নিশানকে বাঁচতে হবে বিশ্বের জন্যে, সৃষ্টির উৎকর্ষসাধনে

প্রকাশঃ মার্চ ১৪, ২০১৭

ফারুক আহমাদ আরিফ-

শাহরিয়ার জাবের নিশান। নিশান মানে পতাকা। আর এই পতাকা অল্পকথায় অনেক পরিচয় বহন করে। এই ধরুন একটি দেশকে আপনি কীভাবে স্বল্প সময়ে চিনবেন? তার পতাকার দিকে তাকান। খুব কম সময়েই পেয়ে যাবেন পরিচয়। ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাদদেশে আ স ম আব্দুল রব সর্বপ্রথম বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকালেও সবার হাতে ছিল পতাকা। একটি স্বতন্ত্র পতাকার জন্যে বাঙালি ২৬৬ দিন যুদ্ধ করে পাকিস্তানের শৃঙ্খল থেকে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেন।

সেই পতাকা অার নিশান সমর্থক শব্দ। কিন্তু সেদিকে আমি যাচ্ছি না। বলছি শাহরিয়ার নিশানের কথা। যিনি নিজেই একটি পতাকা হয়ে উঠছেন সৃষ্টিশীল কাজের বিনিময়ে। নিশান ভাইকে চিনি ২০১৪ সাল থেকে। খুব কম কথা বলা একজন মানুষ। প্রথম দিকে দেখতাম স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ক্যান্টিনে সময় কাটানো একজন ব্যক্তি। যে কিনা কয়েকজন বন্ধু-বান্ধব নিয়ে বিভিন্ন বিষয়-আশয় নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। আমার সাথে কথা হতো কেমন আছেন? কি করছেন ইত্যাদি ইত্যাদি। একটি সময় তারা কয়েকজন বন্ধু মিলে সিদ্ধান্ত নিলেন একটি অনলাইন পোর্টাল খুলবেন। এই স্বপ্নের কথাটি যখন আমাকে জানালেন তাদের চিন্তাটিকে সাধুবাদ জানালাম। ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বিডিমর্নিং নামে একটি অনলাইন পোর্টালের যাত্রা শুরু হলো যেখানে কাণ্ডারির ভূমিকা রাখলেন নিশান। এখানে বাতাসের মতো ভূমিকা পালন করলেন তিনি। অতি অল্প সময়ে শুধু বাংলাদেশ নয় বিশ্বে এমন একটি গণমাধ্যম হয়ে দাঁড়াবে বিডিমর্নিং তা হয়তো বাঘা বাঘা গণমাধ্যমগুলোও চিন্তা করেনি।

কখন কি করছেন, কিভাবে করছেন, কতটুকু উন্নয়ন হচ্ছে সব কিছু জানাতেন। আর আমিও ইচ্ছা করে অনেক কিছু জিজ্ঞেস করতাম কেমন যেন একটি টান অনুভব করতাম। যেমন পিপাসিত মানুষের মতো। কেন এমন হতো তা আমার জানা নেই। তবে কেন যেন একটি আকর্ষণবোধ হতো। ভাবতাম একটি স্বপ্ন নিয়ে লোকটা এগিয়ে যাচ্ছে তাকে কিছুটা সহযোগিতা করা আমার দায়িত্ব-কর্তব্য। সেই থেকে নিশানের সাথে লেগে থাকা। আর এই যাত্রাপথে অনেক সময় হোচট খেতে হয়েছে। দু:খ পেতে হয়েছে। আঘাতে জর্জরিত হতে হয়েছে। তবু দেখছি নিশান এগিয়ে গেছে।

২০১৫ সালের ১৮ জুন বিডিমর্নিং এর সাথে কাজ করার জন্যে নিশান ভাইয়ের আমন্ত্রণে পত্রিকাটির অফিসে আসি। রাস্তা চিনি না। আমাকে পথ থেকে নিয়ে আসেন তিনি। ১৯ জুন কার্যক্রমে অংশ নিই। এখানে আমার প্রিয় কিছু মুখ বনি, মিলন আগে থেকেই কাজে সম্পৃক্ত। তাদের মিছিলে আমিও জড়িত হলাম। এখানে এসে কাজ যা না করি তার চেয়ে বেশি করি আন্দোলন। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত মহোদয় ৪ জুন জাতীয় সংসদে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীদের যাবতীয় ব্যয়ভাবের ওপর ১০ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করেন। এই ভ্যাটের বিরুদ্ধে আন্দোলন দাঁড় করাচ্ছি। বিভিন্ন বন্ধু-বান্ধবকে ফোন দিই। তাদের সাথে দেখা করি। আন্দোলন নিয়ে কথা বলি। জনমত গড়ে তুলি।

নিশান ভাইকে বললাম আমি আপনার এখানে কীভাবে কাজ করবো? তিনি বললেন কেন? বললাম আমাকে এই ভ্যাট আরোপের প্রতিবাদে আন্দোলন করতে বন্ধুরা সামনে চাচ্ছে। কিন্তু আপনার এখানে কাজ করবো কখন? আর আন্দোলনই করবো কখন? তিনি বললেন আপনি শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে জাতির জন্যে কাজ করেন। মাঝে মাঝে আমাদের এসে দেখে যাবেন।

সেই থেকে বিডিমর্নিং এ কাজের চেয়ে অন্য কাজে আমার সময় বেশি ব্যয় হতে থাকে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বিডিমর্নিং ছাত্রদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার। অতন্দ্রপ্রহরীর দায়িত্ব পালন করে। ভারতবর্ষে তিনটি গণমাধ্যমের তিনটি ইতিহাস আছে।

ইংরেজ তাড়িয়ে পাকিস্তান-ভারত সৃষ্টিতে আজাদ, পাকিস্তানের শোষণ ছিন্ন করে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় ইত্তিফাক আর শিক্ষায় ভ্যাট প্রত্যাহারে বাংলাদেশকে কলঙ্কমুক্ত করে বিডিমর্নিং।

অার বিডিমর্নিংয়ে যে মানুষটি ফুলের মাঝে মাটির ঘ্রাণের মতো লুকিয়ে থেকে কাজ করেছেন তিনি হচ্ছেন শাহরিয়ার নিশান। আন্দোলনের সংবাদ কোন গণমাধ্যম প্রকাশ করতে ভয় পেত। দেশের প্রথম শ্রেণির পত্রিকা, অনলাইন, টেলিভিশনসহ সবাই যখন ভয়ে অস্থির। কোন সংবাদ সম্প্রচার ও প্রকাশ করছে না ভয়ে। তখন নির্ভীকচিত্তে বিডিমর্নিং মাথা উচুঁ করে সংবাদ প্রকাশ করেছে। আন্দোলনে সাহস-সহযোগিতা করেছে। যেমনটা করেছিলেন ১৯৭১ সালে ইত্তেফাক পত্রিকা।

নিশানের কথা ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল সোনার বাংলা গড়ে তোলা। সেই সোনার বাংলায় শিক্ষায় ভ্যাট আরোপ হচ্ছে সেই স্বপ্নকে প্রসবকালে জরায়ুতেই হত্যা করা। একটি জাতির শিক্ষা ব্যবস্থায় যদি পণ্যে পরিণত করা হয় তবে সে জাতির ভবিষ্যৎ কেমন করে গড়ে উঠবে? সেই দুর্যোগের দিনে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা বাঁচাতে যিনি ছুরির নিচে মাথা পেতে দিয়েছিলেন তিনি নিশান।

নো ভ্যাট অন এডুকেশন আন্দোলনের অনেক মিটিং হয়েছে তার উপস্থিতিতে। অনেক কর্মসূচির রুপকার ছিলেন নিশান।

বাংলাদেশের উন্নয়নে যে গণমাধ্যমগুলো অসাধারণ ভূমিকা রেখে চলেছে তার মধ্যে বিডিমর্নিং সবার শীর্ষ। বান্দারবনের মানুষের ঘরে খাবার নেই। বিডিমর্নিং সংবাদটি প্রকাশ করলে সরকারের পক্ষ থেকে টনকে টন খাদ্য সরবরাহ করা হয়। বিটিভির লগো নষ্ট। বিডিমর্নিং এর সংবাদ প্রকাশ পাওয়ার পর তা মেরামত হয়ে যায়। রাজপথে হাঙামা। বিডিমর্নিং এ সংবাদ প্রকাশের পর তা সমাধান। কৃষক-শ্রমিক, মেহনতি মানুষের কথায় যার প্রতিটি অংশ ভরপুর সেটি বিডিমর্নিং।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাফল্য, অর্জন। বিডিমর্নিং এর পাতায় খচিত হয় আনন্দের হিল্লোল। অধিকার বঞ্চিত মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে ছুটে চলে বিডিমর্নিং এর মৌমাছিরা।

বাংলাদেশের কোন গণমাধ্যম টুইটারে সর্বপ্রথম ভ্যারিফাইড হয় সেটি বিডিমর্নিং। ফেসবুকে দুটি পেজ একসাথে ভ্যারিফাইড সেটি একমাত্র বিডিমর্নিং।

অনলাইন নিউজ পোর্টালে টেলিভিশনের মতো প্যাকেজ, ডকুমেন্টারি বাংলাদেশ নয় বিশ্বে বিডিমর্নিংই প্রথম। ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন অসাধারণ সব কাজ বিডিমর্নিংয়ে। আর এসব কাজগুলো যিনি আড়ালে থেকে করে যাচ্ছেন তিনি নিশান।

একটি গণমাধ্যমের সাথে মালিকপক্ষ আর সংবাদকর্মীদের অনেক সময় দা-কুমড়া সম্পর্ক থাকে কিন্তু বিডিমর্নিং তা থেকে মুক্ত। মালিকপক্ষ কখনো এসে বলেনি এই করতে হবে। এটা হলো না কেন? ওই কাজ কেন করলেন? কেন আমাদের বিপদে ফেললেন? বরং সবাইকে স্বাধীনভাবে সৎভাবে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। এতে করে প্রতিটি সংবাদকর্মী তার দায়িত্বের চেয়ে ৯০ ভাগ কাজ বেশি করে। একটি গণমাধ্যম ৩৭ লাখ পাঠক সংগ্রহ করে ফেলেছে মাত্র দেড় বছরে এরচেয়ে অবাক আর কি হতে পারে?

নিশানকে আমি প্রায়ই দেখি নাওয়া-খাওয়া বাদ দিয়ে কাজে ডুবে থাকে। মগ্ন থাকা। কখন সকাল হলো? সূর্য পশ্চিম আকাশে গিয়ে শান্তিতে ঘুমিয়ে পড়েছে। অথচ কাজ করে চলেছেন নিশান। অতিরিক্ত কাজের চাপে মাঝে মাঝে নিশান অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ক্লাস বাদ দিয়ে কাজ করছেন।

নিজের প্রাণের চেয়ে বিডিমর্নিংয়ের প্রাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে চলেছেন জাতীয়-আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। নিশানকে বাঁচতে হবে বিশ্বের জন্যে, সৃষ্টির উৎকর্ষসাধনে।

নিশান বিডিমর্নিং এর মালিকপক্ষকে যে সম্মানের স্থানে নিয়ে গেছেন নিজের সুখ, আনন্দকে বিসর্জন দিয়ে তার দ্বিতীয় কোন তুলনা আমি এখনো খোঁজে পাইনি। তবে নিশানের কিছু দুর্বলতাও আছে সেগুলো কাটিয়ে উঠতে হবে।  নিশান বেঁচে থাক সকলের হৃদয়ে। নিশান একটি সত্যিকার পতাকা হয়ে উঠুক আমাদের সকলের জীবনে। ১৩ মার্চ নিশানের জন্মদিনে আমাদের শুভেচ্ছা। পৃথিবীতে অসংখ্য নিশানের আবির্ভাব ঘটুক।

১৪ মার্চ-২০১৭, রাত ২টা ৮ মিনিট

 

Advertisement

কমেন্টস