কমেছে চালের দাম, বেড়েছে সবজির দাম

প্রকাশঃ মে ১২, ২০১৮

রায়হান শোভন।।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উৎপাদিত নতুন মৌসুমের চাল বাজারজাত শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে খাদ্যপণ্যটির আমদানিও স্বাভাবিক রয়েছে। এর জের ধরে স্থানীয় পাইকারি বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ২ থেকে ৪ টাকা কমেছে।

ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের ভাষ্য, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় সরকার দেশের ৫০ লাখ পরিবারকে ১০ টাকা কেজিতে মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এ ঘোষণার কারণেও চালের দাম কমছে। তাছাড়া বাজারে নতুন চাল আসার প্রভাবে চালের বাজারে কিছুটা স্বস্তি এসেছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন উচ্চমূল্যে স্থির থাকা চালের দাম কমতে শুরু করেছে।বাজারে বর্তমানে ভালো মানের মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৬২ টাকা কেজিতে, বাজারে নিয়মিত মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৫৭ থেকে ৫৮ টাকায় যা মাসখানেক আগে ৬০ থেকে ৬২ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বাজারে ৬২ টাকায় বিক্রি হওয়া নাজির বরররতমানে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। বিআর-২৮ বিক্রি হচ্ছে ৪৪ থেকে ৪৫ টাকায় যা মাসখানেক আগে বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকায়।

মোহাম্মদপুর টাউনহল বাজারের চালের ব্যবসায়ী ধীরেণ বাবু বিডিমর্নিংকে বলেন, বাজারে নতুন চাল এসেছে। তাই সবরকম চালের দাম কমতে শুরু করেছে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় সরকার দেশের ৫০ লাখ পরিবারকে ১০ টাকা কেজিতে মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এ ঘোষণার কারণেও চালের দাম কমছে।

এদিকে গত কয়েক সপ্তাহের মতো সবজি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাজারে টমেটো, লাউ, চিচিঙ্গা, ধুন্দল, করলা, পটল, ধেড়স, বরবটির সরবরাহ পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। তবে সব সবজির দাম চড়া। সবজির এ চড়া দামের ক্ষেত্রেও রোজাই কারণ হিসেবে জানিয়েছেন তারা।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া চিচিঙ্গার দাম বেড়ে ৬০-৭০ টাকা হয়েছে। একই দামে বিক্রি হচ্ছে ধুন্দল।

এদিকে গত দুই সপ্তাহ ধরে চড়া দামে বিক্রি হওয়া পেঁপের দাম এখনও চড়াই আছে। তবে বেগুন ও কাকরলের দাম কিছুটা কমেছে।

বাজার ও মান ভেদে বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ৮০ টাকা। আর ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া কাকরলের দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৬০-৭০ টাকায়। তবে পেঁপে আগের সপ্তাহের মতোই ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

চিচিঙ্গা, ধুন্দল, বেগুন, কাকরল ও পেঁপেই নয় বাজারে এখন সব সবজির দামই চড়া। সিংহভাগ সবজির কেজি ৫০ টাকার ওপরে। ৫০ টাকা কেজির নিচে শুধু করলা ও পটল মিলছে। তবে পেঁয়াজ, মরিচ, আলু, ডিম, রসুনের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

গত সপ্তাহে ৩৫-৪০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পটলের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বরবটি ও ঢেঁড়স আগের সপ্তাহের মতো ৫০-৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

দাম অপরিবর্তিত থাকা অন্য সসবজির মধ্যে- পাকা টমেটো ৪০-৫০ টাকা, করলা ৪৫-৫০ টাকা, উস্তে ৬০-৬৫ টাকা, গাজর ৪০-৫০ টাকা, শসা ৪০-৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

তবে লাল শাক, সবুজ ডাটা শাক, পাট শাক, কলমি শাক আগের সপ্তাহের মতো ৫-১০ টাকা আটি বিক্রি হচ্ছে। পুইশাক বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকায়। একই দামে বিক্রি হচ্ছে লাউ শাক।

এদিকে দেশি পেঁয়াজ আগের সপ্তাহের মতো ৪৫-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকা কেজি। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়।

কারোয়ানবাজারের ব্যবসায়ী সোহাগ বিডিমর্নিংকে বলেন, রোজার সময় সবজির দাম বাড়বে এটা নতুন কিছু না। প্রতিবারই রোজা আসলে সব সবজির দাম বাড়ে। এবার তার ব্যতিক্রম হয়নি।সাধারণত বাজারে সব সবজির দাম এক সঙ্গে বাড়ে না। প্রথমে একটা সবজির দাম বাড়ে, তারপর একটার পর একটা সজিবর দাম বেড়ে। এবার প্রথমেই দাম বেড়েছে পেঁপের। তবে আগে দেখেছি রোজা কেন্দ্র করে প্রথমে বেগুনের দাম বাড়তো। তারপর অন্য সবজির।

শাহানা নামের এক ক্রেতা বিডিমর্নিকে বলেন, রোজাকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই সবজিসহ সবরকম পণ্যের দাম বাড়ে। সরকার প্রত্যেকবার রমজানের আগে বড় বড় কথা বলে যে রমজানের সময় বাজার স্থিতিশীল থাকবে। কিন্তু প্রতিবার দেখা যায় দাম কমার বদলে বেড়ে যায়।

সোহেল নামের এক ক্রেতা বিডিমর্নিংকে বলেন, বাজারেতো সবকিছুর সরবারাহ ভালো দেখতে পাচ্ছি। মূলত একদল অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিই দাম বাড়ানোর জন্য দায়ীা

কমেন্টস