Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৯ বুধবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৩ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল আটকে দিবেন প্রাইমারির সহকারী শিক্ষকরা

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৪ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৯:৩৮ PM আপডেট: ২৪ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৯:৫০ PM

bdmorning Image Preview


নুর হোসেন ইমন, ঢাবি প্রতিনিধি-

বেতন বৈষম্য নিরসন না করলে বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল আটকে দিবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রাইমারির সহকারী শিক্ষকরা। এমনকি বছরের প্রথম দিন বই উৎসবও পালন করবেন না তারা।

প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে বেতন স্কেল নির্ধারণের দাবিতে শনিবার থেকে আমরণ অনশন শুরু করেছেন সরকারি প্রাইমারি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা অনশন চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা ১১তম গ্রেড এ বেতন পেলেও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা পান ১৪তম গ্রেডে। সহকারী শিক্ষকদের কমপক্ষে ১২তম গ্রেডে বেতন দেয়ার দাবিতে তারা এ আন্দোলন শুরু করেছে।

গতকাল শনিবার সকাল থেকেই ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক মহাজোটের’ উদ্যোগে এই অনশন কর্মসূচি শুরু হয়। এতে মহাজোটের অধীনে থাকা ১০টি সংগঠনের শিক্ষকরা অংশ নিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক হাজার শিক্ষক এসেছেন এক দফা দাবি আদায়ের অনশন কর্মসূচিতে।

জানা যায়, ১৯৭৩ সাল থেকে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেলে এক ধাপ পার্থক্য ছিল। ২০০৬ সালে এসে দুই ধাপ পার্থক্য তৈরি হয়। এরপর ২০১৪ সালে প্রধান শিক্ষকদের পদমর্যাদা দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করা হলে তিন ধাপ পার্থক্য তৈরি হয়। বর্তমানে প্রধান শিক্ষকরা ১১তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। আর সহকারী শিক্ষকরা ১৪তম গ্রেডেই পড়ে আছেন।

আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানান, আগের বেতন স্কেলগুলোতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা বেতন পেতেন। কিন্তু ২০১৫ সালের বেতন কাঠামোতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের ব্যবধান তিন ধাপ। এখন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা ১৪তম গ্রেডে (মূল বেতন ১০ হাজার ২০০) বেতন পাচ্ছেন। আর প্রধান শিক্ষকরা পাচ্ছেন ১০তম গ্রেডে (মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা)।

ইতিমধ্যে শনিবার সকালে মহাজোটের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন শিক্ষকরা। এরপর দুপুর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত শিক্ষকরা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জড়ো হন। অনেকে কাফনের কাপড়ও পরে এসেছেন। সন্ধ্যায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বেশিরভাগ শিক্ষকই শহীদ মিনারে অবস্থান করছিলেন।

আজ রবিবারও এই কর্মসূচি চলবে বলে কর্মসূচি থেকে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, আমাদের একমাত্র দাবি প্রধান শিক্ষকের এক ধাপ নিচে আমরা বেতন চাই। এজন্য আমরা এর আগে নানা কর্মসূচি পালন করেছি। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে আলোচনাও করেছি। কিন্তু কোনো ফল পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে আমরন অনশন শুরু করেছি।

বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি শাহীনুর আল-আমিন বলেন, দাবি আদায়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস না পাওয়া গেলে আমরা কর্মসূচি চালিয়ে যাব।

কর্মসূচিতে সহকারী শিক্ষক সমাজ, সহকারী শিক্ষক সমিতি, সহকারী শিক্ষক ফাউন্ডেশন, সহকারী শিক্ষক সমাজ-২, সরকারি সহকারী শিক্ষক সমিতি, সহকারী শিক্ষক সমাজ-৩, সহকারী শিক্ষক সমিতি-২, সহকারী শিক্ষক ফোরাম, সহকারী শিক্ষক ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ব্যানারে শিক্ষকরা অংশ নিয়েছেন।

Bootstrap Image Preview