বিনিয়োগ তহবিলের শংকায় চট্টগ্রাম বন্দর

প্রকাশঃ জানুয়ারি ১১, ২০১৮

বিডিমর্নিং ডেস্ক:

চট্টগ্রাম বন্দরকে কিছু বিনিয়োগ তহবিল নিয়ে শংকায় পড়তে হচ্ছে । চট্টগ্রাম বন্দরের মজুদ টাকার বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মানা হয় না বিনিয়োগ নীতিমালা। এদিকে নেতিবাচক সংবাদের প্রেক্ষিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ৩টি ব্যাংকে বিনিয়োগকৃত সকল অর্থ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্যাংক ৩টি হচ্ছে ফারমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক লি. এবং এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক।

ফারমার্স ব্যাংকে থাকা প্রায় ১৭০ কোটি টাকা নিয়ে বেশি সংকটে পড়েছে চবক। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে এই ব্যাংক নিয়ে ব্যাপক কেলেঙ্কারির সংবাদে চবক তার বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে উত্কণ্ঠায় রয়েছে। ইতোমধ্যে ফারমার্স ব্যাংক থেকে ৫ কোটি টাকা চেয়ে পত্র দেওয়া হলে তারা ৫ কোটি টাকার একটি পে-অর্ডার প্রদান করে। কিন্তু পরবর্তীতে ওই পে-অর্ডার নগদায়নের জন্য ব্যাংকে জমা দিলেও তা নগদায়ন হয়নি।

ইতিপূর্বে বন্ধ হওয়া ওরিয়েন্টাল ব্যাংকে জমা টাকার সব এখনও ফেরত পায়নি চট্টগ্রাম বন্দর। তবে ওই ব্যাংককে নতুন নামে পুনর্গঠিত করার পর টাকার পরিবর্তে শেয়ার প্রদান করা হয়েছে বলে জানা যায়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (ফাইন্যান্স) কামরুল আমিন বলেন, পত্র-পত্রিকায় উপরোক্ত তিনটি ব্যাংক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রচার-প্রচারণা থাকায় এবং ফারমার্স ব্যাংকের চেক ফেরত আসায় আপাতত তিনটি ব্যাংক থেকে জমা টাকা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর সিবিএ’র যুগ্ম সম্পাদক মেজবা উদ্দিন জানান, তারা নির্বাচিত হওয়ার পর কর্তৃপক্ষের সাথে প্রথম বৈঠকে তাদের দাবি নামায় বন্দরের তহবিল এবং পেনশন ও প্রাইভেট ফান্ডের টাকা নিরাপত্তার স্বার্থে সরকারি ব্যাংকে রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার ফারমার্স ব্যাংকে ৩০ কোটি ও ৫ কোটি টাকার দু’টি চেক নগদায়নের জন্য স্বাক্ষর করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ কোটি টাকার বিনিয়োগ আমানতের মেয়াদ আগামী ২২ জানুয়ারি এবং ৫ কোটি টাকার বিনিয়োগ আমানতের মেয়াদ ২৪ জানুয়ারি উত্তীর্ণ হবে। এ দু’টি চেক নগদায়ন নিয়ে চবক দুশ্চিন্তায় রয়েছে বলে জানা যায়।

এদিকে গত মঙ্গলবার এনবিএল ব্যাংক থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ২১ কোটি টাকা নগদায়নের জন্য চেক সই করা হয়েছে বলে জানা যায়। এনবিএল ব্যাংকে এখনও বন্দরের প্রায় ৭০ কোটি টাকা জমা রয়েছে। এগুলোরও মেয়াদ উত্তীর্ণ সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে পুরো তহবিল নগদায়ন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান। এদিকে চবক কর্তৃক এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকেও প্রায় ৩০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে।

চবকের বিনিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংকের ক্যামেল রেটিং দেখে বিনিয়োগ করার নির্দেশনা রয়েছে। একইসাথে ফার্স্ট জেনারেশন, সেকেন্ড জেনারেশন ক্যাটাগরি করে তার ভিত্তিতে বিনিয়োগ করার বিষয় উল্লেখ রয়েছে। সাধারণত ফার্স্ট জেনারেশন ব্যাংকগুলো আর্থিক দিক ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দক্ষ। নীতিমালা অনুযায়ী একটি ব্যাংকের একটি মাত্র শাখায় এবং ওই শাখা নগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় বিনিয়োগ করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন ব্যাংকের ৫/৭টি পর্যন্ত শাখায় বিনিয়োগ তহবিল জমা রাখা হয়েছে।

জানা যায়, লবিং তদ্বির, আত্মীয় ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক এবং সর্বোপরি প্রভাব খাটিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বিনিয়োগ বিভিন্ন ব্যাংক ও শাখায় দেওয়া হয়ে থাকে। এমনকি দীর্ঘদিন ধরে একটি বেসরকারি ব্যাংকে চবকের বিনিয়োগ অঘোষিতভাবে বন্ধ রাখা হয়। জানা যায়, ৩ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি নিয়ে বিরোধের প্রেক্ষিতে ওই ব্যাংকে বিনিয়োগ বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে উক্ত ব্যাংকের প্রবর্ত্তক শাখায় দুই পর্যায়ে ১৫ কোটি টাকা জমা রাখা হয়। এটার সঙ্গে বন্দরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকতার আত্মীয় সম্পর্কীয় বিষয় জড়িত বলে জানা যায়।

কমেন্টস