কিছু লেখার প্রয়োজন হলেই আপা বলতেন “এটা শাকিলকে লিখতে বলো”

প্রকাশঃ ডিসেম্বর ৭, ২০১৭

 নসরুল হামিদ বিপু  এমপি-

শাকিলের সাথে আমার পরিচয় ১৯৯৬ সালে। এনামুল হক শামীম একদিন শাকিলকে আমার কাছে নিয়ে এসে বলল, “বিপু, ছেলেটার খুব ভাল লেখালিখি করে; যদি কিছু করা যায় ওকে দিয়ে”। সেই সময় ছাত্রলীগের শামীমের নেতৃত্বেই ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছিল।

শাকিলকে আমার কাছে রেখে দিলাম। সেখান থেকেই শাকিল আমাদের সাথে রয়েছে। আসলেই যে তাঁর লেখালিখির হাত ছিল চমৎকার; বুঝতে পারলাম কিছু দিনের মধ্যেই। উদ্ভাবনী শক্তি বা দূরদর্শিতা কোনকিছুরই ঘাটতি ছিল না।
১৯৯৭-৯৮ সালের দিকে শাকিলের সাথে আমার সম্পর্কটা ঘনিষ্ঠ হয়ে গেল, একটা মানসিক মিলবন্ধন গড়ে উঠলো। সম্পর্কটা ব্যক্তিক ও পারিবারিক সীমানা ছাড়িয়ে অনেক উপরে উঠে পড়ল।

২০০১ সালের কথা। ভাবছিলাম, শাকিলের এই মেধাকে দেশ ও জাতির বৃহৎ স্বার্থে কিভাবে কাজে লাগানো যায়। ওকে নিয়ে আপার কাছে গেলাম, বললাম তাঁর অনন্য মেধার কথা। আপা তখন বিরোধীদলীয় নেত্রী, দেশ ও জাতিকে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের শোষণ আর দুর্নীতির হাত থেকে মুক্ত করার সংগ্রামে ব্যস্ত।

আপাকে প্রস্তাবনা দিলাম একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান খোলার যেখানে সকল তথ্য বিশ্লেষণ, গবেষণা ও পর্যালোচনা করে রিপোর্ট আকারে প্রকাশ করা হবে। আপা এক কথায় রাজি হয়ে গেলেন, ৫নং অফিসের চাবিও দিয়ে দিলেন। আমি আর শাকিল দুজন মিলে কয়েকদিনের মধ্যেই তৈরি করে ফেললাম একটি রাজনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গঠনতন্ত্র। সে দিনের সেই পরিশ্রমের ফসল হল আজকের CRI (Centre For Research & Information), বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান।

আওয়ামী লীগের নেপথ্যে থেকে দলীয় কর্মসূচি প্রস্তুত, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, গবেষণা, পর্যালোচনা করে গবেষণাপত্র নিবন্ধন ও প্রকাশনার দায়িত্ব পালন করা শুরু করল CRI। আমাদের সাথে ছিলেন সাবের হোসেন চৌধুরী, আসাদুজ্জামান নূর, আলমগীর শামসুল আলামিন (কাজল) ও আরেফিন টুটুল। আমরা সার্বিক দেখাশোনা করলেও অফিসের সমস্ত কার্যক্রম শাকিল একাই দেখত। পরবর্তীতে মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ভাই CRI -এর দিকনির্দেশনা দেয়ার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

শাকিল এখানেও তাঁর অদম্য মেধার প্রমাণ দেখিয়েছিল। আপা খুব পছন্দ করে ফেললেন ওকে। আপার সমস্ত কর্মসূচি ও বক্তব্য প্রস্তুত করার গুরুদায়িত্ব পড়ল শাকিলের উপর। খুব অল্পদিনেই সে তার মেধা ও বুদ্ধিবৃত্তিক লেখনীশক্তি দিয়ে মন জয় করে ফেলল আপার। এক পর্যায়ে এমন হল যে, কিছু লেখার প্রয়োজন হলেই আপা বলতেন “এটা শাকিলকে লিখতে বলো”। কোন বক্তব্য দেয়ার আগেও জিজ্ঞাসা করতেন “এটা শাকিল লিখেছে তো?”। আপা শাকিলকে নিজের সন্তানের মতই ভালবাসেন।

গতবছর (৬ ই ডিসেম্বর ২০১৬) আজকের এই দিনে শাকিল আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে গেছে না ফেরার দেশে। ভাবতেই পারছি না আজ শাকিল নেই। রেখে গেছে স্মৃতি, বিস্মৃতি আর শুন্যতা যা কোনদিন পূরণ হবার নয়। দোয়াকরি শাকিল যেন ভালো থাকে পরপারে।

লেখক: বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

(ফেসবুক পাতা থেকে  নেওয়া)

কমেন্টস