Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৯ বুধবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

‘বিধ্বস্ত বিমানের মৃতদেহ শনাক্ত করা বড় চ্যালেঞ্জ’ 

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ মার্চ ২০১৮, ০৭:৫৭ PM আপডেট: ১৩ মার্চ ২০১৮, ০৮:১৯ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক-

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্তে মৃতদেহ শনাক্ত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সিভিল এভিয়েশন অথরিটির চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম নাইম হাসান। আজ মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

এম নাইম হাসান বলেন, আর্মি, নেভি ও এয়ার ফোর্সের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। কোনো প্রয়োজন হলে তারা সাহায্য করবে। আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মৃতদেহ শনাক্ত করা। অনেকে দেশের যাত্রী সেখানে ছিল, শনাক্ত করা দরকার যাত্রী কোনো দেশের।

তিনি আরও বলেন, ইউএস-বাংলা স্বজনদের নেপালে নিয়ে গিয়ে কাজটি ভালো করেছে। যাত্রী ও উড়োজাহাজের বীমা রয়েছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের দুর্ঘটনা তদন্ত কবে নাগাদ শেষ হবে, তা নির্দিষ্ট করা বলা মুশকিল।

উড়োজাহাজটির কোনো ক্রটি ছিল কী না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘সিভিল এভিয়েশনের সার্টিফিকেশন ছাড়া কোনো উড়োজাহাজ চলতে পারবে না। এই উড়োজাহাজটি নেপালে যাওয়ার আগেও একটি ফ্লাইট করে আসছে। আমরা অনেক সময় টেস্ট ফ্লাইট দেয়, উড়োজাহাজ ঠিক আছে কি-না চেক করা হয়।’

‘ওইদিন সকালে একবার ও পরে দুপুরে একবার উড়োজাহজটি গিয়েছিল ফ্লাইটে। অতএব উড়োজাহাজটি ভালো ছিল, এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। উড়োজাহাজের প্রত্যেক তথ্য আমাদের ফ্লাইট সেফটি বিভাগে থাকবে। একটি বিষয় হচ্ছে বিমান কখনও পুরান হয়নি। উড়োজাহাজের ইঞ্জিনের লাইফ সার্কেল রয়েছে। লাইফ সার্কেল শেষ হলে ইঞ্জিন পরিবর্তন করলেই হয়।’

পাইলটের সঙ্গে বিমানবন্দরের টাওয়ারের কথোপকথনের বিষয়ে এখনই মন্তব্য করা যাবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমিও ইউটিউব থেকে শুনেছি। কিন্তু এগুলো ভেরিফাইড না। আমরা এনালাইসিস করছি। এখনই মন্তব্য করা যাবে না। আমাদের একটা তদন্ত কমিটি আছে, যদিও তদন্ত কমিটি বলা যাবে না। নেপালের সঙ্গে আমরা একসঙ্গে কাজ করবো। মূল কাজটি করবে নেপাল। ব্ল্যাকবক্সের তথ্য উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো হলে তা তথ্য উদ্ধার করতে পারবে। তখন অনেক তথ্য বের হয়ে আসবে। কোনো কিছুই গোপন থাকবে না। তবে কবে নাগাদ তদন্ত শেষ হবে এটা বলা মুশকিল। তবে রিজন বের করবো, যাতে এর রিপিটিশন না হয়।’

এম নাইম হাসান আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনার পর দুটি পার্ট আছে, এক হলো তদন্ত, আরেকটি হলো হতাহতদের দ্রুত উদ্ধার ও মৃতদের দেহ শনাক্ত করা। তদন্তের পার্টে, আমরা তদন্ত করছি না, কারণ আমাদের এখতিয়ার নেই। নেপালের প্রাক্তন সচিবের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি একটি টিম নেপালে পাঠিয়েছি। এটা চলমান প্রক্রিয়া।

এদিকে নেপালের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১০ বাংলাদেশির নামের তালিকা প্রকাশ করেছে ইউএস বাংলা।

উল্লেখ্য, গতকাল (সোমবার) নেপালের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিধ্বস্ত হওয়ার আগে বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। নেপাল সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্রের বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ৫০ জনের নিহত হয়েছেন।

ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মুখপাত্র প্রেম নাথ ঠাকুর বলেছেন, দুই ইঞ্জিন বিশিষ্ট টার্বোপ্রোপ বিমানটি ৬৭ আরোহী ও ৪ জন ক্রু নিয়ে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে কাঠমান্ডুর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল। যাত্রীদের মধ্যে ৩৭ পুরুষ, ২৭ নারী ও দুই শিশু ছিল। তাদের মধ্যে ৩৩ জন নেপালের নাগরিক।

Bootstrap Image Preview