বিচার ব্যবস্থা নিয়ে কিছু বলা আমাদের আওতার বাইরেঃ ইইউ

প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৮

বিডিমর্নিং ডেস্ক- 

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজার বিষয়ে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের (ইপি) প্রতিনিধি দলের নেতা জ্যঁ ল্যামবার্ট বলেছেন, ‘এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া। বিচার ব্যবস্থা নিয়ে কিছু বলা আমাদের আওতার মধ্যে পড়ে না।’

বুধবার সন্ধ্যায় গুলশানে ইইউ দূতাবাসে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সকল দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ দেখতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

জ্যঁ ল্যামবার্ট বলেন, খালেদা জিয়ার পার্টি একটি চ্যালেঞ্জের মুখে। আমরা বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে আলোচনা করেছি। দেখার বিষয়- তারা এটি কিভাবে সামাল দেয়, যাতে সব দল নির্বাচনে অংশ নিতে পারে।

এ সময় তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বিশ্বের সবচেয়ে বড় উদ্বাস্তু সংকট। বাংলাদেশ সরকার তাদের আশ্রয় দিয়ে একটি প্রশংসনীয় কাজ করেছে।

ইইউ প্রতিনিধি দল প্রধান বলেন, এতো সংখ্যক শরণার্থীর খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থানের ব্যবস্থা করা একটি জটিল বিষয়। বর্ষা আসন্ন। এখানে দ্বিতীয় বড় সংকটের সৃষ্টি হোক সেটা আমাদের কাম্য নয়।

তিনি আরও বলেন, রাখাইনে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত না করে রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়। মিয়ানমারের দিক থেকে এখনো মানবাধিকার কর্মীদের অবাধ বিচরণে বাধা দেয়া হচ্ছে।

জ্যঁ ল্যামবার্ট বলেন, রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ সময় ধরে রাখা সম্ভব নয়। এতে মানবপাচার এবং চরমপন্থা উৎপত্তি হতে পারে। ইইউ এনিয়ে কী করতে পারে তা নিয়ে ভাবতে হবে।

বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাহবুবুর রহমান, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান, সাবেহ উদ্দিন, আবদুল কাইয়ুম, দলের ভাইস চেয়ারম্যান এনাম আহমেদ চৌধুরী, বিশেষ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার।

ইইউ প্রতিনিধিদলে ছিলেন বাংলাদেশ সফররত দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান জিন ল্যামবার্ট, জেমস নিকলসন রিচার্ড করবেট, ওয়াজিদ খান ও সাজ্জাদ করিম।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুরে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

কমেন্টস