ব্যাকটেরিয়ামুক্ত স্বাস্থ্যকর বাতাসের নিশ্চয়তা
আয়নাইজার প্রযুুক্তির এসি আনলো ওয়ালটন

প্রকাশঃ জুলাই ১৯, ২০১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক-

উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিত্য নতুন প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদনে নিয়মিত গবেষণা চালাচ্ছেন ওয়ালটন। গ্রাহকের চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে সর্বাধুনিক ফিচার সমৃদ্ধ ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্য তৈরি করছে ওয়ালটন। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের শুরুতে ওয়ালটন এয়ার কন্ডিশনারে সংযোজন করা হয়েছিল ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টার প্রযুক্তি। যা সাধারণ এসির তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী।

এবার ওয়ালটন এসিতে নতুন সংযোজন হচ্ছে- আয়নাইজার প্রযুক্তি। এটি ব্যবহারের ফলে রুমের বাতাস হবে ধূলা-ময়লা ও ব্যাকটেরিয়ামুক্ত। নিশ্চিত করবে স্বাস্থ্যকর শীতল বাতাস। আয়নাইজ এবং ইনভার্টার প্রযুক্তি সংযোজনের ফলে গতবছরের তুলনায় এবার ৫৭ শতাংশ বেশি এসি বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ওয়ালটন।

জানা গেছে, চলতি মাসেই বিশ্বের লেটেস্ট আয়নাইজার প্রযুক্তির এসি বাজারে ছেড়েছে ওয়ালটন। প্রথম ধাপে এই প্রযুক্তির ২৪ হাজার বিটিইিউ’র এসি বাজারে ছাড়া হয়েছে। যার দাম ধরা হয়েছে ৫৬ হাজার ৯’শ টাকা। এই প্রযুক্তির ১৮ হাজার বিটিইউ’র এসি শীঘ্রই বাজারে আসছে। এছাড়া চলতি মাসেই ক্রেতারা পাচ্ছেন ২৪ হাজার বিটিইউ’র ইন্টিলিজেন্ট ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি।

আয়নাইজার সম্পর্কে ওয়ালটন এসি সোসিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান মো. ইসহাক রনি বলেন, এটি একটি উচ্চ প্রযুক্তির ডিভাইস। যা নেগেটিভ আয়ন সৃষ্টি করে রুমের বাতাস থেকে ধূলা, ব্যাকটেরিয়া ও বাজে গন্ধ ফিল্টারিং করে নিশ্চিত করে স্বাস্থ্যকর ও বিশুদ্ধ বাতাস। এই প্রযুক্তিকে তিনি ‘লাং ডাক্তার’ নামে অভিহিত করেছেন।

ওয়ালটন কর্তৃপক্ষের দাবি- অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, সঠিক বিটিইউ (ব্রিটিশ থারমাল ইউনিট) ও আন্তর্জাতিক উচ্চমান, গোল্ডেন ফিনের ব্যবহার, সাশ্রয়ী মূল্য, ৬ মাসের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি, সর্বোচ্চ ৩৬ মাসের সহজ কিস্তিতে ক্রয়ের সুবিধা, দেশব্যাপী বিস্তৃত সেলস ও সার্ভিস পয়েন্ট থাকায় গ্রাহক পছন্দের শীর্ষে উঠে এসেছে ওয়ালটন এসি।

একসময় দেশের এসির বাজার ছিল পুরোপুরি আমদানি নির্ভর। ফলে, সঠিক বিটিইউ সম্পন্ন এসি পাওয়া ছিল দুষ্কর, অধিকাংশ এসি নিম্নমানের এবং দামও ছিল আকাশ ছোঁয়া। কিন্তু, গত কয়েক বছর ধরে ওয়ালটন দেশেই উচ্চমানের এসি তৈরি করায় তার সুফল ভোগ করছেন ক্রেতারা।

গাজীপুরের চন্দ্রায় নিজস্ব কারখানায় সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে মানসম্পন্ন এসি তৈরি করছে ওয়ালটন। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রপ্তানিও হচ্ছে। অত্যাধুনিক মেশিনারিজ স্থাপনের প্রেক্ষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আনুষঙ্গিক কাঁচামাল নিজস্ব কারখানায় তৈরির ফলে উৎপাদন খরচ কমেছে বহুলাংশে। ফলে বাজারে এসির দাম কমে এসেছে।

ওয়ালটন এসি বিপণন বিভাগের প্রধান আব্দুল বারী বলেন, চলতি বছর এসির সিংহভাগ বাজার দখলে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৫৭ শতাংশ। বাজারে ছাড়া হয়েছে দেশের আবহাওয়া উপযোগী অসংখ্য মডেলের এসি। এর মধ্যে রয়েছে ১৮ হাজার বিটিইউ’র ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি। যার মূল্য ধরা হয়েছে ৬৫’হাজার টাকা। চলতি মাসেই ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টার প্রযুক্তির ২৪ হাজার বিটিইউ’র এসিও আসছে।

বাজারে ৩৫ হাজার টাকায় ১০,৫০০ বিটিইউ’র, ৪৩,৯০০ টাকায় ১৭,২০০ বিটিইউ ও ৫৪,৬০০ টাকায় ২১,০০০ বিটিইউ’র ওয়ালটন ব্র্যান্ডের এসি পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশে প্রথমবারের মত এসির কনডেনসারে অ্যান্টি করোসিভ হাইড্রফিলিক গোল্ডেন কালার ফিন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে ওয়ালটন। এতে এসির স্থায়ীত্ব আরো বাড়বে।

এ প্রসঙ্গে ওয়ালটন আরএন্ডডি বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী তাপস কুমার মজুমদার বলেন, গোল্ডেন ফিন হলো এসির কনডেন্সারে হিট এক্সেঞ্জারের পৃষ্ঠতলে ক্ষয় ও মরিচারোধক হাইড্রফিলিক আবরণ। যা ধুলো, ময়লা, বাতাসের আর্দ্রতা ও উষ্ণতার কারণে সৃষ্ট ক্ষয় রোধ করে। সেইসঙ্গে তা কনডেন্সারে হিট এক্সেঞ্জারের স্থায়িত্ব ও কার্যকারীতা বাড়ায়। এটি ব্যবহারের ফলে ক্রেতাকে ঘনঘন এসি পরিষ্কার বা মেরামতের ঝামেলা পোহাতে হয় না।

ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টার প্রযুক্তি সম্পর্কে তিনি বলেন, ইনভার্টার প্রযুক্তির এসিতে সেন্সর থাকায় ঘরের ভেতরের তাপমাত্রা বুঝে সেই অনুযায়ী রেফ্রিজারেন্ট সরবরাহ করে এবং ঘর ঠান্ডা হয়ে গেলে কম্প্রেসার ঘুমন্ত অবস্থায় থাকে। প্রয়োজন অনুযায়ী তাপমাত্রা সরবরাহ করে বিধায় এতে বিদ্যুৎ খরচ অনেক কম হয়। কম্প্রেসারের স্থায়ীত্বও বাড়ে।

উল্লেখ্য, ওয়ালটনের রয়েছে এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ আরএন্ডডি (উন্নয়ন ও গবেষণা) কেন্দ্র। অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি এয়ারকন্ডিশনার নিয়েও প্রতিনিয়ত গবেষণা হচ্ছে। দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীরা আবহাওয়া স্ট্যান্ডার্ড, সাশ্রয়ী মূল্যে বেশি কার্যকর এসি তৈরির জন্য গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। কঠোরভাবে কিউসি বা কোয়ালিটি চেক করা হচ্ছে।

Advertisement

কমেন্টস