অর্থমন্ত্রী আমাদের টাকাগুলো কবে ফেরত দেবেন?

প্রকাশঃ জুন ১০, ২০১৭

ইঞ্জি. আরিফ চৌধুরী শুভ-

আমি আর আমার বাল্যবেলার বন্ধু অজিত(ছদ্মনাম) ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে লজিং ও টিউশানি করে পড়াশুনা করে আসছি। দুজনেই বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌকাঠ পেরিয়েছি। দুজনেই এখন চাকুরির যোগ্য। কিন্তু দুজনেই বছর দেড়েক হলো চাকুরি খুঁজে সময় পার করছি। দুজনের মধ্যে এখন সবচেয়ে বেশি মিল যেটা, সেটা হলো চাকুরি খুঁজে বেড়ানো। আর সবচেয়ে অমিল যেটা, সেটা হলো ঘুষ ছাড়া চাকুরির বিশ্বাস যোগ্যতা এই দেশে। অজিত অনেক আগ থেকে টিউশানি করে টাকা জমাতে শুরু করলো সরকারি চাকুরিতে আমলাদের ঘুষ দেবার জন্যে। আর আমি তার সোজা উল্টো পথে চলছি তার সব যুক্তিকে তীর মেরে।

২০০৯ সাল থেকে দুইবন্ধু ইট-পাথরের ঢাকাকে চিনতে শুরু করেছি। চিনতে শুরু করেছি সরকার নামক একটি দলকে। তখন থেকে আজও যেটা আমাদের পিছু ছাড়েনি সেটা হলো ব্যয়বহুল এই ঢাকা শহরে বাস করার জন্যে প্রয়োজনীয় অর্থের সঠিক উৎসে নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করা। আমার মতে, মুচি থেকে মন্ত্রী, কতজন আছেন এই সঠিক আয়ের উৎসে জীবন পার করছেন? হয়তো কেউ কেউ, হয়তো বেশির ভাগই না। আজ যে সরকার ক্ষমতার চেয়ারে বসে আছেন, ৮ বছর আগেও তিনিই ক্ষমতায় ছিলেন ঠিক মনে আছে। আরও বেশি মনে আছে ২০১৭ সালে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট উত্থাপনকারী দাম্ভিক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে। কারণ তিনি তখনও এই সরকারের অর্থমন্ত্রীই ছিলেন। আমি তাকে দাম্ভিক বলছি এই কারণে যে, তিনি মাঝে মধ্যে সোসাল মিডিয়ায় আমাদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে কথা বলে থাকেন। আমাদের রাবিশও বলতে তিনি দ্বিধাবোধ করেন না।

আমার মনে হয় সরকারের দু:খটা কেবল আমাদের আর্থমন্ত্রীই ভালো বোঝেন। আমরা জনগণ শুধু সরকারের মাথার উপর অপাদার্থ ও ভোজা। তাই আমাদের উপর যত অযাচিত করের বোঝা চাপানোই অর্থমন্ত্রীর কাজ। সরকারের অভাব আছে কিনা তা বোঝার জন্যে অর্থমন্ত্রী জনগণকে দৈনিক পত্রিকা পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন গত অর্থবছরে।আমরা জনগণ কি দৈনিক পত্রিকা পড়ি? নাকি আমাদের মাসিক যে মাইনর সরকার দেন, সেটা যোজন-বিয়োজন করতে করতে পত্রিকা কেনার টাকাও থাকে না। মাল সাহেব নিয়মিত পত্রিকা পড়েন। তাই সরকারের অভাব বুঝে মাল সাহেব জীবনের শ্রেষ্ঠ বাজেট ঘোষণা করেছেন ২০১৭-১৮ অর্থ-বছরে।এই বাজেট উত্থাপন করে মাল সাহেব জনগণের পক্ষ থেকে সেলুট না পেলেও, সরকারের পোষ্যপুত্র এমপি মন্ত্রী ও আমলাদের কাছে ঠিকই সেলুট পেয়েছেন।

একটা বাজেট শুধু কেবল একটি দেশের সরকারের আয়-ব্যয়ের হিসাবই নয়, এটা একটি দেশের অর্থনৈতিক দর্শনেরও দলিল। অর্থমন্ত্রীর জীবনের শ্রেষ্ঠ বাজেটে রুপকথার দলিল পাওয়া গেলেও প্রকৃত দর্শনটা নাই। তাই সরকারের বিভিন্ন খাতের অনিয়ম ও বিলাসিতা পূরণের জন্যে কর বাড়িয়ে সমাজের দারিদ্র ও মধ্যবৃত্ত অংশের কাঁধ মটকিয়ে দিলেন তিনি। এটা চরম অন্যায় দাবি তার, অনৈতিক ও অশুভ চিন্তারই বহি:প্রকাশ।

নাগরিকের ঘামঝরা যে অর্থ ব্যাংকে জমা থাকবে, তা থেকে অর্থমন্ত্রীর মুসক দাবি করেছেন। এটা গ্রাহকদের ব্যাংক বিমুখ করবে নিশ্চিত বলা যায়। কদিন আগেই যে আইন ছিল, বার্ষিক আয় আড়াই লাখ টাকা হলেই কর দিতে হবে ব্যক্তিকে। কিন্তু বার্ষিক আয় আড়াই লাখ টাকা না হলেতো কারো ব্যাংকে এক লাখ টাকা সঞ্চয় থাকা সম্ভব নয়। পলিটিক্সটা মাল সাহেব এখানেই খাটিয়েছেন। অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী, ১ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ৮০০ টাকা আবগারি কর দিতে হবে। ১ কোটি থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ১২ হাজার টাকা এবং ৫ কোটি টাকার বেশি থাকলে ২৫ হাজার টাকা করে কর দিতে হবে।

আমাদের দেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তার সংখ্যাই বেশি। এদের বেশির ভাগেরই ব্যাংকে সঞ্চিত অয়ের পরিমাণ বড়জোর ১ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকার মধ্যে।ব্যাংকের ধরণ অনুযায়ী উদ্যোক্তারা এই অর্থ গচ্ছিত রাখলে বছরে মুনাফা আসতো বড়জোর তিন হাজার টাকার মতো। কিন্তু ব্যাংক একাউন্ট খরচ, এটিএম কার্ড খরচ, অনলাইন ব্যাংকিং খরচ, কার্ড নবায়ন খরচ কাটার পর তেমন একটা মুনাফা থাকে না সঞ্চয়কদের পকেটে। ২০১৭-১৮ বাজেটের ঘোষণা অনুসারে ১ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সঞ্চায়কদের মূল অর্থ থেকে আবগারি কর ৮০০ টাকা করে কেটে নিলে সঞ্চায়কদের মুনাফার পরিমাণ প্রায় ৫০০ টাকার নিচে নেমে আসবে। এভাবে সঞ্চয়কদের প্রকৃত মূলধন কমতে কমতে একটা সময় আর মূলধনই থাকবে না।

আমার বন্ধু অজিত এই ৮ বছরে টিউশানি করে ব্যাংকে ১ লাখ টাকা সঞ্চয় করেছে। তার একটি ব্যাংক একাউন্ট আছে এবং একাউন্টে এক লক্ষ টাকা আছে এই কথা ভাবতেই অজিতের মুখখানা আনন্দে হেসে উঠে।আমার কোন ব্যাংক একাউন্ট নেই, তাই লক্ষ টাকার চিন্তা ও হাসি কোনটাই আমার নেই। আমার টিউশানির জমানো টাকাগুলো থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ২০১৩ সালে ঝরে পড়া শিশুদের জন্যে গ্রামে ‘আলোকিত স্কুল’ ও ৭০ হাজার টাকা দিয়ে ২০১৫ সালে শিক্ষাথীদের বই পড়ার জন্যে ‘আলোকিত পাঠাগার’ প্রতিষ্ঠা করেছি।যদিও পাঠাগার ও স্কুলের পিছনে আমার পারিবারিক ইনভেসমেন্ট লাখ-লাখ টাকার উপরে। আমার স্কুলে ৮০ জন শিক্ষার্থী বেতনের চিন্তাহীন পড়াশুনা করছে আর পাঠাগারে প্রায় সাত শতাধিক বই আছে। আমার একাউন্টহীন ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ এটুকু শুনলে বন্ধুরা কদিন আগেও আমাকে নিয়ে টিটকারী করতো। তবে ২০১৭-১৮ সালের বাজেট ঘোষণার পর থেকে বন্ধুদের টিটকারী অজিতকে নিয়ে। এবার বন্ধুরাই বলছে আমি বুদ্ধিমানের কাজ করেছি আর অজিতকে দেখলেই সকাল-বিকাল বলে, বন্ধু তোর কাছে তো অর্থমন্ত্রী ৮০০ টাকা পায়। অজিত বন্ধুদের মশকারায় খুব একটা বেজার নয়। আগের মতোই একগাল হাসি দিয়ে বলে, এ এক পাগল অর্থমন্ত্রী। কখন যে কি বলে, তা নিজেই জানে না। আমারও প্রশ্নো অর্থমন্ত্রী যা বলেন, যা করেন, সবই কি তিনি জেনে শুনেই করেন? নাকি অজিতের কথাটাই সত্যি?

অর্থমন্ত্রী আমার বন্ধুর ব্যাংকে রাখা এক লক্ষ টাকায় এখন পান ৮০০ টাকা। কিন্তু আমি জানি অর্থমন্ত্রী আমার কাছে ৮০০ টাকা কেন, ৮ পয়সাও পান না। অর্থমন্ত্রীও শ্রেষ্ঠ বাজেট ঘোষণার মতো দাম্ভিক গলায় বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন যে, তিনি আমার কাছে কোন টাকা পান না। এই সুযোগটা বছর খানিক আগেই তিনি নিতে চেয়েছেন আমার কাছে। যদি ২০১৫ সালে বেসরকারি উচ্চশিক্ষায় সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট আরোপের বিরুদ্ধে লাখ-লাখ শিক্ষার্থীর আন্দোলন ব্যর্থ হতো তাহলে অর্থমন্ত্রী আমার কাছে টাকা পেতেন। আমরা সেদিন রক্ত দিয়েছি, গুলি খেয়েছি, কিন্তু অর্থমন্ত্রীকে ভ্যাট দেইনি। ভবিষ্যতেও এমন প্রস্তাব আসলে ছাত্ররা রুখে দিবে। উচ্চ শিক্ষার উপর অর্থমন্ত্রীর এই অন্যায় ও অমোঘ দাবি প্রতিহত করেছিলাম আমরা।বেঁচে গিয়েছে লাখ-লাখ শিক্ষার্থী সম্ভাবনাময় জীবন। না হয় এবার সেটি বাড়িয়ে অর্থমন্ত্রী ১০ শতাংশ করতে মোটেও দ্বিধা করতেন না।অর্থমন্ত্রীর সব চিন্তা যে শুভ চিন্তা নয়, ভ্যাট আন্দোলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সেটি প্রমাণ করেছে। কিন্তু এদেশের নিন্মমধ্যম ও মধ্যম আয়ের মানুষগুলো এখন কিভাবে প্রমাণ করবে অর্থমন্ত্রীর ৮০০ টাকার দাবিটাও অশুভ চিন্তাও অযৌক্তিক?

আমার বন্ধু অজিত ব্যাংকে টাকা জমাতো দুটি কারণে। এক. তার দারিদ্র পিতামাতার বড় কোন অসুখ হলে সে খরচ করবে না হয় ছোটবোনের বিয়ে দিবে। দুই. সরকারি চাকুরির সময় আমলাদের ঘুষ দিবে। ঘুষ এখন সরকারি স্বীকৃতির অপেক্ষা মাত্র। বরং অর্থমন্ত্রী বিভিন্ন দপ্তরে ঘুষের উপরে কর বসানোর চিন্তা করলে সেটি অশুভ হতো না। কিন্তু অজিত এখন সকাল বিকাল দুচিন্তায় থাকেন বন্ধুদের মশকরা শুনে। সে ভাবে তার ঘামঝরা, বৃষ্টিতে ভেজা টিউশানির জামনো টাকাতেও অর্থমন্ত্রী ভাগ বসালেন। একবার ভাবলেন ক্যাশ নিজের কাছে রাখবেন, কিন্তু সাবেক সরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা ‘কারো বেডরুম পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের না’ মনে পড়ে গেল। তাই মনের আকাশে মেঘ কাটছে না তার। সরকার চাকুরি দিতেও টাকা নেয় আমলার মাধ্যমে, উচ্চশিক্ষা নিতে গেলেও টাকা নেয় সেবার নাম করে। চিকিৎসা নিতে গেলেও টাকা নেয় বাঁচামরার সন্ধিক্ষণে। আমাদের লাশের ময়না তদন্তও কি সরকার টাকা ছাড়া করেন? এত এত অভাব যখন সরকারের, তখন লাখ টাকায় অর্থমন্ত্রীর ৮০০ টাকা দাবিকে কিভাবে অশুভ বলবেন সরকার। তাই কেবল আমরাই বলছি, অর্থমন্ত্রীর এই বাজেট জাতির সাথে তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়।

যে দেশের ব্যাংকগুলো এমনিতেই অরক্ষিত, সে দেশের ব্যাংকগুলোতে টাকা জমা রাখলে মুনাফার দাবি কতটা বর্বর ও অযৌক্তিক তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যে অর্থমন্ত্রীর কাছে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা কিছুই না, সেই অর্থমন্ত্রী এখন কিভাবে বলেন, কারো ব্যাংকে এক লক্ষ টাকা সঞ্চয় থাকা মানে সে অনেক টাকার মালিক? এতদিন ডাকাত ব্যাংকের গলা কাটলে যে রাষ্ট্রকে দায়ী করতাম আমরা, এবার ডাকাত ঘরে ঢুকে আমাদের গলা কাটলেও এই রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা শূণ্য। এদেশের জনগণ সুবিধাভোগী না হয়ে যদি ২০১৫ সালের ভ্যাট আন্দোলনকারী ছাত্রদের মতো সচেতন ও প্রতিবাদী হতো, তবেই অর্থমন্ত্রী টের পেতেন তিনি কতটা শ্রেষ্ঠ বাজেট ঘোষণা দিলেন। কিন্তু কলুর বলদ জনগণ বেগম রোকেয়ার ‘অবরোধ বাসিনী’ গল্পের মতো বুটের নিচে পিষে গেলেও শব্দ করতে রাজি নয়।

অর্থমন্ত্রী যখন বলেন ‘অল আর রাবিশ, অল আর নাথিং, ৪ হাজার কোটি টাকা কিছু না, আমি ছাত্রদের পড়াশুনার ১০০০ টাকায় মাত্র ৭৫ টাকা চেয়েছিলাম, বেশি চাইনিতো?’ তখন আমরা দুঃখের হাসা-হাসি। ক্রোধে পাগল বলে গালি দেই তাঁকে কিন্তু অর্থমন্ত্রী দিন শেষে আমাদের দাম্ভিক গলায় জবাব দেন ‘জীবনের শ্রেষ্ঠ বাজেট ঘোষণা করেছি আমি’। আসলে কি তিনি তাঁর মেধা বুদ্ধি ও প্রজ্ঞা দিয়ে জনগণের জন্যে জনবান্ধব বাজেট ঘোষণা করতে পেরেছেন? অর্থমন্ত্রীকে সংসদে দাঁড়িয়ে এই প্রশ্ন করার মতো সৎ সাহসী কোন মন্ত্রীকে দেখলাম না।রবং টেবিল চাপড়িয়ে অভিবাধন জানালেন অনেকেই। এই লজ্জা কই রাখি?

অর্থমন্ত্রী বাজেট ঘোষণায় শ্রেষ্ঠ হলেও ব্যাংক লুটারদের ধরতে তার মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের কানাকড়িও দেখি নাই। যদি তিনি মেধা, বুদ্ধি আর বিচক্ষণতায় শ্রেষ্ঠ হতেন, তাহলে ড. আতিউর রহমানের মতো সৎ, সজ্জন গর্ভনারের পদত্যাদের দাবি তুলতেন না। তাঁর পদত্যাগে ব্যাংকিং খাতের ভবিষ্যত ইতিমধ্যে অর্থমন্ত্রী আরেক বার আমাদের জানান দিলেন। অর্থমন্ত্রীর চোখের সামনেই যখন ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়ে যায়, তখন তার মুখে শ্রেষ্ঠ বাজেট কথাটা কিভাবে আসে?

২০১০ সালে শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারিতে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা লুট হয়ে গিয়েছে। ডেসটিনি কেলেঙ্কারিতে প্রায় ৪ হাজার ২শ কোটি টাকা লুট হয়ে যায়।২০১২ সালে সোনালী ব্যাংকের সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার আজও কোন হদিছ মিলেনি। জনতা ব্যাংকের বিসমিল্লাহ গ্রুপ কেলেঙ্কারিতে অর্থ আত্মসাতের পরিমাণ প্রায় ১১ শ কোটি টাকা। ২০১৩ সালে বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে লোপাট হয় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা। সর্বশেষ বাংলাদেশ ব্যাংকের  রিজার্ভ চুরি ব্যাংকিং সেক্টরে সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারি। অর্থমন্ত্রী কবে আমাদের এই টাকাগুলো ফেরত দিবেন? এত এত কেলেঙ্কারির পরেও অর্থমন্ত্রী কিভাবে শ্রেষ্ঠ? অর্থমন্ত্রী কি বলবেন? অর্থমন্ত্রীর বাজেট সরকারের কাছে শ্রেষ্ঠ বাজেট হতে পারে, কিন্তু অজিতদের মতো ব্যাংকে লাখ টাকা জমানো জনগণদের কাছে নয়। যারা দিন শেষে স্বপ্ন দেখে সুন্দর আরেকটি দিনের তাদের স্বপ্নে এই বাজেট মরিচিকা ধরায়। আজ ব্যাংক ও গ্রাহকের সাথে অর্থমন্ত্রীর যে ৮০০ টাকার সম্পর্ক বাধিঁয়ে দিলেন, আমি নিশ্চিত যদি এই অর্থমন্ত্রী আর কবছর এই চেয়ারে বসে থাকেন, তাহলে ৮শ টাকা ৮ হাজার টাকা হতে বেশি দিন লাগবে না।

আমি আমার সেই বন্ধু অজিতকে বলেছি তুমিই জানো তোমার এই লক্ষ টাকা কিভাবে তুমি জমিয়েছ ব্যাংকে? কিন্তু অর্থমন্ত্রী তা জানেন না। জানতে চান ও না। তিনি শুধু তোমার এই এক লক্ষ টাকায় এখন মাত্র ৮০০ টাকাই পাবেন।

লেখক- সাংবাদিক ও লেখক।

উদ্যোক্তা ও সংগঠক, নো ভ্যাট অন এডুকেশন।

তারিখ: ০৯.০৬.২০১৭

কমেন্টস