Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২০ বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৫ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

স্বামীকে হত্যায় ডাক্তার স্ত্রীর স্বীকারোক্তি; মাথা ফেলে ডাস্টবিনে, তোষকে রাখে দেহ!

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট ২০১৮, ১২:৫৬ PM আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০১৮, ১২:৫৬ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক-

চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানার ফয়’স লেকের লেকভিউ আবাসিক হোটেলে স্বামী মাঈনুদ্দিন ওরফে শাহরিয়ার শুভ (২৯)  হত্যায় স্বীকারোক্তি দিয়েছেন ডা. রোকসানা আক্তার (২২)।

গত বৃহস্পতিবার (১৬ আগস্ট) চীন থেকে দেশে ফেরেন পপি। বিকেলে স্বামী-স্ত্রী দু’জনে ওঠেন ফয়স লেকের লেকভিউ আবাসিক মোটেলে। মধ্যরাতে মোটেলের ২০৩ নম্বর কক্ষে মেলে স্বামী শুভর গলাকাটা মরদেহ। এরপরই আটক করা হয় স্ত্রীকে।

জিজ্ঞাসাবাদে ডা. রোকসানা আক্তার পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন,সুদূর চীনে বসেই সাবেক স্বামী মাঈন উদ্দিন ওরফে শাহরিয়ার শুভকে খুনের পরিকল্পনা করেন স্ত্রী। ফেসবুকে অশ্লীল ছবি ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষোভ থেকে ছুরি ও চাপাতি দিয়ে শুভকে গলাকেটে হত্যার পর দেহ থেকে মাথাটি পৃথক করেছেন তিনি। এই হত্যার জন্য শুভ’র টাকায় চীন থেকে দেশে আসেন তিনি।

সে মোতাবেক ১৫ই আগস্ট দেশে এসে ১৬ই আগস্ট বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর ফয়’স লেক লেকভিউ আবাসিক হোটেলে শুভকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মাথাটি ফেলা হয় হোটেলের ডাস্টবিনে, আর দেহ তোষক মুড়িয়ে খাটের উপর ঢেকে রাখা হয়। এরপর ফের বিদেশ পাড়ি দেয়ার প্রস্তুতি নেন ডা. রোকসানা আক্তার। তবে তার আগেই চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আটক হন তিনি। এমন তথ্য জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের খুলশি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. নাসির উদ্দিন। তিনি জানান, খুনের কাজে ব্যবহৃত একটি ছুরি ও চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে রোকসানার মা নাছিমা আক্তারকেও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শুক্রবার সকাল আটটার দিকে আটক করা হয় মা নাছিমা আক্তারকে। বৃহসপতিবার দিনগত রাত দুইটার দিকে ডা. রোকসানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে চট্টগ্রাম মহানগরের ২ নম্বর গেট আল ফালাহ গলির মুখ থেকে।

নগরীর ফয়’স লেক এলাকার লেকসিটি মোটেল ম্যানেজার মো. ইলিয়াছ জানান, ডা. রোকসানা আক্তার ও মাঈন উদ্দিন ওরফে শাহরিয়ার শুভ ১৫ই আগস্ট বুধবার দিনগত রাত দেড়টার সময় হোটেলে আসেন। স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে তারা একটি কক্ষ ভাড়া নেন। তিনি জানান, বৃহসপতিবার দুপুরের দিকে রোকসানা একা হোটেল থেকে বের হয়ে ঘণ্টা খানেক পর ফিরে আসেন। এরপর রাত নয়টা থেকে সাড়ে নয়টার দিকে ডা. রোকসানা আবার তড়িঘড়ি করে বের হচ্ছিলেন। এ সময় কোথায় যাচ্ছেন জিজ্ঞাসা করলে রোকসানা জানান, একটি টেইলার্সে কিছু ড্রেস সেলাই করতে দিয়েছি, সেগুলো আনতে যাচ্ছি। কাল শুক্রবার, কিছুক্ষণ পর দোকান বন্ধ করলে আর নিতে পারবো না।

মো. ইলিয়াছ জানান, রাত ১২টার দিকেও যখন ডা. রোকসানা ফিরেনি, তখনই পুলিশকে খবর দিই। আর পুলিশ এসে বাহির থেকে তালাবদ্ধ কক্ষটি খুলে লাশ উদ্ধার করে।

নিহতের বড় ভাই মো. জাফর উদ্দিন বলেন, রোকসানা আক্তার পপি সমপর্কে মামাতো বোন। তারা ভাড়া বাসা নিয়ে থাকে নগরীর ২ নম্বর গেট আল ফালাহ গলির রশিদ ভবনে। গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানার মেহেদী নগর গ্রামে। তার বাবার নাম আবু আহম্মদ। তিনি বলেন, আমাদের বাড়ি ছাগলনাইয়া জয়পুর বালুর চর এলাকায়। গ্রামের বাড়িতে যাওয়া আসার সুবাধে স্কুল জীবনেই শুভ’র সঙ্গে প্রেমের সমপর্কে জড়িয়ে যায়। ২০১২ সালে আমাদের কাউকে না জানিয়ে তারা দুইজন কোর্টে গিয়ে বিয়ে করে। জাফর বলেন, বিয়ের খবর জানাজানি হওয়ার পর পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ায় রোকসানার মা নাছিমা বেগম। এরপর থেকে রোকসানার জীবন থেকে সরে যাওয়ার জন্য শুভকে একের পর এক হুমকি দিতে থাকে। ২০১৪ সালে নাছিমা বেগম রোকসানাকে বাধ্য করে শুভকে তালাক দিতে। এরপর রোকসানাকে ডাক্তারি পড়তে পাঠিয়ে দেয়া হয় চীনে।

জাফর বলেন, গত দেড় থেকে দুই মাস আগে রোকসানা আবার শুভকে ফোন করা শুরু করে। পরে দেশে আসবে বলে টাকা চায়। শুভ দেশে আসা-যাওয়ার বিমান টিকিট ও তার কেনাকাটার জন্য দুই লাখ টাকা পাঠিয়ে দেয়। সে টাকা পেয়ে দেশে এসে মাত্র একদিনের মাথায় খুন করে শুধু তার জীবন থেকে নয়, পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিয়েছে।

জাফর বলেন, শুভ জয়দেবপুর সরেজমিন উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পর্যন্ত পড়েছে। জয়দেবপুর ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সমপাদক ছিল শুভ। স্থানীয়ভাবে সে একজন বালু ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। থানায় দায়ের করা মামলায় মো. জাফর উদ্দিন উল্লেখ করেছেন, গত ১৫ই আগস্ট হযরত শাহজাহালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামে রোকসানা। বিকাল তিনটার দিকে শুভ রোকসানাকে রিসিভ করে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয়। রাত দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশির ফয়’স লেকসিটি মোটেল ফাইভের দ্বিতীয় তলার ২০৩নং কক্ষ ভাড়া নিয়ে ওঠে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী শুভকে ঘুমের মধ্যেই ধারালো ছুরি ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে খুন করে। এরপর মাথা হোটেল কক্ষের রক্ষিত ডাস্টবিনে এবং দেহ তোষক দিয়ে মুড়িয়ে খাটের উপর ঢেকে রাখে।

জানা যায়, চীনে অবস্থানের সময় বিভিন্ন কারণে পপির সঙ্গে শুভর সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায়। আবার এরই মধ্যে মিরসরাই এলাকায় অপর এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন পপি। এ নিয়ে পপির সঙ্গে শুভর বিরোধ চূড়ান্ত রূপ নেয়। এ নিয়ে শুভ বেশ কয়েকবার পপির ওই ‘কথিত’ প্রেমিককে খুঁজে বের করতে মিরসরাইতে যান। পরে তার চাপে পপি বৃহস্পতিবার দেশে আসতে বাধ্য হন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে পপি ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে শাহরিয়ার তার এক বন্ধুকে নিয়ে প্রাইভেটকারযোগে ঢাকায় যান। পরে বন্ধুকে প্রাইভেটকারসহ ছেড়ে দিয়ে শুভ পপিকে নিয়ে আলাদাভাবে বাসে করে চট্টগ্রাম ফেরেন। পরে বিকেলে তারা ফয়স লেকের লেকভিউ মোটেলে ওঠেন।

নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (বায়েজিদ বোস্তামি জোন) সোহেল রানা বলেন, পপির সাথে চার বছর আগে মাঈনুদ্দিনের গোপনে বিয়ে হয়। পরে মেয়েটি ডাক্তারি পড়ার জন্য চীনে যায়। জিজ্ঞাসাবাদে পপি জানিয়েছেন, দুই বছর ধরে তাদের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না। চীনে যাওয়ার পর থেকে তার নানা অশ্লীল ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন মাঈনুদ্দিন। এর জের ধরে পপি দেশে ফিরে একাই মাঈনুদ্দিনকে জবাই করে হত্যা করেছেন।

Bootstrap Image Preview