রাত পেরুলেই এইচএসসি পরীক্ষা, ফেসবুকে মিলছে ‘প্রশ্ন’

প্রকাশঃ এপ্রিল ১, ২০১৮

ইসতিয়াক ইসতি।।

আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি ও সমমমানের পরীক্ষার প্রশ্ন নিয়ে আবারো ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় হয়ে উঠেছে কয়েকটি চক্র৷ ফেসবুকে একাধিক গ্রুপ শতভাগ সঠিক প্রশ্নপত্র দেওয়ার দাবি জানিয়ে পাবলিক ও সিক্রেট গ্রুপে গ্রুপে প্রচারণা চালাচ্ছে তাঁরা। কিন্তু শিক্ষা বোর্ডের দাবি কোনোভাবেই প্রশ্ন ফাঁস হবে না৷ আর যা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে তা পুরোটাই ভিত্তিহীন ও ভুয়া।

এদিকে গেল মার্চ মাসের শেষ থেকেই দেখা যাচ্ছে, ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপ (পাবলিক বা সিক্রেট) খুলে সঠিক প্রশ্ন বেচার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে একটি মহল। অপরদিকে সঠিক প্রশ্ন কেনার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের একটি অংশ।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমারের সাথে এই এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিডিমর্নিং-কে বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে আমাদের একটি বিশেষ টিম কাজ করছে। তা ছাড়া এবার কোনোভাবেই প্রশ্ন ফাঁস করা সম্ভব হবে না।

তিনি আরো বলেন, প্রশ্নফাঁসরোধে আমাদের পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের একটি দল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় কাজ করছে।

সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, পরীক্ষায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ঠেকাতে সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁসের কোনো সুযোগ থাকবে না।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, পরীক্ষা শুরুর মাত্র ২৫ মিনিট আগে সেটকোড জানিয়ে দেওয়া হবে। পরীক্ষার দিন সকালে কলেজগুলোকে ট্রেজারি থেকে প্রশ্ন সংগ্রহ করতে হবে। আর ট্রেজারির নিকটবর্তী কলেজগুলোতে মাত্র আধঘণ্টা বা ১ ঘণ্টা আগে প্রশ্ন সংগ্রহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর পরীক্ষা চলাকালীন সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ে থাকবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া সম্প্রতি এক সেমিনারে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম-কমিশনার (ক্রাইম) শেখ নাজমুল আলম বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রশ্ন ফাঁস রোধ করার বিষয়ে বিটিআরসির সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফেসবুক মনিটরিং করার যন্ত্রও আমাদের নেই। রাজনৈতিক বিবেচনায় পরীক্ষার কেন্দ্র বরাদ্দ দেওয়া, সন্তানকে অনৈতিক সুবিধা দিতে অভিভাবকদের ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পাইয়ে দেওয়াসহ প্রশ্ন ফাঁসের জন্য নানা কারণকে তিনি দায়ী করেছেন।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় সারাদেশে অংশগ্রহণ করবে ১০টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৫৭ পরীক্ষার্থী। যা গত বছরের তুলনায় ১ লাখ ২৭ হাজার ৭৭১ পরীক্ষার্থী বেড়েছে। বৃদ্ধি হার ১০ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এবার ছেলেদের তুলনায় মেয়ের সংখ্যা কম। ছেলে ৬ লাখ ৯২ হাজার ৭৩০ এবং মেয়ে ৬ লাখ ১৮ হাজার ৭২৮ জন। মন্ত্রণালয়সূত্রে এমনটাই জানা গেছে।

কমেন্টস