‘মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলায় তরুণদের কন্ঠ সোচ্চার করতে পারিনি’

প্রকাশঃ ডিসেম্বর ৭, ২০১৭

মো. সবুজ খান।।

তরুণ প্রজন্মকে উল্লেখ করে কামাল লোহানী বলেন, আমরা তরুণ প্রজন্মকে সঠিক যায়গায় নিয়ে যেতে পারছি না যার ব্যর্থতা আমাদের। আমরা যেভাবে মুক্তিযুদ্ধ পূর্ববর্তী সময়ে সোচ্চারভাবে কথা বলেছি, মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশে যুবকদের সেভাবে সোচ্চার করতে পারিনি। এটা আমাদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা।

মহান বিজয় দিবসকে সামনে রেখে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে সাংবাদিকতা বিভাগের আয়োজনে ‘মুক্তিযুদ্ধে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষন এক সেমিনারে বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক ও কলামিস্ট কামাল লোহানী এসব কথা বলেন।

এ সময় মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে সাংবাদিকদের প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছে অস্ত্র দিয়ে আর সাংবাদিকরা যুদ্ধ করেছে কলম দিয়ে। ইচ্ছে থাকা সত্বেও তখন অনেক সাংবাদিক পত্রিকায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লেখালেখি করতে পারেনি। কিন্তু তারা অসাধারণ অনেক রিপোর্ট করেছে যা মুক্তিযুদ্ধে দেশের জনগণকে যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

কামাল লোহানী আরও বলেন, যুদ্ধকালীন সময়ে রিপোর্টররা তাদের অসাধারণ বুদ্ধিমত্তার সাথে পাকিস্তানের বিরোধিতা করে বাংলাদেশের পক্ষে কৌশলী শব্দ চয়নের মাধ্যমে রিপোর্ট করত। এছাড়া স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে দেশের সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য নানা স্লোগান প্রচার করা হতো। যুদ্ধকালীন সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সফলতার কথা প্রচার করে দেশের মানুষকে প্রভাবিত করেছে তারা।

সেমিনারে মুক্তিযুদ্ধকালীন সাংবাদিক আবু সাঈদ খান সকল শাহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, গণমাধ্যমগুলো সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধেকালীন সময়ের সাড়ে ৭ কোটি মানুষকে প্রভাবিত করেছিল। তবে সে সময়ে ঢাকা পাকিস্তানের অধীনে অবরুদ্ধ থাকায় গণমাধ্যমগুলো ইচ্ছে সত্বেও খুব একটা জোরালো অবদান রাখতে পারেনি। এ সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বেশ জোরালো ভূমিকা পালন করে। এছাড়া পশ্চিমা বিশ্বের বড় বড় গণমাধ্যমগুলো অনেক বড় ভূমিকা রাখে।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে কলকাতায় তাদের নিজের দেশের পরত্রিকার পাশাপাশি আমাদের দেশের পত্রিকাগুলো রাখত। কলকাতা থেকে যখন বাংলাদেশে অস্ত্র আসত, তখন সেসকল পত্র পত্রিকা ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখাগুলোও আসত। সেগুলো আমাদের দেশের লোকদের অনেক উদ্বুদ্ধ করেছে।

এ সময় মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কন্ঠযোদ্ধা বুলবুল মহালানবীশ বলেন, মুক্তিযুদ্ধে গণমাধ্যমই সে সময়ের চিত্র বর্তমান প্রজন্মকে দেখার সুযোগ করে দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ইলেকট্রনিক মাধ্যম বলতে একমাত্র রেডিও ছিল। পাক হানাদারের অবরুদ্ধের মধ্যে থেকেও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রেডিও মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন তথ্য, গান, বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রচার করে দেশের জনগণকে সংগঠিত করেছে। সে সময়ে রেডিও করেছে মনস্তাত্বিক যুদ্ধ।

তিনি যুবসমাজের উদ্দেশ্যে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ হচ্ছে মুক্তির জন্য যুদ্ধ। সেটি এখনও শেষ হয়নি। যতবারই মুক্তির পথে বাঁধা আসবে ততবারই যুবকদের তা ছিনিয়ে আনতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস মুক্তিযুদ্ধকালীন যুককদের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমাদের মাটির নিচে সবচেয়ে বেশি যুবক মুক্তিযোদ্ধা শুয়ে আছে। তরুণ প্রজন্ম সে সময়ে অনেক বেশি অবদান রেখেছিল। তরুণ প্রজন্মকে দেশের ভবিষ্যৎ বললে চলবে না, তারা দেশের বর্তমান।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল গণতান্ত্রীক ও অসাম্প্রদায়িক দেশ। কিন্তু বর্তমানে আমরা সে চেতনা থেকে অনেক দূরে সরে এসেছি। এখন আমরা আর গণতন্ত্র চাই না, চাই উন্নয়ন।

সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের সাংবাদিকতা বিভাগের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

কমেন্টস