‘লাল দালান’ রক্ষা সলিমুল্লাহ’র শিক্ষার্থীদের কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি

প্রকাশঃ জানুয়ারি ১৩, ২০১৮

ইসতিয়াক ইসতি।।

দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের মর্গের মাঠে ওয়াসার প্রকল্পের ট্যাঙ্ক স্থাপনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ ৪৪ তম ব্যাচের  সমদ্দার নেতৃতে শিক্ষার্থীদের ঐক্য থেকে জানানো হয়েছে, অনতিবিলম্বে এই প্রকল্প অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করা হলে কঠোর আন্দোলনের যাবে তাঁরা। স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ বলছেন একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমের রক্ষা করা যেতে পারে লাল দালান।

ঢাকার পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া এবং বুরিগঙ্গার পানিতে দূষিত আবর্জন পরিমাণ বেড়ে যাওয়া ঢাকাবাসীর বিশুদ্ধ ও নিরোবিছিন ভাবে পানি নিশ্চিত করা হুমকির সম্মুখীন হয়ে দাঁড়িয়েছে ওয়াসার কর্তৃপক্ষের কাছে। আর সমস্যার সমাধান হিসাবে পদ্মা নদী থেকে বুড়িগঙ্গার তলদেশ দিয়ে পাইপ স্থানপ করে পুরো ঢাকা শহরে সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। আর ট্যাঙ্ক স্থাপনার জন্যে তিনটি জায়গা থাকা শর্তেও ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের মর্গের মাঠকে বেছে নেওয়া আন্দোলন ও প্রতিবাদে মুখোর উঠে উঠেছে এই বিদ্যাপীঠ।

শিক্ষার্থীদের ঐক্য ফোরামের বৈঠক থেকে জানানো হয়, পদ্মা নদী থেকে বুড়িগঙ্গার তলদেশ দিয়ে পাইপে মাধ্যমে যে প্রায় ৪৫ কোটি লিটার পানি  আনা হবে তা রাখার জন্য মর্গের মাঠে যে বৃহৎ ট্যাঙ্ক তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তার সামনেই লাল ভবনে মাইক্রোবায়োলজি, প্যাথলজি, এনাটমি, বায়োকেমিস্ট্রি, লেকচার গ্যালারী, অফিস, রিডিং রুম সহ অসংখ্য শিক্ষার্থী প্রতিনিয়ত ক্লাস হয়। আর এই প্রকল্প এখানে শুরু হলে এই কার্যক্রমগুলো সঠিক ভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে না এবং হুমকির সম্মুখীন হবে শিক্ষা ও সমগ্র স্বাস্থ্যখাত।

৪৪ তম ব্যাচের সমদ্দার বলেন, শত বছরের ঐতিহ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ। এখানে লাল দালানের সাথে মিশে আছে হাজার শিক্ষার্থীর আবেগ, স্মৃতি এবং বর্তমান-অনাগত বহু শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত পড়ালেখা। দালানটির ঠিক পিছনে অবিবেচকের মত পানির ট্যাংক করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ঢাকা ওয়াসা। আজকের গণ আন্দোলনে এটাই প্রমাণিত যে সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর আবেগ কেউ কখনো ফেলতে পারবেনা।অতিদ্রুত এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচী পালন করতে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের সকল শিক্ষার্থী সদা প্রস্তুত।

সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের কর্মরত এক চিকিৎসক নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, একে বাছাই করার অন্যতম কারণ হল এতে আনুষঙ্গিক খরচ কম হবে যাতে বাড়তি পয়সাকড়ি বিল্ডার কোম্পানীর পকেটে যাবে। এ স্থাপনাটি করতে গেলে প্রায় ২২ তলা ফাউন্ডেশন দরকার। যার জন্য প্রয়োজন খনন কাজ, কিন্তু এতে আমাদের উনিশ শতকের ঐতিহাসিক লাল দালানটি ভেঙ্গে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেখানে আমাদের মেডিকেল শিক্ষার হাতেখড়ি হয়েছে। শুধু তাই নয়, আমাদের মর্গ ও ভেঙ্গে ফেলা হবে এবং সাথে থাকা এম্বুলেন্স শেডও। ভবিষ্যতে এই ফাঁকা জায়গায় কলেজের টাওয়ার করার পরিকল্পনা রয়েছে বর্তমান প্রিন্সিপাল স্যারের।

এবিষয়ে কথা বলার জন্য ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকমিক এ খানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, অনেক ভৌগলিক  পরীক্ষা নিরীক্ষা করে এই স্থান নির্বাচিত করেছি। পদ্মা নদী থেকে পানি এনে রাখার জন্য যে বিশাল জায়গার প্রয়োজন তা একত্রে এই মাঠ ছাড়া অন্য কোথাও পাওয়া যায়নি বলেই আমরা এই স্থানে কার্যক্রেম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও স্থপতি ইকবাল হাবিব সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি কখনোই একটা শত বছরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিলিন করে কোনো প্রকল্প করার যুক্তি দেখি না। নগরবাসীকে বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করার জন্য এক স্থানে কেন এত বড় ট্যঙ্কি তৈরির যুক্তিও আমি দেখছি না। এর সমাধান হতে পারে ঢাকার চার পাশে একাধিক পানি সংরক্ষণ স্থান তৈরি করা। যাতে সঠিক ভাবে নগরবাসীর দীর্ঘ দিনের পানি সমস্যার সমাধান হবে।

কমেন্টস