Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৯ বুধবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

এখনও মায়ের বিশ্বাস নেপাল থেকে ভিডিও কলে কথা বলবে আলিফ

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ মার্চ ২০১৮, ০৩:২৭ PM আপডেট: ১৩ মার্চ ২০১৮, ০৩:৩২ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক-

নেপালে পৌঁছে ভিডিও কলে মায়ের সঙ্গে কথা বলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন খুলনা সরকারি বিএল কলেজের ছাত্র আলিফুজ্জামান আলিফ (৩০)।কিন্তু মায়ের কাছে দেয়া সেই প্রতিশ্রূতি রাখতে পারেনি আলিফ।বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নেপালেই মারা গেছেন আলিফ। আর এই খবরটি মাসহ স্বজনরা জানতে পারে দুপুরের পরই টিভির খবরে।এখন তার পরিবারে শুধুই আহাজারি। তবে বয়োবৃদ্ধা মা এখনও বিশ্বাসই করতে পারছেন না যে ছেলে আলিফ আর নেই এটা মানতে পারছেন না তিনি। তার দৃঢ় বিশ্বাস আলিফ নেপালে পৌঁছে ভিডিও কলে তার সঙ্গে কথা বলবে।

নিহত আলিফ খুলনার রূপসা উপজেলার আইচগাতী ইউনিয়নের আইচগাতী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান মোল্লার ছেলে এবং সরকারি বিএল কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্র। তিনি বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন।

জানা গেছে, গতকাল সোমবার(১২মার্চ) সকালে নেপালে যাওয়ার উদ্দেশ্যে খুব ভোরে বাড়ি থেকে বের হয়ে যশোর বিমান বন্দরে পৌঁছে আলিফের সর্বশেষ কথা হয় মায়ের সঙ্গে।

জানা যায়, আলিফের এক বন্ধু ফারুক নেপালে আছেন। নেপাল যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল বন্ধুদের সঙ্গে সেখানকার বাণিজ্য মেলা দেখা। তার সেই আনন্দ সফর পরিণত হয়েছে বিষাদে। ৩ ভাইয়ের মধ্যে আলিফুজ্জামান ছিলো মেঝ। তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা মোল্লা আসাদুজ্জামান। কয়েকদিন আগে ভারত থেকে চিকিৎসা নিয়ে আলিফ নেপাল যাচ্ছিলো ঘুরতে।

জানা যায়, ৩৪ বছর বয়সী আলিফুজ্জামান সকালে যশোর বিমান বন্দর থেকে প্লেনে করে ঢাকা যান। সেখান থেকে দুপুরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ওই ফ্লাইটে চাপেন নেপালের উদ্দেশ্যে।

যশোর বিমান বন্দর থেকে উড্ডয়নের আগে ফেসবুকে সেলফি পোস্ট করে লিখেছিলেন- By by Khulna welcome Dhaka

আলিফের ছোট ভাই ইয়াছির আরাফাত জানান, প্রতিদিনের মতো গত ১১ মার্চ রাত ১০টায় মা-বাবা ও দুই ভাই একত্রে খাওয়া-দাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে আলিফ নেপালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। পরীক্ষার মধ্যে ১০ দিন বন্ধ থাকার সুবাদে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক তিনি নেপালের একটি মেলায় অংশগ্রহণ জন্য বের হয়েছিলেন।

তিন ভাইয়ের মধ্যে আলিফ ছিল দ্বিতীয়। বড় ভাই আশিকুর রহমান উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে পিরোজপুর জেলায় কর্মরত আছেন। ছোট ভাই ইয়াছির আরাফাত বিবিএ পরীক্ষার্থী। তাদের বাবা মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান মোল্লা সেনেরবাজার একটি তেলের পাম্পের ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন। রাতেই তাদের কাছে আহতদের একটি তালিকা পাঠায় ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তাতে আলিফের নাম নেই।

বিমান বিধ্বস্তের খবর শুনে আলিফের বাড়িতে শত শত মানুষ সমবেদনা জানাতে যান। এ সময় বাবা-মা ও ভাইদের কান্নার রোল পড়ে যায়।

আলিফের বাবা আসাদুজ্জামান মোল্লা জানান, মঙ্গলবার সকালে আলিফের খালু ইউএস বাংলার অপর একটি বিমানে নেপাল গেছেন। বিমান কর্তৃপক্ষ বিনামূল্যে তাকে আলিফের মরদেহ আনতে নিয়ে গেছে- বলেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এদিকে আলিফের মৃত্যুর খবরে খুলনা জেলা ছাত্রলীগ নেতা তসলিম হোসাইন তাজ তার ফেসবুকে আলিফের তোলা শেষ সেলফির ছবি শেয়ার দিয়ে লিখেছেন- ।।।।। আমরা শোকাহত ।।।।।

আলিফের অকাল মৃত্যুতে তার বন্ধু, রাজনৈতিক শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্বজনরা শত শত শোক বার্তা জানাচ্ছেন তাদের ফেসবুকে পেজে।

Bootstrap Image Preview