মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি জাদুঘর থাকা বাঞ্চনীয় (ভিডিও)

প্রকাশঃ জুলাই ৩০, ২০১৭

Advertisement

আ অা ম স আরেফিন সিদ্দিকী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। নিজের কর্ম দক্ষতায় প্রতিষ্ঠানটিকে একটি ঐতিহাসিক স্থানে উন্নীত করেছেন। ১৭ এপ্রিল-২০১৭ সর্ব প্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুজিব নগর সরকার দিবস পালন করে অন্যন্য নজির সৃষ্টি করে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এটি পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধ স্থাপনসহ অন্যান্য আন্দোলন নিয়ে একটি জাদুঘর থাকা বাঞ্চনীয় বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন।

চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল তাঁর নিজ বাস ভবনে বিডিমর্নিংকে মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যা, শিক্ষানীতিমালা, তরুণদের প্রতি প্রত্যাশাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিডিমর্নিংকে বিশেষ সাক্ষাৎকার দেন। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন বিডিমর্নিং এর হেড অব নিউজ; ফারুক আহমাদ আরিফ। ক্যামেরায় ছিলেন রাজীব বিশ্বাস ও আনোয়ার হোসেন। আজকে সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্বটি প্রকাশিত হলো।

ফারুক আহমাদ আরিফ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সৃষ্টির মাধ্যমে উপমহাদেশে তিনটি দেশের সৃষ্টি হয় পাকিস্তান, ভারত ও পরবর্তীতে বাংলাদেশ। এই তিনটি দেশের সৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় অবদান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। বিশেষ করে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের সৃষ্টি। মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল ভূমিকা ছিল। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে যেভাবে বলা হয় ঠিক তেমনি মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বা অবদান তুলে ধরা হয় না। এটি কেন?

আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯২১ সালের জুলাই মাসে প্রতিষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত হয়। এই অঞ্চলের মানুষের উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি হয়। পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে সকল ধরনের অন্যায়-অবিচারের প্রতিবাদে আন্দোলন গড়ে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তারা ৫২ ভাষা আন্দোলনে জীবন দিয়েছে। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সংগ্রাম করেছে, জীবন দিয়ে। বিভিন্ন সময় আন্দোলনে যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা রেখেছে তা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

2

পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চের কালো রাত্রিতে যে গণহত্যার সূচনা করে, তখন গণহত্যার সূচনা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একসাথে রাজারবাগ পুলিশ লাইন, ইপিআরে গণহত্যার সূচনা হয়। এই গণহত্যা চলে স্বাধীনতার, মুক্তিযুদ্ধের পুরো ৯ মাস। এবং গণহত্যার সর্বশেষ অধ্যায় রচিত হয় এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবীদের ক্যাম্পাস থেকে ধরে নিয়ে হত্যা করে। …..। একবারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আঘাতহানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর কেন আক্রমণ? আক্রমণটা এই কারণেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মেধা, তাদের যে দেশপ্রেম এটি তাদের কাছে ভয়ের বিষয় ছিল। অস্ত্রকে তারা যেমন ভয় পেত, ঠিক অস্ত্রের চেয়ে বেশি শক্তিশালী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তাদের মেধা, তাদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বড় শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অতএব তাদেরকে হত্যা করা, তাদেরকে পরাভূত করা, এবং তারা মনে করেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হত্যা করতে পারলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে, মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধকে বিলম্বিত করতে পারবে। কিন্তু তাদের হিসেবে ভুল ছিল। পাকিস্তানীরা বুঝতে পারে নাই যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলে-মেয়েরা বিশেষ করে সর্বপরি সারাদেশের সাধারণ মানুষ তারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে  ঐক্যবদ্ধ। তারা ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ এবার সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। বঙ্গবন্ধুর এই বাক্যকে, এই বক্তব্যকে মুক্তিযুদ্ধের মূল মন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করে। যে জাতি এটিকে মূল মন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করে সেই জাতিকে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। যতই বাধা বিপত্তি আসুক তারা সামনের দিকে এগিয়ে যাবেই, এগিয়ে যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশকে স্বাধীন করবে।

ফারুক আহমাদ আরিফ: ২৫ মার্চ কাল রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালায়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন মানুষসহ প্রায় ৩ থেকে ৬ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। তা ছাড়া আরো বিভিন্নভাবে প্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বের করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন আছে কিনা? তা ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে একটি জাদুঘর করা যায় কিনা?

আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক: মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি জাদুঘর থাকা বাঞ্চনীয়। আমরা চিন্তা করছি, বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা আধুনিক জাদুঘর করা যায় কিনা? সেখানে মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯২১ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে যাত্রা বিভিন্ন সময়ের যে সমস্ত স্মারক, স্মৃতিচিহ্ন আছে, ভাষা আন্দোলন, নানা গণতান্ত্রিক আন্দোলন, অধ্যাপকদের রেখে যাওয়া স্মৃতি নিয়ে একটি জাদুঘর থাকা প্রয়োজন। আমরা এ বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করছি।
3
ফারুক আহমাদ আরিফ: স্যার বর্তমানে পাশের বাড়ছে কিন্তু শিক্ষার্থীদের মনন কি গড়ে উঠছে? একটি সাবজেক্টে পড়াশোনা করে অন্য একটি সাবজেক্টে চাকরির বাজারে চলে যাচ্ছে। এই সমস্যাটি সমাধান করা যায় কীভাবে?

আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক: এটা পৃথিবীর সর্বত্রই আছে। যে বিষয়ে পড়াশোনা করছে পেশার ক্ষেত্রে সে বিষয়ে চাকরি করছে না অথবা কাজের সুযোগ পাচ্ছে না। অথবা সুযোগ থাকলেও সে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। দেখা গেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়  থেকে ইংরেজি ভাষা বা বাংলা সাহিত্যে পড়াশোনা করেছে, স্নাতক, স্নাতকোত্তর পাশ করেছে। সে হয়তো সে বিষয়ের শিক্ষক হবে। নতবা অন্য কিছু করবে। তার ইচ্ছা থাকতে পারে সে সরকারি আমলা হবে। তার ইচ্ছা থাকতে পারে সাংবাদিকতা। তার ইচ্ছা থাকতে পারে আইন পেশা। এখানে বিষয়কে কেন্দ্র করে মানুষ যে তার চূড়ান্ত পেশা নির্ধারণ করবে সেটি অনেক সময় হয়ে উঠে না। আবার অনেক সময় দেখা যায় একজন পদার্থবিজ্ঞানে পড়াশোনা করছে সে পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক হয়েছে। আবার কেউ পদার্থবিজ্ঞানে পড়াশোনা করে ব্যাংকিংকে পেশা হিসেবে নিয়েছে। আবার কেউ পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে চাকরি করছে। লেখাপড়ার বিষয়টি ছেলে-মেয়েরা একদিকে চিন্তা করে নির্ধারণ করে। পড়াশোনা শেষ করে চাকরি-বাকরির ক্ষেত্রে অন্য চাকরি বা পেশাকে সবসময় মিলানো একেবারে ঠিক হবে না। তবে আমরা আশা করতে পারি যে বিষয়ে পড়ালেখা করছে শিক্ষার্থী সে বিষয়ে সম্পৃক্ত করলে যে সুবিধা হয়। লেখাপড়ার যে উদ্দেশ্য থাকে সেটাও অনেকটা সুবিধা হয়। সরাসরি সম্পর্ক না থাকলেও একটু কাছাকাছি সম্পর্ক সৃষ্টি করা যায় তাহলে দুদিক থেকেই ভালো।

FILE001

ফারুক আহমাদ আরিফ: সরকার শিক্ষানীতি ২০১০ প্রণয়ন করেছে। এই শিক্ষানীতিতে কি কি পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করলে আরো সমৃদ্ধ করা যায়?
আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক: আমার মনে হয় শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিনিয়তই কিছু না কিছু পরিবর্তন বা সংশোধন করা জরুরি হয়ে দাঁড়ায়। ২০১০ সালে যে শিক্ষানীতি প্রণিত হয়েছে সেখানে জনগণের দাবি ছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তদানীন্তন বৈজ্ঞানিক ড. কুদরত-এ খুদার নেতৃত্বে শিক্ষা কমিশন গঠন করেছিলেন। তাকে বঙ্গবন্ধু দায়িত্ব দিয়েছিলেন স্বাধীন দেশের একটি যুগোপযুগি শিক্ষানীতি প্রণয়নের জন্যে। ড. কুদরত-এ খুদা খুব দ্রুততার সাথে শিক্ষানীতি চূড়ান্ত করে বঙ্গবন্ধুর হাতে অর্পণ করেন। আমাদের দুর্ভাগ্য। বঙ্গবন্ধু ১৫ আগস্ট-১৯৭৫ সপরিবারে নিহত হলেন। ড. কুদরত-এ খুদার শিক্ষানীতির যে রিপোর্ট বঙ্গবন্ধুর হাতে অর্পণ করা হয়েছিল তা আর আলোর মুখ দেখেনি, প্রকাশিত হয়নি। বঙ্গবন্ধু যখন ড. কুদরত-এ খুদার হাত থেকে শিক্ষানীতি রিপোর্টটি গ্রহণ করেছিলেন তখন তিনি বলেছিলেন, আমি দ্রুতই এই শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন করবো। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৭৫ থেকে দীর্ঘসময় আমরা কোন শিক্ষানীতি পাইনি। বিভিন্ন সরকারের আমলে বিভিন্ন শিক্ষানীতি প্রণিত হয়েছে কিন্তু কোনটিই চূড়ান্তভাবে গৃহীত হয়নি। চূড়ান্ত করা হয়নি। ২০১০ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি শিক্ষানীতি চূড়ান্ত করে সেটি বাস্তয়ন করছেন। আমি মনে করি শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাবে। আবার একই সাথে একবিংশ শতাব্দির চাহিদানুযায়ী কিছু কিছু সংশোধন আসবে। আমাদের দেশের শিক্ষানীতির বড় একটি চাহিদা হচ্ছে মান-সম্মত শিক্ষানীতি। একই সাথে প্রাথমিক শিক্ষানীতি হবে একমুখীকরণ শিক্ষানীতি। এখানে হয়তো আরও কিছু চিন্তার সুযোগ আছে। প্রাথমিক শিক্ষায় বিভাজন আছে। বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম। মাদরাসা শিক্ষা। এনজিওভিত্তিক শিক্ষা। এই ধরনের যে বিভাজন আছে তা সাংবিধানিক যে মৌলিক চাহিদা, মৌলিক একটি অধিকার দেয়া আছে যে সবার শিক্ষা একমুখী শিক্ষা হবে। সাথে সাথে তাদের শিক্ষা বিনামূল্যে বা বিনা টিউশন ফিতে করতে হবে। এখন বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। এখন এগুলো হয়তো একমুখী করা বা এক সাথে আনা একটু কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে। কিন্তু এইভাবে একসাথে করা যায় যে, প্রাথমিক শিক্ষার যে পাঠ্য, যে কন্টেন্ট, যে বিষয় সেগুলো এক থাকবে। ইংরেজি মাধ্যম, বাংলা মাধ্যম, মাদরাসা শিক্ষায় যা পড়ানো হয় যেমন ইংরেজি, বাংলা, বিজ্ঞান, পৌরণীতি, সমাজ, সমাজবিজ্ঞান। এগুলোর পাঠ্যক্রম একই থাকবে। তবে বিভিন্ন ধারা বা ভাষা হবে ভিন্ন। এইভাবে চিন্তা করে আমরা একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা করতে পারি। শিক্ষানীতির কারণে আমি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিতে চাই তিনি একটি যুগোপযুগী শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে দিকনির্দেশনা দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

4
ফারুক আহমাদ আরিফ: দীর্ঘ প্রায় ২৭ বছর যাবত ছাত্র সংসদ নেই। ৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি মহোদয় বলেছেন, ডাবি ইলেকশন অ্যা মাস্ট। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের জন্যে যা প্রয়োজন তার উদ্যোগ নিতে বলেছেন। এই বিষয়ে আপনারা কি কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন?

আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক: এ বিষয়ে আমরা বহুবার বিভিন্ন মাধ্যমে বিভিন্নস্থানে বলেছি। রাষ্ট্রপতিও একই কথা বলেছেন। সবাই একমত ছাত্র সংসদ নির্বাচন প্রয়োজন। ছাত্র সংসদ নির্বাচনটা যথা সময়ে হওয়া দরকার। ছাত্রদের মধ্য থেকেই আগামীদিনের নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে। তাদের মধ্য থেকেই অাগামীতে জাতীয় পর্যায়ের নেতারা আসবে। সেইজন্য ছাত্র সংসদগুলো সক্রীয় করা সময়ের দাবি। কিন্তু নানা যে সমস্যাগুলো আছে সেগুলো সমাধানে আমাদের চিন্তা-ভাবনা চলছে। ইতিমধ্যে এই বিষয়ে আমরা আলোচনা করছি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নিশ্চয়ই সবগুলো প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ প্রতিষ্ঠিত হবে।

ফারুক আহমাদ আরিফ: শিক্ষার প্রতি যে অনুরাগ সেখান থেকে শিক্ষার্থীরা ছাত্ররাজনীতি থেকে দূরে চলে যাচ্ছে। আর ছাত্ররাজনীতি বলতে ছাত্রদের অধিকার আদায়ের চেয়ে শিক্ষার্থীরা দলীয় রাজনীতিকরণের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। ছাত্রদের অধিকার নিয়ে কোন কথা বলে না। ছাত্ররা সত্যিকার অর্থে মানুষিক সম্পদ হিসেব গড়ে উঠছে?
আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক: ছাত্ররা তো মানুষিক সম্পদ হিসেবে গড়ে উঠতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসে। আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেভাবে দায়িত্ব পালন করি তাতে মানুষিক সম্পদ হিসেবেই গড়ে তুলতে কাজ করি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আমরা শিক্ষার মান কতটা ধরে রাখতে পেরেছি। শিক্ষার মান আমি বিশ্বাস করি যে, এটা ক্রমান্বয়ে উর্ধ্বমুখী হচ্ছে, শিক্ষার মান বাড়ছে এতে কোন সন্দেহ নেই। শিক্ষার হার বাড়ছে। শিক্ষার প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। কিন্তু আমাদের দেশের বাস্তবতার চিন্তা করে মানের দিকে চিন্তা করলে হবে না। আমাদের আন্তর্জাতিকভাবে চিন্তা করতে হবে। আজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে ছাত্র বেরিয়ে যাচ্ছে তাকে আমরা শুধু বাংলাদেশের জন্যে প্রস্তুত করছি না। তাকে প্রস্তুত করছি সমগ্র পৃথিবীর জন্যে। সে যেখানেই যাবে সেখানেই প্রতিষ্ঠিত হবে পারবে। আমরা যখন মান নিয়ে কথা বলি তখন অবশ্যই এটি ক্রমশ উপরের দিকে যাবে। একজন শিক্ষক হিসেবে আমি কখনই মানের উপর সন্তুষ্ট নয়। কেন না আজকে আমি যে ক্লাস নিয়ে বেরিয়ে এলাম তখন চিন্তা করি এটি আরো সুন্দর করা যেত। আগামীকালের ক্লাসটা যেন আরো সুন্দর হয় আমি সেই চেষ্টায় করি। আমার মনে হয় আমরা যখন মান নিয়ে চিন্তা করবো তখন মান আরো উর্ধ্বমুখী কীভাবে করা যায় সেদিকে খেয়াল রাখবো। আমরা চেষ্টা করবো আমাদের মান এখন যে অবস্থায় আছে তা আরো উর্ধ্বমুখী করবো।

5

ফারুক আহমাদ আরিফ: বর্তমান প্রজন্মের একটি অংশ জঙ্গিবাদের দিকে জড়িয়ে যাচ্ছে। এদেরকে প্রতিহত করার উপায় কী?

আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক: এটা একটা ভালো প্রশ্ন। এটি শুধু বাংলাদেশে নয় বিশ্বের সর্বত্রই একটি অংশ বিভিন্নভাবে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদে জড়িয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন দেশেই এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। এর কারণ কি সেটি হয়তো গবেষকরা ভালো বলতে পারেবন। আমি মনে করি আমাদের এই যোগাযোগ প্রযুক্তি যতটা কাছাকাছি নিয়ে এসেছে মানুষকে এটি একটি ভালো দিক। যোগাযোগ প্রযুক্তি এমন সক্ষমতার ধারা উন্মুক্ত করেছে আমরা যেন প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্থান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছি। প্রত্যেকে নিজের মোবাইল, ইন্টারনেটে অত ব্যস্ত থাকি যে পরিবারের সদস্যদের সাথে অনেক সময় যোগাযোগই রাখি না। পরিবারের প্রত্যেকেই যেন তার ফেসবুক, কম্পিউটার নিয়ে ব্যস্ত আছে।

ফারুক আহমাদ আরিফ: আপনার একটা ইন্টারভিউয়ে দেখলাম যে, আপনি বলছেন রাত ১২টায় গিয়ে আপনি আপনার আম্মুর সাথে দেখা করে অাসছেন।

আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক: এই তো। এখন এটিই হলো সমস্যা। যোগাযোগ প্রযুক্তি যেখানে আমাদের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে সেখানে আমরা পরিবারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছি। এই সুযোগে আমাদের পরিবারেই সন্তান, তরুণ-তরুণী তারা বিভ্রান্ত হচ্ছে। তাদের ইন্টারনেট থেকে নানা ধরনে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। আর বিভ্রান্ত হয়ে তারা জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ছে। আমার মনে হয় এখানে পারিবারিক সম্পর্কটাকে আরো সক্রীয় করা দরকার। পরিবারে বাবা-মা হিসেবে আমার সন্তানরা কে কোথায় কি করছে তার খোঁজখবর আরো বেশি করে রাখতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হিসেবে, প্রশাসক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব আমাদের শিক্ষার্থীরা কি করছে, কার সাথে মিশছে তা খেয়াল রাখা। একি সাথে শিক্ষার্থীদের মাঝে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানো। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ছেলেমেয়েদের কাছাকাছি রাখে। ক্লাসরুমে তারা একটা প্রতিযোগিতার মধ্যে থাকে। পরীক্ষায় একটি প্রতিযোগিতার মধ্যে থাকে। সেখানে সবাই চায় একে অপর থেকে কে এগিয়ে যাবে। সেখানে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, খেলাদুলা, বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে একে অপরের মনোভাব বুঝতে পারবে। এবং সেখান থেকে অতিক্রম করার একটা পথ থাকবে। আমার মনে হয় এভাবে পরিকল্পিতভাবে আমাদের তরুণ সম্প্রদায়কে জঙ্গিবাদ থেকে দূরে রাখা যাবে।

(ভিডিও যুক্ত করা হবে)

Advertisement

Advertisement

কমেন্টস