অনেকের ঈদ যেন এরকমই!

প্রকাশঃ জুন ১৭, ২০১৮

রিয়াজ রহমান।।

ঈদ শব্দটির মধ্যেই কেমন যেন অন্য রকমের আনন্দ-উচ্ছ্বাস কাজ করে। ধনী- গরিবের ভেদাভেদ ভুলে সবাই বুকে টেনে নেয় এক অপরকে। ঈদ উল-ফিতর; দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আজকে মহাআনন্দের এ ঈদ। ঈদের কথা বলতে গেলেই মনে পড়ে দেশের কথা।

গত ঈদেও দেশে ছিলাম অথচ আজকে হাজার মাইল দূরে আফ্রিকার এক দুর্গম অঞ্চলে। এ খানে সভ্যতার কোনো আলো নেই, নেই কোনো ঈদের আমেজ। ঈদের নামাজ পড়ার অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু দায়িত্বের খাতিরে সেটা আর সম্ভব হয়ে উঠেনি। বুকের ভিতর কেমন যেন হাহাকার লাগছে পরিবার পরিজন ছেড়ে, বিশেষ করে বাবা-মা এবং দেশে রেখে আসা সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর জন্য।

গত ঈদে মা নিজের হাতে পায়েস-সেমাই খাইয়ে দিয়েছিল আর ওখানে তখন পর্যন্ত এক গ্লাস পানিও খেতে পারিনি। এগুলা ভাবতে ভাবতে চোখ কেমন যেন লাল হয়ে যাচ্ছিলো! হঠাৎ খবর এলো আমি বাবা হয়েছি। স্ত্রীর কোল আলো করে এক ফুটফুটে ছেলে হয়েছে। কত যে আনন্দ হচ্ছিল, ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না।

শুধু আলহামদুলিল্লাহ্‌ বলে যাচ্ছিলাম। আনন্দে আমি আত্মহারা হয়ে যাচ্ছি হঠাৎ বুলেট এসে বুকে লাগলো, কিছু বুঝার আগেই আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে গেলাম।শান্তিরক্ষীরা পাল্টা আক্রমন শুরু করেছে, আমাকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীরা। কিন্তু প্রচণ্ড গোলাগুলির কারণে আমার কাছে আসতে পারছে না।

আমার খুব কষ্ট হচ্ছিলো বাবা মায়ের কথা ভেবে, সদ্যজন্ম নেওয়া সন্তানের কথা ভেবে, স্ত্রীর কথা মনে করে। তবে কি আমি আমার সন্তানের মুখ দেখতে পারবো না? আমার সন্তান তার বাবাকে দেখতে পারবে না?

অক্সিজেন নিতে পারছিলাম না, মনে হচ্ছিল হয়তো তখনই মারা যাব। তবে মায়ের কোলে মাথা দিয়ে যদি মরতে পারতাম কিন্তু এটাও কম কিসের? অনেকের ঈদ যেন এরকমই!

লেখক

বিতার্কিক, ট্রাস্ট কলেজ।

কমেন্টস