ওয়াসার দুর্গন্ধযুক্ত পানি ফোটাতেই প্রতিদিন অপচয় হচ্ছে ৫৮ কোটি টাকার গ্যাস!

প্রকাশঃ জুলাই ৮, ২০১৭

ফারুক আহমাদ আরিফ-
বাহ ওয়াসা বাহ। তোমার রং, ঢং দেখতে দেখতে জনসাধারণ যে আজ ক্লান্ত। পানির অপর নাম জীবন নামে সমাজে প্রচলিত থাকলেও পানি নিয়ে যুদ্ধের শেষ নেই। পৃথিবীর চার ভাগের তিনভাগই পানি হওয়া সত্ত্বেও দুনিয়ায় পানি নিয়ে দাঙ্গা, হাঙ্গামা, যুদ্ধবিগ্রহ কম হয়নি।

বেশ কয়েকবছর যাবত ঢাকা ওয়াসার পানি মানুষ পান করতে পারে না। কারণ এতে প্রচুর দুর্গন্ধ, কেচু, ময়লা ইত্যাদির কারণে। ফলে মানুষকে দুটি পথে পা বাড়াতে হয়। তারমধ্যে একটি ফিল্টার কিনে পানি পান অথবা ওয়াসার পানি আগুনে ফুটিয়ে পান করা। সামর্থবানরা যদিও ফিল্টার কিনে পানি পান করেন কিন্তু স্বল্প আয়ের মানুষদের পানি ফুটিয়ে খেতে হয়। এতে করে গ্যাসের উপর চাপ পড়ে।

৮ জুলাই ২০১৭ সংবাদ সংস্থা ইউএনবির একটি প্রতিবেদন তুলে ধরে বিডিমর্নিংয়ে প্রকাশিত সংবাদটি থেকে জানা যাচ্ছে যে,  ‘রাজধানীবাসী  গড়ে প্রতিদিন যদি আধা ঘণ্টা করে পানি ফুটায়, তবে গড়ে দিনে তারা ১ কোটি ৮ লাখ ঘনমিটার গ্যাস পোড়ায়। আর এ গ্যাসের আর্থিক মূল্য ৫৮ কোটি টাকা।’

তবে সবাই যে পানি ফুটাতে আধাঘণ্টা গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে রাখে বিষয়টা এমন না। অনেক পরিবার আছে তারা পৌনে এক ঘণ্টাও চুলা জ্বালিয়ে রাখেন।

‘তিতাস গ্যাসের প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেইনের দেয়া তথ্যে জানা যায়, রাজধানীতে প্রায় ১৭ লাখ ৬৯ হাজার বাড়িতে গ্যাসের (এক ও দুই চুলা) সংযোগ দেওয়া আছে। এক চুলায় প্রতি ঘণ্টায় ১২ কিউবিক ঘনমিটার গ্যাস পোড়ে। দুই চুলায় প্রতি ঘণ্টায় পোড়ে ২১ কিউবিক ঘনমিটার। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন সম্প্রতি প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম নির্ধারণ করেছে ৩২ টাকায়।’

এতে দেখা যাচ্ছে জাতির দুইদিকে ক্ষতি হচ্ছে। এক গ্যাস পোড়ানোতে অপচয় অপরদিকে ওয়াসার পানি অপচয়। কিন্তু কে শুনে কার কথা? ৫ জুলাই ২০১৩ সালের প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ‘প্রতিদিন গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে গড়ে ২২৫ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে প্রায় ৪০ কোটি ঘনফুটই অপচয় হয়।’ প্রতিদিন উ পাদিত ২২৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস ব্যবহার করে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ, সার ও শিল্পপণ্য উৎপাদন করা হচ্ছে, যন্ত্রপাতির দক্ষতা বাড়ানো হলে সর্বোচ্চ ১৮৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস ব্যবহার করেই তা করা সম্ভব হতো। অর্থাৎ এখানেও ৪০ কোটি ঘনফুট গ্যাস অপচয় হচ্ছে।

১০ ফেব্রুয়ারি ২০১০ সালের একটি হিসেবে দেখা গেছে,  দেশে জ্বালানীর ১০ খাতে বছরে প্রায় ১০৮ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস অপচয় হচ্ছে। দৈনিক এর পরিমাণ ২৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট। দেখা যাচ্ছে সবদিকে শুধু অপচয় আর অপচয়। কুরআনে অপচয়কারীকে শয়তানের ভাই বলে সম্ভোধন করা হয়েছে।

দেশে উৎপাদিত গ্যাসের ১২ শতাংশ ব্যবহার হয় গৃহস্থালিতে রান্নার কাজে। গতবছরের ১৩ আগস্ট অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত গ্যাসে রান্না একেবারেই অপচয় বলে অভিহিত করে সেটি বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন “গ্যাসটা এত মূল্যবান সম্পদ যে এটা দিয়ে ভাত-তরকারি রান্নার কোনো মানে হয় না,”
রান্না বন্ধ করে দিতে চাইলেও তিনি অপচয় বন্ধের কোন ইঙ্গিত দেননি।

এখন ওয়াসার পানি নিয়ে একটি গ্রুপ ব্যবসা করে আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে। অপরদিকে জনসাধারণ হচ্ছে ফতুর। ওয়াসার অন্যায় কাজের ফলে পানি অপচয় হচ্ছে গ্যাস অপচয় হচ্ছে। এসব বন্ধ করতে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

লেখক: হেড অব নিউজ; বিডিমর্নিং
৫/৮ লালমাটিয়া, ডি ব্লক, ঢাকা-১২০৭
সন্ধ্যা ৬টা, ৩৩ মিনিট, ৮ জুলাই-২০১৭

Advertisement

কমেন্টস