Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৯ বুধবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

নেপালে যাওয়া হলেও পালন করা হলো না বিবাহবার্ষিকী

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ মার্চ ২০১৮, ১০:০৯ PM আপডেট: ১৩ মার্চ ২০১৮, ১০:০৯ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক-

১৭ মার্চ ছিল শশি-শাওনের সপ্তম বিবাহবার্ষিকী। আর এই দিনটিই সুন্দরভাবে উপভোগ করতে হিমালয়কন্যা নেপালে বেড়াতে গিয়েছিল তারা। কিন্তু হিমালয়ের কন্যা তাদেরকে বরণ করেনি, স্বরণীয় করে রাখতি পারেনি নিজেদের সপ্তম বিবাহবার্ষিকী। গতকাল সোমবার নেপালের কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত সব স্বপ্ন চুরমার করে দিয়েছে। আর কোনদিন বিবাহবার্ষিকী পালন করবে না তারা। 

দুর্ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের ছাত্রী তাহিরা তানভীন শশি না ফেরার দেশে এখন। তার স্বামী চিকিৎসক রিজওয়ানুল হক শাওন গুরুতর আহত অবস্থায় নেপালে চিকিৎসাধীন।

তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেপাল থেকে সিঙ্গাপুরে অথবা থাইল্যান্ড নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে পরিবারের লোকজন এখন নেপালে অবস্থান করছেন। বুধবার তাকে নেপাল থেকে নিয়ে যাওয়া হতে পারে।

এ তথ্য জানিয়েছেন চিকিৎসক রিজওয়ানুল হক শাওনের বাবা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপপরিচালক ডা. মোজাম্মেল হক মানিক। তাদের গ্রামের বাড়ি ঢাকার মানিকগঞ্জে। থাকেন ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়। স্বামী-স্ত্রী ছিলেন ওই উড়োজাহাজের যাত্রী।

শাওন-শশি চাচাতো ভাইবোন। দুজনের বাবা চিকিৎসক। গ্রামের বাড়ি ঢাকার মানিকগঞ্জে। থাকেন ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসায়। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ খবর পৌঁছালে তাদের সহকর্মীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জেনারেল সার্জারি বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক গোলাম রহমান জানান, চিকিৎসক রিজওয়ানুল হক শাওন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার। তিনি ৩৩তম বিসিএস ক্যাডার। তার বাবা দিপু একজন চিকিৎসক।

তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর শাওন ও শশিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান স্ত্রী তাহিরা তানভীন শশি। এখন আশঙ্কাজনক অবস্থায় নেপালের ওম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চিকিৎসক রিজওয়ানুল হক শাওন। তার শরীরের ৫০ ভাগেরও বেশি পুড়ে গেছে।

অধ্যাপক গোলাম রহমান জানান, এ হাসপাতালে উচ্চতর ডিগ্রি নেয়ার জন্য সার্জারি বিভাগে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে রয়েছেন। তিনি কয়েক দিন আগে ছুটি নেন হাসপাতাল থেকে। এরপর ঢাকায় গিয়ে নেপালে যাচ্ছিলেন সপ্তম বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে বেড়াতে।

উল্লেখ্য, গতকাল (সোমবার) নেপালের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিধ্বস্ত হওয়ার আগে বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। নেপাল সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্রের বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ৫০ জনের নিহত হয়েছেন।

ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মুখপাত্র প্রেম নাথ ঠাকুর বলেছেন, দুই ইঞ্জিন বিশিষ্ট টার্বোপ্রোপ বিমানটি ৬৭ আরোহী ও ৪ জন ক্রু নিয়ে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে কাঠমান্ডুর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল। যাত্রীদের মধ্যে ৩৭ পুরুষ, ২৭ নারী ও দুই শিশু ছিল। তাদের মধ্যে ৩৩ জন নেপালের নাগরিক।

Bootstrap Image Preview