রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসের চিত্র

প্রকাশঃ জুন ১২, ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

বাংলাদেশে মায়ানমার ফেরত রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে ভূমিধসের ফলে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে চলছে। ভূমিধসের যে আশংকা ত্রাণকর্মীরা পূর্বেই করছিল, ভূমিধসের মাধ্যমে তার সত্যতা প্রমাণিত হলো। শরণার্থী শিবিরগুলোতে ভূমিধসে অন্তত পাঁচশো লোক আহত হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের তূর্কি পাহাড়ে পাহাড়ধরেসর এই ঘটনা ঘটে। কিছুক্ষণ আগে বিডিমর্নিং এর নিজস্ব প্রতিবেদকের পাঠানো চিত্র থেকে পাহাড়ধসের ভয়াবহ ব্যাপারটি আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

যারা হতাহত হয়েছে, তাদেরকে পাশ্ববর্তী  রেডক্রস হাসপাতালে চিকিৎসার জন্যে পাঠানো হয়েছে। গত এক সপ্তাহ থেকে মুসুলধারে বৃষ্টি হওয়ায় উখিয়ার কুতুপালং বালুখালি ক্যাম্পের বসবাসরত রোহিঙ্গারা ভূমিধসের ভীতিতে রাতে ঘুমাতে পারছে না। অনেকেই আটকা পড়েছেন নিজের বসতভিটায়। দিনের বেলায় বৃষ্টিত ভিজে চলাচল করা সম্ভব হলেও রাতের বেলায় জীবন একেবারে স্থবির হয়ে পড়ছে অনেক জায়গায়।

ভূমিধসের ব্যাপারে জানতে চাইলে বালুখালি ক্যাম্পে অবস্থানরত আনসারউল্লাহ বলেন, গতকাল পাহাড়ধরেস ঘটনার কথা আমরা শুনেছি। কিন্তু ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও মানুষ হতাহতের সঠিক তথ্য আমরা বলতে পারবো না। আমরা রাতে ভয়ে ঘুমাতে পারি না।

তবে একটা বিষয়ে মোটামুটি সবাই ভয়ে আছে, সেটি হলো বর্ষাকাল শুরু হলে ক্যাম্পের নির্ম্নাঞ্চলগুলোতে ঘর বাড়ি তলিয়ে যাওয়ার সম্ভবনা আছে। এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হবার আশঙ্কা রয়েছে।

কোন কারণে যদি রাস্তাঘাট ভেঙ্গে যায়, তাহলে এই সকল এলাকতে ত্রাণকার্যক্রমও পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। তখনও বন্দিদশায় মায়ানমার থেকে ফেরত আসা রোহিঙ্গাদের প্রাণহানির সম্ভবনা রয়েছে।

 

তবে পাহাড়ের গঠন অনুযায়ী সেভাবে বাড়িঘর তোলা হয়নি তাই ধরেস আশঙ্কা আরো বাড়িয়ে যেতে পারে। বিভিন্ন সময় অপরিকল্পিতভাবে পাহাড়ের বিপজ্জনক স্থানে ঘর বা বসতি নির্মাণের ফলে পাহাড়ের ভারসাম্য বাজায় থাকছে না। ফলে মানুষের সৃষ্টি করা বিভিন্ন গর্তে  জল জমে পাহাড় ধরে পড়ছে। এভাবে বর্ষার শুরতেই যেই পাহাড় ধসের ঘটনা শুরু হয়েছে পুরো বর্ষায় তা আরো ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

কমেন্টস