বিধ্বস্ত হওয়ার আগে কন্ট্রোল রুমের সাথে পাইলটের শেষ ৪ মিনিটের কথোপকথন (অডিও)

প্রকাশঃ মার্চ ১২, ২০১৮

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজটির পাইলট নিয়ন্ত্রণ কক্ষকে জানিয়েছিলেন কোনো সমস্যা নেই। তবে পাইলট উড়োজাহাজটিকে একটি নির্দিষ্ট দিকে অবতরণ করাতে চাইছিলেন।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিধ্বস্ত বিমানের পাইলটকে অবতরণের ভুল নির্দেশনা দেয়া হয় বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম (এটিসি) থেকে। বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার আগ মুহূর্তে বিমানের পাইলটের সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ কথোপকথনে এমনই আভাস মিলেছে।

নেপালের ইংরেজি দৈনিক নেপালি টাইমস কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে পাইলটের সর্বশেষ কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড হাতে পেয়েছে। নেপালি এ দৈনিক বলছে, কন্ট্রোল রুম থেকে ভুল বার্তা দেয়ার কারণেই ককপিটে দ্বিধায় পড়েন পাইলট।

বিমানটি অবতরণের আগে ইউএস বাংলা ফ্লাইটের পাইলটের সঙ্গে কন্ট্রোল রুমের চার মিনিট কথোপকথন হয়। এতে কন্ট্রোল রুমের দেয়া নির্দেশনা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। বিমানবন্দরের রানওয়ে ০২ (দক্ষিণের শেষ প্রান্তের) ও রানওয়ে ২০ নিয়েই দেখা দেয় এ দ্বিধা।

অডিও রেকর্ডের শুরুর দিকে শোনা যায়, কন্ট্রোল রুম থেকে বিমানের পাইলটকে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়, আমি আবারো বলছি, রানওয়ের ২০ এর দিকে অগ্রসর হবেন না। এমনকি তাকে কিছুক্ষণের জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়। এছাড়া অন্য একটি বিমান অবতরণ প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকায় তাকে অবতরণে নিষেধ করা হয়।

বিমানটি যখন অবতরণের অনুমতি চায় তখন অন্য বিমানের নেপালি পাইলটরা বুঝতে পারেন যে এটিসিকে সতর্ক করে দিচ্ছেন ইউএস-বাংলার পাইলট। এমনকি কথাবার্তায় ইউএস-বাংলার পাইলটকে বিচলিত মনে হয়। নেপালি পাইলটরা সে সময় জানান, যে কোনো ধরনের ক্ষয়-ক্ষতি এড়াতে ইউএস-বাংলার পাইলটকে রাডারের সহায়তা করা উচিত।

পরে এটিসি পাইলটের কাছে জানতে চায়, তিনি রানওয়ে ০২ নাকি ২০-তে অবতরণ করতে চান। এবার পাইলট জানান, আমরা ২০ নাম্বার রানওয়েতে অবতরণ করতে চাই। তখন তাকে রানওয়ের শেষ প্রান্তে অবতরণের অনুমতি দেয়া হয়। পরে পাইলট আবার জানতে চান তিনি রানওয়ের নির্দিষ্ট এলাকায় আছেন কি-না। তখন তাকে না করে দেয়া হয়। এবার তাকে ডান দিকে সরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয় এটিসি। পরে পাইলট ইতিবাচক সাড়া দেয়।

এ সময় পাইলট আবার বলেন, রানওয়ে ০২ অবতরণের জন্য ফ্রি (যদিও তিনি রানওয়ে ২০ -এ অবতরণের জন্য অনুমতি চেয়েছিলেন)। তখন এটিসি থেকে তাকে রানওয়ে ০২- তে অবতরণের অনুমতি দেয়া হয়। একই সময়ে সেনাবাহিনীর একটি বিমান বিমানবন্দর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল; এ বিমানও কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগ করে অবতরণের সংকেত চায়। এ সময় এটিসি জানায়, বাংলাদেশি বিমান অবতরণের জন্য রানওয়ে ২০ চূড়ান্ত করা হয়েছে।

ইউএস-বাংলার পাইলটের সর্বশেষ কথা অস্পষ্ট বোঝা যায়। তিনি বলেন, স্যার, আমরা কি অবতরণ করতে পারি? কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর এটিসির নিয়ন্ত্রক চিৎকার করে বলেন, আমি আবারো বলছি, বাঁক নিন…!

এরপর কিছুক্ষণ কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে টাওয়ারে আগুনের সংকেত আসে। যাতে পরিষ্কার হয় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। এ সময় অপর একটি বিমানের পাইলট এটিসির কাছে জানতে চায়, রানওয়ে কী বন্ধ রয়েছে? এটিসি তখন নিশ্চিত করে জানায়, রানওয়ে বন্ধ রয়েছে।

ঢাকা থেকে নেপালের কাঠমান্ডুর উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ইউএস বাংলার একটি বিমান কাঠমান্ডু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হয়। বিমানের থাকা ৬৭ যাত্রী ও ক্রর মধ্যে এ ৫০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

আজ সোমবার দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৬৭ যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যায় বিমানটি। যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি ইনডিপেন্ডেন্ট স্থানীয় প্রতিনিধির মাধ্যমে জানাচ্ছে, বিমানটি কাঠমান্ডু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে (দুই নং প্ল্যাটফর্ম) থেকে পাশের ফুটবল খেলার মাঠে বিধ্বস্ত হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্লেনটি বোম্বার্ডিয়ার ড্যাশ ৮ কিউ৪০০ মডেলের এস২-এজিইউ। বাইরে পাখাবিশিষ্ট এ ধরনের প্লেনে সর্বোচ্চ ৭১টি আসন থাকে।

নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব সুরেশ আচার্য্য জানিয়েছেন, প্লেনটিতে ৬৭ আরোহী ছিলেন। দুর্ঘটনাস্থল থেকে ১৭ জনকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কমেন্টস