‘আমি কর্নেলকে গুলি করলাম মাথায়, ওইটারে আগে শেষ করি’ (ভিডিও)

প্রকাশঃ জুন ১৪, ২০১৭

সুভাস বাগচি। একজন কৃষক। মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে দেশ সৃষ্টিতে বিশেষ অবদান রেখেছেন। তিনি তৎকালীন ফরিপুর ও বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলার মুকসেদপুর মানে ৮ নং সেক্টরে বীরত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে পেট ছিদ্র হয়েছে। তবু প্রাণের ভয় না করে দেশমাতৃকাকে মুক্ত করতে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছেন। নিজের ফেলে আসা স্মৃতিগুলো স্মরণ করতে গিয়ে আবার যেন সেই যুদ্ধের মাঠেই চলে যান।
১২ মে বিকালে কাশিয়ানীতে বিডিমর্নিং এর পক্ষ থেকে তাঁর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়। সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন বিডিমর্নিং এর হেড অফ নিউজ ফারুক আহমাদ আরিফক্যামেরায় ছিলেন বিডিমর্নিং এর গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি আরমান খান জয় ও হেমন্ত বিশ্বাস। অন্যান্য সহযোগিতায় প্লাটুন কমান্ডার; ভূপতি কানজিলাল ও তন্দ্রা কানজিলাল
বিডিমর্নিং এর হেড অফ নিউজ ১২ থেকে ১৪ মে পর্যন্ত গোপালগঞ্জে অবস্থানকালে ১৪ জন মুক্তিযোদ্ধার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন। পর্যায়ক্রমে সাক্ষাৎকারগুলো প্রকাশ করা হচ্ছে। আজ প্রকাশ করা হলো বীর মুক্তিযোদ্ধা সুভাস বাগচির সাক্ষাৎকারটি

ফারুক আহমাদ আরিফ: কোন বিষয়টি আপনাকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করেছিল?
সুভাষ বাগচি: সেই সময় আমার ২২ বছর বয়স। সেই সময় মেলিটারি স্টাফ লঞ্চে এসে চট করে পাবলিক মারানা (মেরে চলে যায়)। আমরা তো কয়বার দৌরাই দৌরায় আউস ধানের ভিতর গিয়ে পালাই। যেই যায় আবার আসি। এই অবস্থায় আছি। একদিন চট কইরা নামিয়া ৬৩ জন মাইরা ফেললো। ৬৩ জন। আমার এক দাদা ছিল এমএ পাশ ‘অমল বাগচি’। সেই সময়ের এমএ পাশ। সেও মারা গেল।
আরমান খান জয়: সেই স্পটটা কোথায়?
সুভাষ বাগচি: হ্যাঁ, ভেন্নাবাড়ি। ভেন্নাবাড়ি মাঠে। তাঁর ৮টা ছেলে ছিল। ফায়ার করছে ছেলেটার লাগছে। ছেলেটা মারা গেল। উনি এখন দেখছে ছেলেটা কি করে। ছেলেটাকে ধরতে গেছে মেলিটারি হাটি গেছে, ফিইরা আবার গুলি। উনার তলপেটে গুলি লাগলো নাড়িভুড়ি বেরিয়ে গেল। পরে আমরা আনতে গেলাম। গিয়ে দেখি অামাদের ১১ জন মইরা গেছে। ১১ জন মরে গেছে। দুই ভাই মরে গেছে। আরও বৌদি মরে গেছে। তখন উনাদের নিয়ে আসলাম। আরেক বাডির (ভাই) গুলি লাগছে। এই দেশে লাগছে এই দেশে বেইরে গেছে (পেটের ডান দিকে লেগে বাম দিকে)। শ্বাস টান দেয় নাড়িভুড়ি বেরিয়ে আসে। আর বলে ওরে ওরে। শ্বাস বেরিয়ে আসে। ৪দিন ছিল। ৪ দিন পর মারা গেল। আর ওই দাদা যার গুলি লাগলো। রাতে তাকে মিশনে (খ্রিস্টান মিশনারি) নিয়ে গেলাম। মিশনে নিয়ে গেলে পথেই মারা গেল। মিশনে যাতি (যেতে) পারলাম না পথেই মারা গেল। বানিয়াচর মিশনে যাতি পারলাম না। ফিইরে আসলাম ওকে দেখায় নিয়া যার গুলি লাগছে। ত ওই দাদাকে নদীতে ফালাই দিয়ে আসলাম। কি করবো। ফালাই দিয়া চলে আসলাম।

ফারুক আহমাদ আরিফ: তাকে কি জীবিত অবস্থায় ফেলে দিয়ে চলে আসলেন?
সুভাষ বাগচি: না নৌকায় বয়ে মারা গেছে। আর কোন সমাধান নাই ওই জায়গায় ফেলাই দিয়া আসলাম। কি করবো। কোথায় যাবো। আমরা যাবো কোথায়? আরেকজন তো গুলি খাওয়া আছেই। গরু, বাছুর, ধান-চাল থুইয়া চইল্যা গেলাম রাতে। গোপনে চলে গেলাম। ওই যে মনে ত্যাগ আসলো যা শালার সাত দেশের জন্যে যদি জীবন চইল্যাও যা তাইলে শেখ সাবের (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) জীবন দিব। আবার ট্রেনিং চললো। ট্রেনিংয়ে চইল্যা গেলাম। লবণহ্রদে ট্রেনিংগাড়ি হাজির। মা কান্দে, বাবা কান্দে। আমি বলি এই দোস্ত, আমি ফিরবো নানে (আমি ফিরবো না)। আমি দেশে যা দেখে আইছি, আর আমাগো যত যা করছে, আমি ট্রেনিং না দিয়া ছাড়বো নানে। দেশের জইন্যে, শেখ সাবের জইন্যে, বাংলার জইন্যে বাংলা ভাষা চাই। চলে আসলাম ট্রেনিংয়ে।

ফারুক আহমাদ আরিফ: অাপনাদের এখানে ২৬ শে মার্চ আওয়ামী লীগের নেতা হাফিজুর রহমান মোল্লা। উনারা একটা ই (কমিটি) গঠন করছিলেন। বিশেষ করে ২৮ শে মার্চ আওয়ামী লীগের সভাপতি কামরুল ইসলাম রইস, মিন্টু সরকার, নজরুল ইসলাম উনারা মিলে একটা কমিটি গঠন করেছিলেন। সেই কমিটি সম্পর্কে কি আপনারা জানতেন?
সুভাষ বাগচি: আমি, আমরা জানি না। (ভূপতি) দাদা আপনি জানেন?
ভূপতি কানজিলাল: এটা কি প্রকাশ অইছিল? রইস মিয়া,
আরমান খান জয়: এটা মনে হয় কোটালীপাড়া অঞ্চলে।
জনৈক: কোটালীপাড়া, টঙ্গীপাড়া এরিয়া।
আরমান খান জয়: এটা গোপালগঞ্জ সদরেও হতে পারে।
ভূপতি কানজিলাল: এইটা আমাদের এখানে আসেনি।

ফারুক আহমাদ আরিফ: আচ্ছা হ্যাঁ, আপনি বলতে ছিলেন।
সুভাষ বাগচি: ট্রেনিং দিয়া চলা (চলে) অাসলাম দেশে। দেশে আইসা পথে তালকড়ি ফাইট বাজলো। ফাইটে আমাগো সতারো (১৭) জন মারা গেল। আমরা সাড়ে ৬শ’র মধ্যে ১৭ জন মারা গেল।

ফারুক আহমাদ আরিফ: সেই যুদ্ধটা পূর্ণাঙ্গভাবে বলেন তো।
সুভাষ বাগচি: হ্যাঁ।

ফারুক আহমাদ আরিফ: এই তালকড়ির যুদ্ধটা কীভাবে শুরু হলো?
সুভাষ বাগচি: ওরা যে ঘাটি করে মাটির ঘরে রইছে তা তো আমরা জানি না। দেয়াল দেয়া ঘরে। আমরা হাঁটি (হেঁটে) যাচ্ছি চড়ৎ (হঠাৎ) করে ফায়ার। ফায়ার কোথাত্থেকে আসলো? ওখানে পাবলিক বলে নাই যে, এই জাগা (জায়গায়) মেলিটারি আছে। তখন আমাদের চটাচট সাতারো জন পড়ে গেল।
ভূপতি কানজিলাল: আমরা লাইন ধরে কাঁদার ভিতর দিয়া হাঁটতেছি।
সুভাষ বাগচি: তারপরে তো আমরা রেডি।

ফারুক আহমাদ আরিফ: আপনাদেরকে কি পিছন দিক থেকে গুলি করলো?
সুভাষ বাগচি: পাশের দিক থাইকা। পুব পাশের থি। আমরা দক্ষিণ দিকে ঘোরে  হাঁটা যাচ্ছি। সেই সময় গুলি করলো। ওইখানে ১৭ জন মারা গেল। আরো ১১ জনের গুলি লাগলো। তারপরে তো আমরা শুরু করলাম। মইরা তো যাতি হবো একদিন। মইরা তো যাতি হবে। তই এই দুষ্কৃতিকারীর তাড়না তো সহ্য করা যাবে না। যেজন মরে যাবি চলে যাবি। আর আমরা যেজন বাঁচি থাকবো তারা প্রতিশোধ নিব। আমার কথা তাই। তখন ওইখান থাইক্যা মাইরা চলে অাসলাম। ২৩ জন মেলিটারি ছিল আর রাজাকার ছিল ১৭/১৮ না ১৯ জন। আমরা সবগুলো মেরে চলে আসলাম।

ফারুক আহমাদ আরিফ: সব মেরে ফেললেন?
সুভাষ বাগচি: হ্যাঁ, সব মেরে মাটি কবর দিয়ে চলে আসলাম। আইস্যা এই দেশে চলে আসলাম। আইস্যা দিকনগর ফাইট। দিকনগর ফাইট এদিকে ব্রিজ ভেঙে দিছি। ও দিকে রাস্তা কেটে দিছি। তখন সেই সম (সময়) আমার চাচাত ভাই একজন মারা গেল। একদিন পর আমার চাচাত ভাই মারা গেল। আমার গুলি লাগলো। মারা গেলে সেই সম চোখে টপ টপ করে জল পড়ছে। প্রমত বাগছি। দিকনগর ব্রিজে লেখা আছে ৯ নম্বর এলাকার প্রমত বাগচি।
ভূপতি কানজিলাল: সেখানে আমার নামও লেখা আছিল পরে কেটে দিছে।
সুভাষ বাগচি: দিকনগর ব্রিজে লেখা আছে প্রমত বাগচি। তখন চিন্তা করলাম আমার গুলি লাগছে, দাদা তো মারা গেছে। আমার স্বাধীন দেখা হলো না। তাইর (তার) আগেই চলে যেতে হবে?
ভূপতি কানজিলাল: বা দিক থেকে।
আরমান খান জয়: একটু একটু পেটের গুলি লাগার স্থানটা।
জনৈক: একটু আগাইয়া দাঁড়াও।
আরমান খান জয়: না না আগাইয়া দাঁড়াতে হবে না। আপনি থাকলেই হবে।

ফারুক আহমাদ আরিফ: এইটা আবার পিছন দিক দিয়ে বের হয়েছে না পিছনে আরেকটা লাগছে?
ভূপতি কানজিলাল: হ্যাঁ, হ্যাঁ।

ফারুক আহমাদ আরিফ: তারপর?
সুভাষ বাগচি: তারপরে গুলি লাগার পর দাদা (ভূপতি কানজিলাল) আমাকে মিশনে নিয়া গেল। মিশনে নিয়া ডাক্তার দেখালো। ডাক্তার দেখায়া আমারে এক বাড়ি রাখলো। আত্মীয় বাড়ি। তুমি এখানে থাক। আমি সেখানে ১০ দিন চুপ করে ছিলাম। ১০ দিন পর আবারও শুরু। আমি পাগল হয়ে গেছালাম বুঝলেন?

ফারুক আহমাদ আরিফ: এটা কি মাসে মনে পড়ে কি?
সুভাষ বাগচি: এটা নভেম্বরের কয় তারিখ যেন।
ভূপতি কানজিলাল: নভেম্বরের দিকে। ব্রিজটা তো ভাঙা হয়। নভেম্বরের কয় তারিখ যেন। তার কাটা হয়। দুই দিকে পাবলিকানা রাস্তা।
সুভাষ বাগচি: তার কেটে দিলাম।

ফারুক আহমাদ আরিফ: কিসের তার কাটলেন?
সুভাষ বাগচি: ফোনের তার কেটে দিলাম। তারগুলো আমিই কাটতাম।

ফারুক আহমাদ আরিফ: সেটা কীভাবে?
সুভাষ বাগচি: হেকসো ব্লেড দিয়ে কাটতাম।

ফারুক আহমাদ আরিফ: আপনি কয়টা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন?
সুভাষ বাগচি: দিকনগর, বামনডাঙা, টেকেরহাট সব জায়গায় আমি আছি।

ফারুক আহমাদ আরিফ: দিকনগর যুদ্ধটি নিয়ে একটু বলবেন?
ভূপতি কানজিলাল: দিকনগর এই যে কিছুক্ষণ আগে একটু বললো।
সুভাষ বাগচি: এই যে, দিকনগর।

ফারুক আহমাদ আরিফ: টেকেরহাট?
সুভাষ বাগচি: টেকেরহাট। এই কিছুদিন পর একটু সুস্থ হলাম। এয়ন (এখন) ভালোর দিক। আবার টেকেরহাট যাতি হবে। শেষ রাতি চলে গেলাম টেকেরহাট। আগোয়ায় গেলাম টেকেরহাট। টেকেরহাটে যেতে ফতেহপুর বাজারে রলাম (রইলাম)। শেষ রাতি অনতা কিছু খাবার দিল ওই পাবলিকি (সাধারণ মানুষ) তখন আমরা নদী পার করে দিলি (দিলেন)। যাইয়্যা তো শুরু। যাইয়্যা শুরু যুদ্ধ। কাছে চইল্যা আইছি। কাছে কাছে।
ভূপতি কানজিলাল: টেকেরহাটটা তুমি বলবা? আমি বলবানে।

ফারুক আহমাদ আরিফ: স্যার, আমরা আপনারটা পরে নিব।
জনৈক: একটা হচ্ছে, যেটা হচ্ছে সেটাই যাক।
ভূপতি কানজিলাল: আচ্ছা বলো।

ফারুক আহমাদ আরিফ: জী বলুন…
সুভাষ বাগচি: টেকেরহাট যাইয়্যা যুদ্ধ শুরু হলো। তখন ৯টা বাজে সে সময় অসুবিধা হলো। আমাদের চতুর দুইধার দিয়ে ঘের দিছে (ঘিরে ফেলেছে)। দুই দিকে ঘের দিছে আমরা বোঝতে পারিনি। দুই দিকে ঘের দিয়ে পিছনে আগুন ধরায় দিছে। আগুন ধরায় দিছে। তখন পাবলিক বললো কি চারদিকে মেলিটারি ঘের দেয়া তোমরা সাজিয়া সব মরছো। তখন নদী ঝাঁপাই এপার চলে আসলাম অস্ত্র নইয়া (নিয়ে)। নদী ঝাঁপায় চলে আসলাম। গুলি মাজায় বান্দা। অস্ত্র। তাই নিয়ে ঝাঁপায় চলে আসলাম। ঝাপায় চলে আসলাম ওইদিন বাদ। আবার ৫দিন পর আবার শুরু।
ভূপতি কানজি লাল:
সুভাষ বাগচি: হু। তারপর ৫দিন পর আবার শুরু। খুলনায় মেলিটারি, গোপালগঞ্জ মেলিটারি ওহানতা (সেখানে) ছাড়িয়া…

'আমি কর্নেলকে গুলি করলাম মাথায়, ওইটারে আগে শেষ করি'
ফারুক আহমাদ আরিফ: আপনার এরিয়াটা কোন ছিল?
সুভাষ বাগচি: আমরা আগে ছিলাম মকসেদপুরের (মুকসুদপুর)ভিতার। এখন আমরা গোপালগঞ্জের ভিতার পড়েগেছি বুঝছেন?

ফারুক আহমাদ আরিফ: যুদ্ধে আপনার এরিয়াটি কোনটা ছিল যেখানে আপনি যুদ্ধ করেছেন?
সুভাষ বাগচি: মুকসুদপুরের ভিতর।

ফারুক আহমাদ আরিফ: পুরাে মুকসুদপুর?
সুভাষ বাগচি: হ্যাঁ। মুকসেদপুর, বাউলডাঙা, দিকনগর, টেকেরহাট পাড়,

ফারুক আহমাদ আরিফ: টেকেরহাট যুদ্ধটা নিয়ে বলেন?
সুভাষ বাগচি: টেকেহাটে পরে আমরা সব রেডি করছি পরে শুনলাম গোপালগঞ্জের মেলিটারি, খুলনার মেলিটারি সব চলে আইছে টেকেরহাট। আমারদের যে সম্বাদিক (গুপ্তচর) সে খবর দিল টেকেরহাটে সব মেলিটারি চলে আইছে। মেলিটারি গিজগিজ করতাছে। সব জায়গায় মিলিটারি। ওই মিলিটারি আমরা টেকেরহাট থেকে ঢাকা চলে যাবো হাইটা। লাইনঘাট শেষ। আমরা লাইন নষ্ট করে দিছি। ব্রিজ-ট্রিজ সব ভাঙা শেষ। ওই গ্রামের ভিতর দিয়ে ঢাকা চলে যাবো।
ভূপতি কানজিলাল: ওই শেষের দিকে একেবারে।
সুভাষ বাগচি: হ্যাঁ শেষের দিক। আমরা সংবাদ পালাম মিলিটারি টেকেরহাট হাট থেকে নৌকায় পাড় হয়ে গেছে। কোথায় গেল? ওখান ছাগলছোড়ার লোকেরা বললো আমাদের এখানের দিকে আসছে মিলিটারি। তারা এসে বসে রইছে। ওখান থেকে দূর দিলাম সবাই। ওখান থেকে ১১৪ জন ধরলাম। কর্নেল যে কর্নেল, তিনটা কমান্ডার একটা কর্নেল।

ফারুক আহমাদ আরিফ: নামগুলো মনে আছে?
সুভাষ বাগচি: কাগে (কাদের)?

ফারুক আহমাদ আরিফ: কর্নেলদের।
সুভাষ বাগচি: না, ওরাতো ওই দেশিয়। ৩টা কমান্ডার একটা কর্নেল। আমি কর্নেলকে গুলি করলাম মাথায়। ওইটারে আগে শেষ করি। দাদা বললেন তুই কি করলি? আমি বললাম আগে ওইটারে বড়টারে শেষ করি।
রবীন্দ্রানাথ বিশ্বাস: ভূপতি দাদা বললেন তুই কি করিস।
সুভাষ বাগচি: পথে নিইয়া আসলাম চটাচট মারি আর ফেলাই দিই। রশি দিয়ে বান্ধা। যেটাই ভেজাল করে তারেই মেরে ফেলাই দিই, যা ভেজাল-কোজাল। আমি কি ছিলাম জানেন, যেই মেলিটারি ধরতো আমার হাতে দাও ছিল কূপ দিয়ে কেটে ফেলতাম হাত। যা। আমার ভাই মরে গেলে আমি পাগল হয়ে গিয়েছিলাম। হাঁটাই আনতাম অইনে টাইন্না ধরতো অমনি কূপ দিতাম দাও ছিল সবসময় হাতে। ডেনা কেটে যেত। যাহ ভেজাল।

ফারুক আহমাদ আরিফ: আপনারা প্রচুর দেশিয় অস্ত্র ব্যবহার করতেন?
সুভাষ বাগচি: হে। ওইভাবে পরে স্বাধীন ডিকলিয়ার করলো।

কমেন্টস