বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া জাতীয় চার নেতা বিশ্বাসঘাতকের খাতায় নাম লেখাতে চাননি

প্রকাশঃ নভেম্বর ৩, ২০১৭

মোঃ আরিফুল ইসলাম, ঢাবি প্রতিনিধি-

আজ ৩রা নভেম্বর জেল হত্যা দিবস। ১৯৭৫ সালের আজকের এই দিনে জাতীয় চার নেতা সাবেক উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সাবেক প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আ হ ম কামরুজ্জামানের হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি স্মরণার্থে এই দিবস পালন করা হয়।

১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর বিশ্বাসঘাতক খোন্দকার মোশতাক রাষ্ট্রপতির পদ দখল করেন। বিপথগামী খুনী মেজরচক্র ক্ষমতার কেন্দ্রে অবস্থান করে। খেয়াল-খুশি মতো আদেশ-অধ্যাদেশ জারি করে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার চেষ্টা চালায়। ২৩ আগস্ট মোশতাক সরকার গ্রেফতার করে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন (অব.) এম মনসুর আলী, তাজউদ্দীন আহমদ, এএইচএম কামরুজ্জামান, শেখ আবদুল আজিজ, আবদুস সামাদ আজাদ, এম কোরবান আলী, আবদুল কুদ্দুস মাখন, হাশেম উদ্দিন পাহাড়ীসহ আরও বেশ কয়েকজন নেতাকে। তাঁদের গ্রেফতারের পরদিন ২৪ আগস্ট মেজর জেনারেল কেএম শফিউল্লাহকে অপসারণ করে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান সেনাপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর জারি করা হয় কুখ্যাত ‘ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স’। এই অধ্যাদেশের মূল উদ্দেশ্য ছিল বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনীদের রক্ষা করা। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে যে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত কারো বিরুদ্ধে দেশের কোন আদালতে অভিযোগ পেশ করা যাবে না। এ সময় সেনাবাহিনীতে চরম বিশৃঙ্খলা চলতে থাকে। খোন্দকার মোশতাক এবং জেনারেল জিয়ার প্রশ্রয়ে খুনী ফারুক-ডালিম-রশীদ চক্রের ঔদ্ধ্যত্বপূর্ণ আচরণ সেনাবাহিনীর অনেকেই পছন্দ করেনি। এমনি পরিস্থিতিতে ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ জেনারেল জিয়ার নিজস্ব বেঙ্গল রেজিমেন্টের ৪৬ ব্রিগেডের কিছু তরুণ অফিসার দিয়ে জিয়াকে গৃহবন্দী করে সেনাবাহিনীর পদ থেকে অবসরের কাগজ স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। খালেদ মোশাররফ সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নেন।

এদিকে পাল্টা অভ্যূত্থানের খবর পেয়ে সে রাতেই খুনী মোশতাক ও মেজরচক্র কারাভ্যন্তরে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী যারা বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্ব দিয়েছিল তাদের হত্যার পরিকল্পনা করে। ৩ নভেম্বর শেষরাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সকল নিয়মনীতি ভঙ্গ করে খুনীর দল কারাভ্যন্তরে প্রবেশ করে এবং জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এইচএম কামরুজ্জামানকে একটি কক্ষে জড়ো করে ব্রাশ ফায়ারে নির্মমভাবে হত্যা করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের অধ্যাপক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মোবারক হোসেন চার নেতা সম্পর্কে বলেন, ‘মোশতাক জাতীয় চার নেতাকে তার মন্ত্রীসভায় আসার আহ্বান করেছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া এই চার নেতা নিজেদের বিশ্বাসঘাতকের খাতায় নাম লেখাতে চাননি। ১৯৭৫ সালের আজকের এই দিনে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার একটি সিক্যুয়াল বলা চলে। কারণ এই চার নেতা চাইলে শক্তিশালী একটি রাজনৈতিক দল গঠন করে দেশ গঠন করার ক্ষমতা রাখেন।’

কমেন্টস