেই? ট্রেনের যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে ট্রেনের জন্য। কিন্তু কোনদিন কি আমাদের রেল কর্তৃপক্ষ দুঃখ জানিয়েছেন? কিন্তু এই মানুষগুলোর কল্যাণের কারণেই ট্রেন লাইনটি চালু হয়েছিল।

কুষ্টিয়ার জগতী থেকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পর্যন্ত ৫৩.১১ কিলোমিটার ব্রডগেজ লাইন চালু হয় ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর। প্রথমদিকে  শুধু মাত্র মালামাল বহন করলেও পরবর্তীতে যাত্রী বহন শুরু হয়। কিন্তু এত বছর ধরে চললেও আজ পর্যন্ত সময় মত ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করতে পারেনি রেল প্রশাসন। আর সেই কারণেই আজ পর্যন্ত লাভের মুখ দেখতে পারেনি বাংলাদেশ রেল মন্ত্রণালয়।

তারপর ট্রেনের অবকাঠামোগত সমস্যা তো আছেই। লাইট ফ্যান থাকলেও সেগুলো অধিকাংশ অচল, দরজা ভাঙা, বেশির ভাগের  জানালা নেই বলেই চলে, বেহাল অবস্থা বাথরুমের। এত কিছুর পরেও ট্রেন নিয়ে যেন কোন সম্ভাবনার কথা নেই। সাথে রয়েছে রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতি। টিকেট থাকলেও দেওয়া হয় না টিকেট। ট্রেনের টি টি যারা কিনা টিকেট যাচায় করার কাজে নিয়জিত থাকে, অপ্রিয় হলেও সত্য। শুধু মাত্র তাদের দুর্নীতির কারণে ২৫ শতাংশ যাত্রীর টাকা পাচ্ছেন না রেল কর্তৃপক্ষ, টাকা টা ঢুকছে টিকেট পরিদর্শকের পকেটে।

বেশি টাকা দিলে সিট পাওয়া যায়। আর টিকিট কাউন্টারের টিকিট বিক্রেতারা সব সময় কিছু সিট খালি রেখে দেয়। যেটি টিটি আর পরিদর্শকরা পরে যাত্রীদের কাছে বিক্রি করে টাকা পকেটস্থ করে। টিকিট কাউন্টার, টিটি চেকার আর গেট টিকিট চেক করার দায়িত্বে যারা থাকেন এই আদায়কৃত অর্থ ভাগাভাগি করে নেন। ১৪ অক্টোবর ২০১৪ অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের মোট রেল পথের পরিমাণ ২৮৭৭.১০ কি:মি:।

যেহেতু দেশের এক প্রান্তকে অন্য প্রান্তের সাথে সংযোজন করার জন্য রেলপথ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থল পরিবহন ব্যবস্থা, তাই যাত্রী সংখ্যা অনেক বেশি। কিন্তু রেলের দুর্নীতির কারণে প্রতি বছর লোকসানের মুখে পরতে হয় রেল মন্ত্রনালয়কে। উন্নত বিশ্বের দেশ গুলো যেখানে ট্রেনের আধুনিকায়নে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করছে। সেখানে আমাদের দেশের রেল মন্ত্রণালয়ের জন্য বাজেট থাকে খুব সীমিত। এই সীমিত অর্থে কি সম্ভব রেলকে আধুনিকায়ন করা? তবে আশা একটাই যত দ্রুত সম্ভব সমস্যাগুলো কাটিয়ে বাংলাদেশ রেল।

সাংবাদিক: লেখক

কমেন্টস