শিক্ষকতা, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী

প্রকাশঃ অক্টোবর ১, ২০১৭

রাসেল হোসাইন-

শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত থাকা আর শিক্ষক হওয়া এক নয়! আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার আবশ্যক। ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যকার যে ব্যবধান সৃষ্টি হয়েছে তা বর্তমান প্রেক্ষাপটে কমিয়ে আনাটা অত্যাবশ্যক! সমস্যাটা দু-পক্ষেরই।

বিষয়টা এমন হওয়া উচিত নয় যে শিক্ষক ক্লাশে গেলেন আর নিজের মত করে জ্ঞানগর্ব উগরে দিয়ে আসলেন, এটা নিজেকে অনেক বড় পণ্ডিতমশাই হিসেবে জাহির করার অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়, এতে করে শিক্ষার্থীরা ঐ শিক্ষকের সম্পর্কে একটা নেতিবাচক ধারনা নিয়ে শ্রেণিকক্ষ ত্যাগ করেন।

আমরা যারা শিক্ষার্থী তারা ও কিছু না বুঝলে অনেক সময় চুপটি মেরে বসে থাকি আবার কেউ আছে যে প্রশ্ন করতে আগ্রহী কিন্তু শিক্ষক কিভাবে নিবেন তা চিন্তা করতে করতেই ক্লাশ শেষ করে ফেলি। আবার এমনও হয় কেউ আছে প্রশ্ন করে বলে অন্যান্য সহপাঠী দের রেষানলে পড়েন, যে তুমি বেশি বুঝ, নিজেকে তুলে ধরতে আগ্রহী। কিন্তু বিষয়টা আমার মনে হয় এভাবে চিন্তা করা উচিত যে, আমি বুঝতে পারছি না তাই আমার বুঝে নেওয়া উচিত, কে কিভাবে নিল তা আমার দেখা উচিত নয়। সঙ্গতিপূর্ণ প্রশ্ন করা আমি মনে করি শিক্ষার্থীদের অধিকার, আর উত্তর দেওয়া শিক্ষকদের দায়িত্ব।

শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী উভয়েরই কিছু নৈতিক গুণাবলীর চর্চাক্ষেত্র তৈরি করা আবশ্যক আর তা ভয়-ভীতির নয়, সন্মানের। উভয়ের উচিত উভয়কে সন্মান প্রদর্শন করা, তবেই শিক্ষার গুণগত মান বজায় থাকবে বলে বিশ্বাস করি।

আর একটা বিষয়ও পরিলক্ষিত হয় যে শিক্ষক সবসময় সবকিছু জানবেন এমনটা ভাবা বোকামী, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ও একজন প্রকৃত শিক্ষক অনেক কিছুই শিখতে পারেন যা interactive and tacit learning এর পর্যায়ে পড়ে। আর এমন ও পরিলক্ষিত হয় যে,একজন শিক্ষক একটা বিষয়ে Expert নন, কিন্তু তথাপিও তিনি ওই বিষয়টি শিক্ষর্থীদের পড়াচ্ছেন। এতে করে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।তাই এমনটা পরিত্যাগ করা আবশ্যক।

আবার শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন এককদল আছে যারা ঐ শিক্ষককেই বেশি পছন্দ করেন যিনি খুব ভাল একটা পড়াতে পারেন না কিংবা নিয়মিত ক্লাশ নেন না, আর নিলেও পড়াশুনার ছেয়ে খোশগল্পটাই বেশি করেন, আর পরীক্ষার খাতায় কি লিখলো তা না দেখে দু-হাত উজাড় করে নাম্বার দেন। এটা শিক্ষার্থীকে ও বুঝতে হবে যে এটা তার নিজের জন্য যেমন ক্ষতিকর ঠিক তেমনি ওই শিক্ষককে ও বুঝতে হবে যে শিক্ষার্থীরা গোপনে গোপনে তার দিকে ঠিকই আঙুল তোলে।

পড়াশুনাকে শুধুমাত্র বই-পুস্তকের মধ্যে সীমাবদ্ধ করলে চলবে না, জীবনের প্রতিটি মহুর্তেই আপনাকে শিক্ষা দিবে, বইয়ের জ্ঞানকে বাস্তবে প্রয়োগ করাটাই প্রকৃত শিক্ষার উদ্দেশ্য। এ বিষয়ে একজন শিক্ষকেরর কাজ হবে এসকল বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা আর শিক্ষার্থীর কাজ হবে Out of the box থেকে চিন্তা করা এবং শিট নির্ভর না হওয়া।

শিক্ষা গুরুর মর্যাদা তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে যখন শিক্ষার্থী প্রকৃত শিক্ষাটি শিক্ষকের নিকট থেকে লাভ করবেন। সুশিক্ষার চর্চা হোক সর্বত্র। আমি সবার ছাত্র হতেই আগ্রহী, শিক্ষক নই, তা হতে শিখতে হবে আমৃত্যু।

শুধুমাত্র ক্লাশরুমে শিক্ষাদানকারী ব্যক্তিই আমার শিক্ষক নয়, রাস্তার জ্যামে ফুল বিক্রি করে জীবন সংগ্রামে দিনাতিপাত করা ৫ বছরের বাচ্চা মেয়েটিও আমাকে শিক্ষা দেয় কিভাবে সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয় এই মায়াপুরীতে। আর সেও আমার শিক্ষাগুরু।
Note : (শিক্ষকতা পেশায় আমি একজন সদ্য ভূমিষ্ঠ নবজাতক, ভুল-ত্রুটি মার্জনীয় এবং উপদেশ প্রত্যাশী)।

লেখক: প্রভাষক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়
Email: raseldu1971@gmail.com

Advertisement

কমেন্টস