রাজীবের দুই ভাইয়ের শিক্ষার দায়িত্ব নেবে সরকার

প্রকাশঃ এপ্রিল ১৮, ২০১৮

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

রাজধানীতে দুই পরিবহনের রেষারেষিতে ডান হারিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া রাজীবের দুই ভাইয়ের শিক্ষার দায়িত্ব নিতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। আজ বুধবার সচিবালয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।

রাশেদ খান মেনন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় সদ্যপ্রয়াত রাজীবের দুই ভাইয়ের শিক্ষার দায়িত্ব নিতে চায় তার মন্ত্রণালয়। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা রাজীবের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। যদি তার পরিবার রাজি হয় তাহলে তাদের মিরপুরের শিশুপল্লীতে রেখে শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, রাজীব নামের একটি ছেলে অতি কষ্টে লেখাপড়া করে ছোট দুটি ভাইয়ের লেখাপড়ার খরচ জোগাচ্ছিল। কিন্তু দুটি বাসে সংঘর্ষের কারণে এতিম ছেলেটি (রাজীব) হাত হারায়। সবাই আশা করেছিল অন্তত ছেলেটি বেঁচে যাবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার চিকিৎসার দায়িত্বও নিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা তাকে রক্ষা করতে পারিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা গণমাধ্যমে জানতে পেরেছি যে, তারা দুটি ভাই অসহায় অবস্থায় আছে। আমরা তাদের খোঁজ নিয়েছি। তারা রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মীর হাজীরবাগের একটি মাদরাসায় লেখাপড়া করছে। ইতোমধ্যে আমাদের সমাজকল্যাণ অধিদফতরের ডিজি তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আমরা তাদের পরিবারের নিকট আমাদের প্রস্তাব পাঠিয়েছি। তারা যদি সম্মত হন তাহলে আমাদের যে শিশু পরিবারগুলো রয়েছে, মিরপুরে যে শিশু পরিবার রয়েছে সেখানে তাদের আমরা স্থানান্তরিত করব। শুধুমাত্র এসএসসি নয়, এর পরবর্তী লেখাপড়া চালানোর ক্ষেত্রে আমরা দায়িত্ব নেব। পাশাপাশি আমাদের যে বিভিন্ন ট্রেড রয়েছে যেমন কম্পিউটার, দর্জির কাজসহ হাতের অন্যান্য কাজ, সেখানে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে পূনর্বাসিত করব।’ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খন্দকার আতিয়ার রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল রাজধানীর কারওয়ান বাজারের পান্থকুঞ্জ পার্কের সামনে বিআরটিসি বাসের সঙ্গে স্বজন পরিবহনের বাস টক্কর দিতে গেলে দুই বাসের চাপায় পড়ে ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় রাজীবের।

পরে তাকে তাৎক্ষণিক নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ও হাসপাতালে  ভর্তি করা হয়।

সেখানে সরকারের তত্ত্বাবধানে রাজীবের চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু গত সোমবার (১৬ এপ্রিল) দিনগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

মঙ্গলবার দুপুরে জোহর নামাজের পর হাইকোর্ট মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ঢাকা থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে মরদেহ পটুয়াখালীর বাউফলে নেয়া হয়। সেখানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। শৈশবে মা-বাবাকে হারিয়ে মতিঝিলে খালার বাসায় থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেন তিনি। তিন ভাইয়ের মধ্যে রাজীব সবার বড়। ছোট দুই ভাই বাপ্পি অষ্টম শ্রেণি এবং হৃদয় ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।

কমেন্টস