‘প্রতিবাদমুখী সাংবাদিকতা তুলনামূলভাবে সহজ, দেশ গড়ার সাংবাদিকতা অনেক জটিল’ (ভিডিও)

প্রকাশঃ মার্চ ১৮, ২০১৭

সাংবাদিক, সাহিত্যিক, সমাজ সংস্কারক, রাজনীবিদ আবুল মনসুর আহমদ ১৮৯৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ জেলার ধানীখোলা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের ২১ দফার অন্যতম প্রণেতা। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে নির্বাচিত হয়ে প্রাদেশিক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৬ সালে আতাউর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী কোয়ালিশন মন্ত্রিসভায় শিক্ষামন্ত্রী এবং ১৯৫৬-৫৭ সময়কালে পাকিস্তান কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা—সোহরাওয়ার্দীর মন্ত্রিসভার শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণাদাতা। আজ ১৮ মার্চ তাঁর ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭৯ সালের এইদিনে তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

এই প্রথিতযশা ব্যক্তির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ১৫ মার্চ তাঁর সন্তান বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ইংরেজি ভাষার দৈনিক সংবাদপত্র ‘দি ডেইলি স্টার’ এর সম্পাদক ও  প্রকাশক মাহফুজ আনামের মুখোমুখি হয় বিডিমর্নিং। সন্তানের মুখে পিতার জীবন ও কর্ম এবং সম-সাময়িক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে বিডিমর্নিংকে তিনি বিশেষ সাক্ষাৎকার দেন ডেইলি স্টারে তার নিজ কার্যালয়ে। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন বিডিমর্নিং এর হেড অফ নিউজ ফারুক আহমাদ আরিফ। ক্যামেরায় ছিলেন মাজেদুল হক তানভীর ও আশ সাকির গাজী। আজ প্রথম পর্ব প্রকাশিত হলো।

ফারুক আহমাদ আরিফ: আবুল মনসুর আহমদ স্যারদের সময়কার সাংবাদিকতা ও বর্তমান সময়ের সাংবাদিকতায় গুণগত পার্থক্য কোথায়?
মাহফুজ আনাম: গুণগত পার্থক্য আমি বলবো কিছু নেই। কেননা সাংবাদিকতার যে আদর্শ অর্থাৎ সত্যের উদ্ঘাটন। সমাজের সেবা করা। মানুষের অভিব্যক্তি প্রকাশ করা। ক্ষমতার সামনে সত্যকে তুলে ধরা। মানবাধিকারের কথা বলা। যারা মাইনোরেটি গ্রুপস আছে তাদের স্বার্থে কথা বলা। অর্থাৎ সর্বাঙ্গিনভাবে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশকে সহায়তা করা। সরকারকে জবাবদিহিতার মধ্যে আনা। এগুলো তখনো সাংবাদিকতার উদ্দেশ্য ছিল এখনো আছে। তবে একটা পার্থক্য বড়। ঐ ধরনের ব্রিটিশ আমলের সাংবাদিকতায় একটি স্বাধীনতার ব্যাপার ছিল। অর্থাৎ এন্টি কলোনিয়ালিজম। সেখানে ভারতের স্বার্থ।  ভারতের স্বাধীনতা। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা। আমাদের সমাজের চেতনা বাড়ানো। যেমন তিনি কলকাতায় ত সাংবাদিকতা শুরু করেন। সেখানে কাজী নজরুল ইসলামের সাথে বন্ধুত্ব হওয়ার পর একসঙ্গে।

ফারুক আহমাদ আরিফ: মোজাফফর আহমেদ সাহেব।
মাহফুজ আনাম: জী। এখন ওখানে সাংবাদিকতার মধ্যে একটা অন্তর নিহিত বাণী ছিল ভারতের স্বাধীনতা ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে। আমাদেরও যদি ধরেন ১৯৪৭ থেকে ৭১ পর্যন্ত একটি বড় দায়িত্ব ছিল পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের স্বার্থ রক্ষা করা। ভাষা আন্দোলন। অর্থনৈতিক আন্দোলন। এগুলো সক্রিয়, অর্থনৈতিক উন্মেষ। সবকিছু সাংবাদিকতার অংশ হয়ে দাঁড়ায়। আমরা এখন আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশের যে সাংবাদিকতা সেটা মূলত দেশ গড়ার সাংবাদিকতা। ওখানে ছিল স্বাধীনতা। ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ আমলের ঔপনিবেশিক…।

ফারুক আহমাদ আরিফ: শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হওয়া?
মাহফুজ আনাম: শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হওয়া, পাকিস্তানের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হওয়া। স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা ধরে নিতে চাই আমরা শৃঙ্খল থেকে মুক্ত। দেশ এখনো আমরা সম্পূর্ণভাবে গড়ে তুলতে পারিনি। গণতন্ত্র অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। মানবাধিকার অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। আমাদের দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দিকে যাচ্ছি। এখানে সাংবাদিকতা এইটা বলতে পারেন যে একটা খুবই মৌলিক গুণগত পার্থক্য।

ফারুক আহমাদ আরিফ: এক সময় সিনিয়র সাংবাদিকরা জুনিয়র সাংবাদিকদের হাতে-কলমে ধরে ধরে শিখাতেন। এখন একটি অভিযোগ উঠে যে সিনিয়র সাংবাদিকদের সহযোগিতা খুব কম পান জুনিয়র সাংবাদিকরা। শুধু জারির উপরে রাখে। সেক্ষেত্রে স্যার আপনি জানেন যে, আবেদ খান সাহেবরা যখন ইত্তেফাকে ছিলেন সেখানে মানিক মিয়া, সিরাজুদ্দীন সাহেব হাতেগড়ে তুলেছেন। আপনি আরেকটি কথা বললেন যে, আবুল মনসুর আহমদ স্যার তিনি মোজাফফর আহমদ ও কাজী নজরুল ইসলামদের সাথে সাংবাদিকতা করছেন। তখন লোকদের গড়ে তোলার একটি ইচ্ছা ছিল। এখন প্রবীণরা নবীনদের সময় কম দিচ্ছে। এক্ষেত্রে কি নবীনদের আগ্রহ কম বা প্রবীণদের সময় স্বল্পতা?
মাহফুজ আনাম: না আমি এমন একটা সাধারণ অভিযোগ খুব সহজে নিতে পারছি না যে প্রবীণরা নবীনদের সময়। তখনকার বিষয়গুলো খোঁজ করলে দেখবেন যে কিছু সংখ্যক সিনিয়র সাংবাদিক নবীনদের সময় দিয়েছেন। আবার অনেকেই ছিলেন যারা দেননি। এখনো অনেক সাংবাদিক আছেন যারা নবীনদের সময় দেন আবার  কেউ কেউ দেন না। ঐ হাতে খড়ি দেওয়ার ব্যাপারটাতো ধরেন সভ্যতার দিক থেকে পরিবর্তন হয়ে গেছে। আগে যেমন (গুরু-শিক্ষক) গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক ছিল। স্কুলে আপনি দেখতেন গুরুরা…

ফারুক আহমাদ আরিফ: একই বই পড়াচ্ছেন।
মাহফুজ আনাম: বই পড়াচ্ছেন, পণ্ডিত মহাশয় বা আমাদের একজন শিক্ষক। সম্পর্কটা অনেক নিকটে ছিল। স্কুল ছোট ছিল। স্কুলের ছাত্র সংখ্যা কম ছিল। দেশের জনসংখ্যা কম ছিল (হাসি)। আমাদের জীবন এখন যে দ্রুততার সাথে এগোয়! আপনি আমি নিজেই ধরেন, আব্বার কথা কি বলবো? আমি যখন সাংবাদিকতা শুরু করি সেই ৭০ এর শুরুতে তখন আমরা সবাই টাইপ মেশিনে কাজ করতাম। সেই একটা কপি হাতে লেখতো। এখন কম্পিউটার শুধু নয় ইন্টারনেট হে। এই ধরেন যে ডেইলি স্টারে কলাম লেখে, আগে একটা কাগজে কলামিস্টরা ছিলেন ওই শহরের বাসিন্দা। ইনফেক্ট ঐ শহরের বাইরে থেকে কলাম লেখলে পোস্টে বাই পোস্ট পাঠাতে হতো। সেটা আবার ৭ দিন আগে পাঠাত। এখন আমার ডেইলি স্টারে কলাম লেখে সে কানাডায় বসবাস করে, সুইডেনে করে, জাপানে করে বিভিন্নস্থানে করে। এট দেয়ার অল রাইটিং ফর ডেইলি স্টার ঠিক আছে। আমি নিজে যখন অবজাভারে কাজ করি আমি এডিটরিয়াল পেজ বানাতাম ২৪ ঘণ্টা আগে। কেননা ওইদিনের কাগজের নিউজেজ পেইজগুলো বানানোর ক্ষমতা-দক্ষতা ছিল বিকোজ বানাতে হতো, কম্পোজ করতে হয়। তো এডিটোরিয়াল পেজ, পোস্ট এডিটোরিয়াল পেজ এগুলো আমি একদিন আগে তৈরি করতাম। আমি এডিটোরিয়াল পেজে কাজ করতাম। তো ২৪ ঘণ্টা আগে চিন্তা করেন।

ফারুক আহমাদ আরিফ: এটা কত সালে?
মাহফুজ আনাম: এটাতো ধরেন আমি অবজারভারে কাজ করতাম ১৯৭২ থেকে ৭৪ পর্যন্ত।

ফারুক আহমাদ আরিফ: আব্দুস সালাম স্যারের সাথে?
মাহফুজ আনাম: আব্দুস সালাম, খুব ইন্টারেস্টিং ঘটনা। সালাম সাহেবের সর্বশেষ এ্যাপয়েনমেন্ট ছিলাম আমি। উনি যেদিন আমাকে এ্যাপয়েনমেন্ট দেন পরের দিন আমি কাজে জয়েন করতে গিয়ে দেখি কি এক বিরাট একটা গ-গোল। আমার সেইটা মনেও নাই। আর তাকে তখনতো অবজারভার থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

IMG_9360

ফারুক আহমাদ আরিফ: স্যার কি জানি ছিল? সুপ্রিম আর্টিকেলটা, মানে ওনাকে তো ওই সম্পাদকীয় লেখার কারণে?
মাহফুজ আনাম: কিছু একটা ছিল। বলতে পারেন আমি তার লেখার মধ্যে সর্বশেষ নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি। হি হে হে..।

ফারুক আহমাদ আরিফ: আচ্ছা স্যার, আমরা যদি তৃণমূল সাংবাদিকতা এটা হচ্ছে দেশকে গড়ার সাংবাদিকতা। আপনি যে বললেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ পেয়েছি। দেশকে গড়ার সবচেয়ে সহজ ও ভালো ভূমিকা রাখে তা হচ্ছে তৃণমূূল সাংবাদিকতা। মোনাজাতউদ্দীনদের পরে ওই ধরনের বা মাপের তৃণমূল সাংবাদিক পাচ্ছি না। এই তৃণমূল সাংবাদিকতার প্রতিবন্ধকতা কোথায়? কেন গড়ে উঠছে না, তৈরি হচ্ছে না?
মাহফুজ আনাম: নাহ, মোনাজাতউদ্দীন সাহেব খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। আমি মনে করি তৃণমূল পর্যায়ে এখনো অনেক ভালো সাংবাদিক আছেন। এখন ধরুন বাংলাদেশে, সেদিন আমি ডেইলি স্টারে ২২ জন বিভিন্ন ডিসট্রিকের সম্পাদককে ঢাকায় আনছিলাম। এবং আমি তাদের কাছে শুনে স্তম্ভিত হয়ে গেলাম যে এক একজনের কাগজ ৩০ বছরের পুরানো, ২৫ বছরের পুরানো। কেউ কেউ ৩০ বছরের পুরানো কাগজে কাজ করছেন। তো তারা কীভাবে কাজ করছেন? তারা যদি শুদ্ধ সাংবাদিকতা না করে থাকেন? তাদের কাগজের সার্কুলেশন খুব ভালো সার্কুলেশন। আমি একটি প্রবণতা থেকে বিরত থাকতে চাই তা হচ্ছে সুইপিং কমেন্স। এখন তৃণমূল সাংবাদিকতা হচ্ছে না এটা যেমন ঠিক নয়। মোনাজাতউদ্দীন সাহেবদের মত খ্যাতিমানা ডিস্ট্রিক লেভেলের সাংবাদিক ছিলেন বলে অনেক হতো এমনটাও মানতে আমি রাজি না। উনি একজন অসাধারণ ব্যক্তি ছিলেন। কিন্তু ওই সময় আর কয়জন ব্যক্তি ছিলেন উনার মতো? আবার এখন উনার মতো ট্যালেনটেন্ড ব্যক্তি হয়তো নাই কিন্তু অনেক আছেন তৃণমূল সাংবাদিক। আর তৃণমূল সাংবাদিকতা আর শহরভিত্তিক সাংবাদিকতা এগুলোর পার্থক্য করাও আমি মনে করি অস্বাভাবিক ব্যাপার। এক. যেমন ধরুন তৃণমূল থেকে আমার একটা রিপোর্ট আনা প্রয়োজন। রিপোর্টিংয়ের জন্যে আমার তৃণমূল সাংবাদিকতা দরকার। কিন্তু দেশের রাজনীতি কোনদিকে প্রবাহিত হবে। দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমার নীতি কি হবে? শিক্ষানীতি কি হবে, স্বাস্থ্যনীতি কি হবে? নারী অধিকারের নীতি কি হবে? এইযে কয়েকদিন আগে বাল্যবিবাহের একটি নীতি…।

ফারুক আহমাদ আরিফ: ১৬ বছর।
মাহফুজ আনাম: হ্যাঁ, সরকার সেটা করলো। এগুলোত তৃণমূলভিত্তিক হতে পারে না। এগুলো হচ্ছে ন্যাশনাল ইস্যু। সেখানে আমার মনে হয় এই বিভাজনটা সঠিক নয়। আর আরেকটা যেটা আমি বলতে চাই, হয়কি আপনি যখন ফ্রিডম স্টাগল করছেন হে। আমরা যেমন ব্রিটিশ পিয়টে ঔপনেবিশক শাসনের বিরুদ্ধে অথবা পাকিস্তানের শাসনের বিরুদ্ধে। তখন এক সেন্সে সাংবাদিকতা কিন্তু সহজ। কি? আমি শত্রুরে খুব সহজ সুস্পষ্টভাবে চিহ্নিত। পাকিস্তানিরা আমার শত্রু। আমি বাঙালি আমার স্বার্থের সাথে তার ক্লেশ। অথবা ব্রিটিশ আমলে ব্রিটিশরা আমার শত্রু। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করা। সো আমি বলবো প্রতিবাদমুখী সাংবাদিকতা তুলনামূলকভাবে সহজ, দেশ গড়ার সাংবাদিকতা অনেক জটিল। সেখানে অনেক ধরনের ঘটনা ঘটে। সেগুলো বুঝতে হয়। যেমন আমি সিমপ্লি বলি আর কি। যেমন প্রাইভেট সেক্টরলেড ইকোনোমি ব্যাটার না নাকি সমাজতান্ত্রিক ইকোনোমি ব্যাটার? কো-অপারেটিভ ওনারশিপ ব্যাটার? নাকি একবারে সাদামাটা মালিক ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্যাটার? এগুলোতো বিতর্ক সবসময় চলবে। সেই বিতর্কের মধ্যে আপনাকে একটা দিকনির্দেশনা দিতে হবে। না আমি মনে করি ব্যক্তি মালিকানাধীন অর্থনৈতিক উন্নয়নটা সবচেয়ে ভালো। আবার সেটা যদি একেবারেই লাগামহীন হয়ে যায় তাইলে একটা জায়গায় খারাপ হয়। এই ধরনের যে জটিল ইস্যু রাজনীতিতে। ধরেন আমি অবশ্যই সবার স্বাধীনতা। যেমন আমি একটা বিষয় খুব ই করি আর সবার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। ধরেন কারো দাবিতে তারা রাস্তা বন্ধ করে বসে রইল হে। এক সেন্সে তার দাবিটা প্রকাশ করার অধিকার হচ্ছে গণতান্ত্রিক। বাট তুমি রাস্তা বন্ধ করে বসে রইলে।

ফারুক আহমাদ আরিফ: অন্যকে কষ্ট দেয়া।
মাহফুজ আনাম: ঢাকা শহরে রাস্তার ত অভাব। কিন্তু প্রায় দেখি রাস্তা বন্ধ করে একটা কিছু হচ্ছে। এইযে গুণগত পার্থক্যগুলো বের করে আনা। যে আমি স্বাধীনতাকে সম্মান করি, আপনার অধিকার আছে আপনার দাবিগুলো সমাজকে জানানো। কিন্তু আপনার সেই অধিকার কতটুকু? আপনি কতটুকু মতপ্রকাশ করতে গিয়ে অন্যান্য লোকের…।

ফারুক আহমাদ আরিফ: কষ্টের কারণ না হই।
মাহফুজ আনাম: কষ্টের কারণ হবেন। তো এগুলো দেশ গড়ার সাংবাদিকতার মধ্যে আসে।

ফারুক আহমাদ আরিফ: স্যার, ৩০ থেকে ৭০ দশক পর্যন্ত সাংবাদিকরা জনকল্যাণমুখি রাজনীতিতে সহযোগিতা করত?
মাহফুজ আনাম: আবার একটু বলেন?

ফারুক আহমাদ আরিফ: ৩০ থেকে ৭০ দশক পর্যন্ত সাংবাদিকরা জনকল্যাণমুখি রাজনীতিতে সহযোগিতা করত। আপনার আব্বু আবুল মনসুর আহমদ স্যার ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে ত্রিশাল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আবুল কালাম শামসুদ্দিনকে ই করে…।
মাহফুজ আনাম: পরাজিত করে।

ফারুক আহমাদ আরিফ: তারপর তিনি শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের শিক্ষামন্ত্রী, পরবর্তীতে ১৯৫৭ সালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
মাহফুজ আনাম: কেন্দ্রীয়, কেন্দ্রীয় সরকারের।

IMG_0896

ফারুক আহমাদ আরিফ: অর্থাৎ তখন সাংবাদিকরা রাজনীতিতেও সহযোগিতা করত। কিন্তু এখন সাংবাদিকরা রাজনৈতিক দলের কর্মীর মত আচরণ করছেন। এই যে পার্থক্যটা, এই পার্থক্যটা কেন?
মাহফুজ আনাম: না, আপনার তখনকার প্রেক্ষাপট ঐতিহাসিকভাবে, তিনি যখন রাজনীতি করেছেন তখন সাংবাদিকতা থেকে ইস্তফা দিয়ে রাজনীতি করেছেন। রাজনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে লেখেছেন। ধরুন তিনি পাকিস্তান হওয়ার আগে যে ইত্তেহাদ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ওইটা তখন আধুনিক কাগজের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ কলকাতা থেকে বের হতো। ওই কাগজটা ছিল অখ- বাংলার মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষার কাগজ। বাঙালি মুসলমানদের মুখপাত্র। এর আগে আজাদ ছিল। ত আমি আগে বললাম যে সংগ্রামী ভূমিকার কাগজের এক ধরনের, আপনি সংগ্রাম করছেন। স্বাধীনতা। ঔপনেবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করবেন ওইগুলো এক ধরনের সাংবাদিকতা হে। আর স্বাধীন বাংলাদেশে অন্য ধরনের সাংবাদিকতা। আর আমার আব্বা সাহিত্যিকও ছিলেন। সাহিত্য চর্চা করেছেন। উনি আইনজীবী হিসাবে উনার…।

ফারুক আহমাদ আরিফ: ৯ বছরের মতো ময়মনসিংহে…।
মাহফুজ আনাম: হে, উনি আইনজীবী, আইন পেশার মাধ্যমে ফ্যামিলি পেলেছেন। কিন্তু উনি আবার সাহিত্যিক ছিলেন। উনি সাংবাদিকতা করেছেন। সাংবাদিকতাকে ইস্তফা দিয়ে রাজনীতি করেছেন। ত উনি একটা বিশাল ব্যক্তিত্ব। এখন আমরা ধরেন, আমি সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছি এবং সারা জীবন আমি সাংবাদিকতাই করেছি। রাজনীতি করতে গেলে আমার উচিত হবে সাংবাদিকতাকে ইস্তফা দিয়ে রাজনীতি করা। সাংবাদিক থাকাকালীন রাজনীতি করতে গেলে তখন সাংবাদিকতার সঠিক কাজ হয় না। ত এইভাবে আমি দেখি পার্থক্য। আমি আপনার ওই কথার সাথে একমত হতে পারলাম যে ৩০-৭০ দশকের সাংবাদিকতা কি জানি, সমাজ?

ফারুক আহমাদ আরিফ: মানে সমাজকল্যাণমুখি।
মাহফুজ আনাম: আমাদেরও সাংবাদিকতা সমাজকল্যাণমুখি। আমি মনে করবো যে সঠিক ও সৎ সাংবাদিকতা সবসময় সমাজকল্যাণমুখি।

Advertisement

কমেন্টস