ছাত্রলীগ আর যুবলীগ নেতার ড্রেজারে ‘বিলিনের’ পথে গ্রাম !

প্রকাশঃ জানুয়ারি ১৯, ২০১৮

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

নরসিংদীতে শীতলক্ষ্য নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে মেসার্স মুগ্ধ ট্রেডার্স (এমএমবি) নামের একটি ইটভাটার বেশিরভাগ অংশ নদীতে ভেঙে পড়েছে জানা গেছে।

গত বুধবার গভীর রাতে পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের ভিরিন্দা নামক গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরবেলায় ইটভাটার শ্রমিকরা কাজে এসে এমন ঘটনা দেখতে পান।

 এ ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে মিঠু মিয়া ও স্বপন তালুকদার নামে দুজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে। পলাশ থানার উপপরিদর্শক মীর তহরুল ইসলাম আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ডাঙ্গার ভিরিন্দা ও কাজৈর গ্রামের পাশে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ৬-৭ বছর ধরে বালু তোলা হচ্ছে। নদীর অপর পাড়ে অবস্থিত গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার যুবলীগ নেতা সোহাগ ও ছাত্রলীগের নেতা শাহ আলমসহ কয়েকজন নেতা ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে আসছেন। বালু উত্তোলনের কারণে ওই এলাকার ফসলি জমি ও ইটভাটাগুলো ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ২০১৫ এর ডিসেম্বরে এভাবে বালু তোলার কারণে ভাঙনে পাশের এইচআরবি ইটভাটার ৩০ লাখ ইট নদীগর্ভে চলে যায়। তখন পলাশের উপজেলা চেয়ারম্যান জাবেদ আহামেদ ও পলাশ থানার ওসি ব্যাবস্থা নিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরও থামেনি বালু তোলা।

ক্ষতিগ্রস্থ ইট ভাটার মালিক মোরশেদুল হক ভূইয়া জানান, বালু তোলার কারণে গত কয়েকদিন ধরে ভাটার পাশে মাটি ভেঙে পড়তে দেখে বালু উত্তোলনকারী সোহাগ খন্দকারকে এখান থেকে বালু না তোলার জন্য অনুরোধ করি। কিন্তু তিনি আমার কোনো কথা না শুনে ড্রেজার দিয়ে বালু তুলতে থাকেন। যার ফলে আমার ইট ভাটাটি ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। এতে ভাটার দশ লাখ টাকার ইট, আশি লাখ টাকার কয়লা এবং কয়লা ফাকি করার মল্টিং মেশিনসহ দুই কোটি টাকার মালামাল পানিতে ডুবে যায়। প্রায় ৩০ বিঘা জমির ইটভাটার প্রায় ১২ বিঘাই নদীতে তলিয়ে গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান, কালীগঞ্জ থানা যুবলীগের নেতা সোহাগ খন্দকার ছাত্রলীগ নেতা শাহ আলম শীতলক্ষ্যা নদীতে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। বালু তোলার কারণে গত কয়েক দিন ধরে নদীর পাড়ের ফসলি জমির মাটি ভেঙে নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি নদীর তীরে অবস্থিত ইটের ভাটাগুলোও ভেঙে পড়ছে। কিন্তু তাদের থামানোর কেউ নেই। সঙ্গে কমলিংক লিমিটেডের মালিকে আইটি জোনের জন্য কেনা প্রায় আড়াইশ বিঘা এখন হুমকিতে রয়েছে। অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে কমলিংকের কেনা জমি নদীতে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। ওই অবস্থায় একাধিকবার ড্রেজার বন্ধ করার জন্য বলা হলেও তারা বেপরোয়া হয়ে বেশি বেশি বালু উত্তোলন করছে। এই পরিস্থিতিতে পলাশ উপজেলার কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ আতংকের মধ্যেই দিন কাটাচ্ছেন।

ভিরিন্দা গ্রামের মানিক মিয়া ও রুহুল শেখ নামে দুই ব্যক্তি জানান, নদীর পাশে তাদের দশ বিঘা জমি রয়েছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে তাদের প্রায় পাঁচ বিঘা জমির মাটি নদীতে তলিয়ে যায়। তারা দুজনই ওই যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাসহ তাদের লোকজনের বালু তোলার কথা বলেন। তাদের বাঁধা দিতে গেলে অস্ত্রদারী সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমাদেরকে ভয়ভীতি দেখায়।

ডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান সাবের উল হাই জানান, কালীগঞ্জের কিছু লোক দীর্ঘদিন ধরে ওই অঞ্চলের নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছে। আমরা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করেছি।

পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভাস্কর দেবনাথ বাপ্পি জানান, নদী থেকে বালু উত্তোলন করার অনুমতি কাউকে দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানার ওসিকে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া বিষয়টি নিয়ে নরসিংদী জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে গাজীপুরের জেলা প্রশাসকে অবগত করা হবে।

কমেন্টস