জীবন বাঁচানো পানি আজ মৃত্যুর পরোয়ানা নিয়ে হাজির

প্রকাশঃ আগস্ট ১৭, ২০১৭

নিয়াজ শুভ।।

সারাদেশ বন্যায় ভেসে যাচ্ছে। বন্যার এমন ভয়াল রূপ আগে কখনো দেখেনি সোনার বাংলা। এবারের বন্যা ইতিহাসের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দিক থেকে এক অপরিহার্য বাস্তবতায় রুপ ধারণ করেছে।

প্রকৃতি যেন ধ্বংসের লীলাখেলায় মেতে উঠেছে। গ্রাসই যেন তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। যে পানির নাম জীবন, তা আজ মৃত্যুর পরোয়ানা নিয়ে হাজির হয়েছে সবার সামনে। গবাদী পশু-পাখিসহ অসংখ্য মানুষ আজ প্রকৃতির কাছে তাদের বশ্যতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে।

ভৌগলিকভাবেই আমাদের বসবাস বন্যাপ্রবণ এলাকায়। প্রকৃতির এই করাল গ্রাস থেকে হয়তোবা চিরদিনের জন্য মুক্ত হতে পারব না। কিন্তু যে জিনিসগুলো এই ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবেলায় সবথেকে বড় ভূমিকা রেখে থাকে তা হল- পারস্পারিক সাহায্য,সহযোগিতা, সহমর্মিতা, ভালবাসা। একটি উদ্যোগ বাঁচাতে পারে হাজারো জীবন।

আমরা সবাই যদি এক হয়ে আমাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই তাহলে হয়ত না খেয়ে মারা যাবে না কোন ছোট্ট শিশু। বিনা চিকিৎসায়, অযত্ন, অবহেলায় নিভে যাবে না কোন জীবন প্রদীপ। আমাদের সামান্য সদিচ্ছাই পারে বানভাসী সেই সকল মানুষের মনে বেঁচে থাকার আশা জাগাতে, স্থবির জন-জীবনে গতির সঞ্চার করতে।

সমাজের সচেতন মানুষ হিসেবে আপনারা অর্থ, ওষুধ, খাবার অথবা যেকোন ধরণের দুর্যোগকালীন সহযোগিতা দিয়ে দুর্যোগগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াবেন বলে দৃঢ় বিশ্বাস। আমরা কি পারি না আমাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে? আমরা কি পারি না এক হয়ে আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা মেটাতে? আমাদের ছোট ছোট উদ্যোগই ঘটাবে বড় পরিবর্তন। সেই পরিবর্তনই কমিয়ে আনবে মৃত্যুহার।

কমেন্টস