‘বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই চুপ হয়ে গিয়েছিল’

প্রকাশঃ আগস্ট ১৫, ২০১৭

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি কেমন ছিলো, সেটার বর্ণনা উঠে এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র, বীর মুক্তিযোদ্ধা, ঢাবির তৎকালীন প্রভাষক এবং বর্তমান ফলিত গণিত বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক ড. মোঃ মোবারক হোসেনের মুখে। বিডিমর্নিং এর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মো. আরিফুল ইসলামকে দেয়া সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো –

মো. আরিফুল ইসলাম: স্যার, আমরা জেনেছি যে আপনি ১৯৭৫ সালে ঢাবির একজন শিক্ষক ছিলেন। সে সম্পর্কে আপনি যদি কিছু বলতেন।
ড. মোঃ মোবারক হোসেন: আমি ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে ভর্তি হই এবং ১৯৭২ সালে আমার পাশ করার কথা ছিলো। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের কারণে আরও ২ বছর বেশি লেগে যায়। আমি ৩ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেছি। দেশ স্বাধীন করার পরে ১৯৭৪ সালের নভেম্বরে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করি। আমি গণিত বিভাগে ১ম হয়েছিলাম বলে বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি শিক্ষকতা হিসেবে যোগদানের জন্য। ১৯৭৫ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারি আমি গণিত বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করি। বর্তমান ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের ডাইনিং এর উপরে এবং মসজিদের পাশের রুমগুলিতে আমরা মোট পাঁচজন ব্যাচেলর শিক্ষক থাকতাম।

মো. আরিফুল ইসলাম: স্যার, বঙ্গবন্ধুকে যেদিন হত্যা করা হয়, অর্থাৎ ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার কথা ছিলো। বঙ্গবন্ধুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আগমণের ব্যাপারে যদি কিছু বলেন।
ড. মোঃ মোবারক হোসেন: ১৫ই আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪০তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিলো। যেটা কিনা স্বাধীনতার পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাষ্ট্রপতি হিসেবে সমাবর্তন উদ্বোধন করার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই ভোররাতে ঘটে যায় নৃশংস হত্যাকাণ্ড, ১৫ আগস্ট ট্র্যাজেডি।

মো. আরিফুল ইসলাম: আমরা জেনেছি যে আপনি ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট অর্থাৎ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছিলেন। সেই দিনগুলিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি কেমন ছিল?
ড. মোঃ মোবারক হোসেন: হুম। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রোজ শুক্রবার ৪০তম সমাবর্তনের অনুষ্ঠান। সে হিসেবে ১৪ আগস্ট রোজ বৃহস্পতিবার ৪০তম সমাবর্তনের মহড়া ছিলো। সেদিন বিকেল ৫টায় শিক্ষকদের একটি সভা ছিলো ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রে। সেখানে তৎকালীন বিজ্ঞান বিভাগের ডিন এবং রসায়ন বিভাগের প্রফেসর উপাচার্য আব্দুল মতিন চৌধুরী স্যারকে বললেন, ‘স্যার, রাষ্ট্রপতি(বঙ্গবন্ধু) আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণা দেয়ার যে পরিকল্পনা করেছেন, তাতে উনি আমাদের কি দিবেন?’ তখন উপাচার্য বলেন, ‘বড় করে চিন্তা করেন। আরও বড় করে চিন্তা করেন। এরচেয়েও বড় করে চিন্তা করেন। আলাদা উচ্চ বেতন স্কেল, মর্যাদাসহ সবকিছুই পাবেন।’ অর্থাৎ শিক্ষকদের বেতন স্কেল হবে আন-প্যারালাল বা সবার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। সেদিন রাতে আমি আর আমার এক বছর সিনিয়র শিক্ষক প্রভাষক মোখলেছুর রহমান খুব আনন্দ এবং ফুর্তি নিয়ে ঘুমাতে গেলাম। হঠাৎ ভোর রাতে গোলাগুলির শব্দ শুনতে পেলাম। গুলির শব্দ শুনতে পেয়ে আমি বিছানা থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই নিচু হয়ে গেছি। মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার সময় আমি প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম বলে, পুরনো অভ্যাসটা আনমনেই ঘটে গেলো। কিন্তু আমরা কিছুই বুঝে উঠতে পারলাম না। কই গোলাগুলি হইলো, সেটাও বুঝতে পারছি না। মোখলেছুর সাহেবের একটি পকেট রেডিও ছিলো। আমরা সকাল সাড়ে ৫টা থেকে পৌনে ৬টার মধ্যে ঢাকা রেডিও অন করলাম। তখন মেজর ডালিম ঘোষণা দিলো যে, শেখ মুজিবকে হত্যা করা হয়েছে। দেশের ক্ষমতা সেনাবাহিনীর হাতে চলে গেছে। কিন্তু আমাদের বিশ্বাস হইলো না। যে মানুষ দেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছে, সেই মানুষকে বাঙালি কিভাবে মারবে? তখন আমরা শহীদুল্লাহ হলের সামনের গেইটে গেলাম। সেখানে দেখলাম অনেক পুলিশ রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। এরপর সকাল ১০ টায় লক্ষ্য করলাম যে, খোন্দকার মোশতাককে চানখারপুর থেকে শাহবাগের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। একটু পর রেডিওতে খোন্দকার মোশতাক ঘোষণা দিলো যে, শেখ মুজিব সরকারের পরিবর্তন হয়েছে এবং আমি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিচ্ছি। উনি কথাটা কিন্তু উচ্ছ্বাসের সাথে বলেননি। কথা শুনে মনে হইলো উনি ভয়ে ভয়ে কথা বলতেছিলেন। আর উনারা কখনো বঙ্গবন্ধু কথাটা উচ্চারণ করেননি।

মো. আরিফুল ইসলাম: স্যার, ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালের কিছু পত্রিকার শিরোনাম আমি দেখেছি। যেমন ইত্তেফাকের শিরোনাম ছিলো, ‘বঙ্গবন্ধু আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করবেন।’ পাশের শিরোনাম ছিলো, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণের সাড়া।’ এবং শেষের পাতায় বঙ্গবন্ধুর হাস্যজ্জ্বল ছবি সম্বলিত একটা বক্সের মধ্যে শিরোনাম ছিলো, ‘বঙ্গবন্ধুকে আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্বাগত জানাবে।’ পরেরদিন পত্রিকায় এইসব হেডলাইন দেখে, সবার মনে কি ধরনের প্রতিক্রিয়া হয়েছিলো?
ড. মোঃ মোবারক হোসেন: হুম। ওই দিন সকালে পাঠক পত্রিকায় এ খবর পেলেও তার আগেই বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। অবশ্য ওই দিন কোনো সংবাদমাধ্যম সে খবর প্রকাশ করতে পারেনি। সবাই তো এসব সংবাদ দেখেই ভেবে বসে থাকবে যে, বঙ্গবন্ধু জীবিত এবং সমাবর্তনের অনুষ্ঠানে তিনি আসছেন। অনেকে হয়ত সেদিন জানতোই না যে বঙ্গবন্ধু আমাদের মাঝে আর নেই।

মো. আরিফুল ইসলাম: স্যার, বঙ্গবন্ধুর এই হত্যাকে কেন্দ্র করে পরেরদিন ১৫ই আগস্ট ঢাবির ছাত্র-ছাত্রী কিংবা শিক্ষকদের মধ্যে কি কোন প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে? মানে দলগতভাবে কিংবা ঢাবির পক্ষ থেকে কোন আনুষ্ঠানিক শোক ঘোষণা কিংবা বিবৃতি কি দেয়া হয়েছিলো? কারণ সেদিন ঢাবির ৪০তম সমাবর্তনে বঙ্গবন্ধুর আসার কথা ছিলো।
ড. মোঃ মোবারক হোসেন: আসলে সবাই হতভম্ব হয়ে গেছিলো এই ঘটনার পরে। অধিক শোকে সবাই কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছিলো। কি করবে, না করবে কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলো না। আর সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য সামরিক আইন ঘোষণা ও সান্ধ্য আইন জারি করা হয়। দুপুরের পর অবশ্য মুসল্লিদের জুমার নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে দেড় ঘণ্টার জন্য সান্ধ্য আইন তুলে নেওয়া হয়। মানে পরিস্থিতি এমন ছিলো যে, কেউ কিছু বলার কিংবা করার সাহস পায়নি। তাই সবাই সব কিছু মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে।

মো. আরিফুল ইসলাম: স্যার, এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের পরে ঢাবির প্রশাসনে কোন পরিবর্তন কি আসছিলো? আর পরেরদিন ১৬ই আগস্ট শনিবারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ কার্যক্রম কি চালু ছিলো?
ড. মোঃ মোবারক হোসেন: বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তৎকালীন উপাচার্য আব্দুল মতিন চৌধুরী স্যারকে বন্দি করা হয়। আর প্রশাসনে তেমন কোন পরিবর্তন হয়নি। আর শনিবার কোন ক্লাস হয়নি। কেউই ক্লাসে যায়নি। এই ঘটনার পর সবাই-ই চুপ হয়ে গেছে। অনেকে তো নিজ নিজ বাড়ি চলে গেছিলো। আমার এক চাচা ছিলো। উনি মোহাম্মদপুরে নির্বাহী প্রকৌশলীর চাকরি করতেন। উনি আমাকে বলেছিলেন, ‘ভাতিজা, ১৫ তারিখ দেখলাম কিছু মানুষ কপালে লাল ফিতা লাগাইয়া রাস্তায় নেমে নিজেদের রাজাকার ঘোষণা দিচ্ছে। পরেরদিন দেখলাম তারাই নাকি মুক্তিযুদ্ধের হর্তাকর্তা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে তারাই বড় বড় জায়গায় অবস্থান করতেছে।’ তখন মনে হইছিলো কেন দেশ স্বাধীন করলাম? তাহলে এইসব দেখে এতো কষ্ট পাওয়া লাগতো না।

মো. আরিফুল ইসলাম: স্যার, ১৬ই আগস্ট রোজ শনিবার কোন পত্রিকাতেই বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিষয়টি ফোকাস করা হয়নি। যেমন ইত্তেফাকের শিরোনাম ছিলো, ‘খোন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে সশস্ত্র বাহিনীর শাসন ক্ষমতা গ্রহণ’ এবং মোশতাক সরকারকে নিয়ে বিশেষ সম্পাদকীয় পাতা বের হয়েছিলো, ‘ঐতিহাসিক নবযাত্রা।’ এদিকে দৈনিক বাংলার শিরোনাম ছিলো, ‘খোন্দকার মোশতাক নয়া রাষ্ট্রপতি।’ আর Bangladesh Observer এর শিরোনাম ছিলো, ‘Mushtaque becomes president.’ এবং নিচে ছোট করে লেখা ছিলো, ‘Mujib killed: situation remains calm.’ আমার কথা হচ্ছে, এতো বড় একটা ঘটনার পরেও এটার কোন সংবাদ কেনো বিস্তারিতভাবে ছাপা হয়নি কিংবা অধিকাংশ পত্রিকা সেই তথ্য গোপন করে গেছে। এমনকি একটা পত্রিকায় শিরোনাম এসেছে, ‘নয়া সরকারের জন্য জুম্মার নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাত।’ অথচ শিরোনাম হওয়া উচিত ছিলো, ‘বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের রূহের মাগফেরাত কামনার জন্য মসজিদে জুম্মার নামাজের পর বিশেষ মোনাজাত।’ একটি দেশের স্বাধীনতার ঘোষক এবং যার হাত ধরে এই বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি, এমন একজন মানুষের হত্যাকে মানুষ কিভাবে এতো সহজে হজম করতে পারলো?
ড. মোঃ মোবারক হোসেন: আসলে মোশতাক সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরই নতুন এক্ট জারি করা হয়। এটার উদ্দেশ্য ছিলো, বঙ্গবন্ধুর চ্যাপ্টার ক্লোজড। এটা নিয়ে কোন নিউজ করা যাবে না কিংবা আলোচনা করা যাবে না। আর তৎকালীন গণবাহিনী বঙ্গবন্ধুর জনপ্রিয়তা সবার কাছে বিরূপভাবে উপস্থাপন করেছে। এর উপর ১৯৭৪ সালের বন্যা তো আছেই। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর উন্মুক্তভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ কর্মসূচি পালন না করলেও, গোপনে গোপনে করেছে। অন্যদিকে ২৩ আগস্ট মোশতাক সরকার গ্রেফতার করে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন (অব.) এম মনসুর আলী, তাজউদ্দীন আহমদ, এএইচএম কামরুজ্জামানসহ আরও বেশ কয়েকজন নেতাকে। পরে ষড়যন্ত্রকারীরা জাতীয় এই চার নেতাকে তাদের সরকারে যোগদানের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর এই জাতীয় চার নেতা সেই প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন। এ কারণে তাদের নির্মমভাবে জীবন দিতে হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার হত্যাকাণ্ড ছিল একই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা। কারণ এই চার নেতা এমন নেতা ছিলেন, যারা একটি সুন্দর দেশ গঠন করার ক্ষমতা রাখেন। শুধু তাই নয়  সেপ্টেম্বর মাসে জারি করা হয় কুখ্যাত ‘ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স’। এই অধ্যাদেশের মূল উদ্দেশ্য ছিল বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনীদের রক্ষা করা। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে যে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত কারো বিরুদ্ধে দেশের কোন আদালতে অভিযোগ পেশ করা যাবে না। এই সমস্ত কারণে ঢাবির কেউ বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিরুদ্ধে কোন মিছিল কিংবা দলগতভাবে কোন বিবৃতি দিতে সাহস করতো না। এমনকি এর ২১ বছর পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর নাম কেউ উচ্চারণ করেনি। ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবেই হোক, পাকিস্তানের মদদেই দেশ চলেছে। ১৯৯৬ সালের জুন মাসের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়লাভের পর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু হয়।

মো. আরিফুল ইসলাম: স্যার, যখন জানতে পারলেন যে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে; তখন একজন জাতির বিবেক হিসেবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কিংবা একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আপনার মনের অবস্থা কেমন ছিলো?
ড. মোঃ মোবারক হোসেন: বঙ্গবন্ধুর কিছুদিন পর আমার বাবা মারা যায়। আমার বাবা মারা যাওয়ার পরে আমার যেরকম লাগছে, তার চেয়েও বেশি আঘাত হানছে বঙ্গবন্ধুর হত্যার সংবাদ। কারণ নিজের জীবন বাজি রেখে বঙ্গবন্ধুর ডাকে যুদ্ধে নেমেছি। যে স্বপ্ন নিয়ে যুদ্ধে গেছিলাম, সেই স্বপ্ন দেখানো মানুষটিকে হত্যা করার মাধ্যমে সেদিন আমার স্বপ্নকেও হত্যা করা হয়েছিলো। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে আমি বলতে চাই, ‘জাতির জনকের এই হত্যাকাণ্ডে দেশের অনেক বড় ক্ষতি হয়েছিলো। তিনি আরও কিছুদিন বেঁচে থাকলে হয়ত দেশটা এতোদিনে অনেক দূর এগিয়ে যেত।’

মো. আরিফুল ইসলাম: ধন্যবাদ স্যার। আমরা অনেক কিছুই জানতে পারলাম। আমি হয়ত ভবিষ্যতে বিডিমর্নিং এর পক্ষ থেকে আরও তথ্যের জন্য আপনাকে জ্বালাতন করব।
ড. মোঃ মোবারক হোসেন: ওকে। সমস্যা নাই। তোমার যখন যা জানতে মন চাইবে, তখন চলে এসো। আমার খুব ভালো লাগছে যে, তোমরা তরুণরা আজকে ইতিহাস সন্ধানে নেমেছো। তোমরাই পারবে সঠিক ইতিহাস জাতির সামনে তুলে ধরতে।

কমেন্টস