নিখোঁজ সাংবাদিক উৎপলের বাবাকে ফোন দিয়ে মুক্তিপণ দাবি

প্রকাশঃ অক্টোবর ২৪, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

সাংবাদিক উৎপল দাস নিখোঁজ হওয়ার ১৪ দিন পর তার বাবার কাছে ফোন করে ছেলের জন্য মুক্তিপণ দাবি করেছে একটি চক্র। মুক্তিপণ চেয়ে কলটি করা হয়েছে উৎপলের মোবাইল থেকেই। মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে নরসিংদীর রায়পুরা থেকে এমন তথ্যই জানিয়েছেন সাংবাদিক উৎপল দাসের বাবা চিত্তরঞ্জন দাস।

তিনি বলেন, ‘আজ সকাল সাড়ে ৮টার সময় উৎপলের মোবাইল থেকে একটি কল আসে। কলটা রিসিভ করতেই জানায় উৎপলকে আটকে রাখা হয়েছে, সে সুস্থ আছে। উৎপলের কাছে তারা একলাখ টাকা পাওনা আছে, ওই টাকা পরিশোধ করা হলেই তাকে ছেড়ে দেয়া হবে। কবে, কোথায় এবং কিভাবে টাকাটা দিতে হবে তা সময়মতো জানানো হবে ‘

চিত্তরঞ্জন দাস আরো বলেন, ‘তাদের কথা শুনে আমি বলি আগে আমার ছেলের সঙ্গে কথা বলিয়ে দিন। তার সঙ্গে কথা বলার পর আপনারা যেখানে বলবেন সেখানে টাকা নিয়ে আসবো। তখন ওরা লাইন কেটে দেয়।পরে বিষয়টি উৎপলের বন্ধু রাজীবের মাধ্যমে পুলিশকে জানানো হয়েছে।’

এদিকে উৎপল দাসকে খুঁজে বের করতে প্রযুক্তির ব্যবহার করছে পুলিশ। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের কললিস্টের রেকর্ড ও লোকেশন বের করা চেষ্টা করা হচ্ছে।

দীর্ঘ ১৪ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন তরুণ এই সাংবাদিক। নিখোঁজ হওয়ার দিন থেকে বন্ধ রয়েছে তার দুইটি মোবাইল ফোনও।

দুপুরে মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক সাংবাদিকেদর বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা সাংবাদিক উৎপল দাসের কোনো সন্ধান পাইনি। তবে প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছি।’

তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক উৎপল নিখোঁজের ঘটনায় তার বাবা ও কর্মস্থলের পক্ষ থেকে আলাদা দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি)করা হয়েছে। এখন আইনগতভাবে তার সন্ধান পেতে যা যা করণীয় আমরা তাই করছি।’

এর আগে সোমবার মতিঝিল থানায় এসে ওই ঘটনায় একটি জিডি করেন উৎপলের বাবা চিত্তরঞ্জন দাস।ছেলের সন্ধানে নরসিংদী থেকে ঢাকায় ছুটে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।পরে জিডি করে আবার নরসিংদী ফিরে যান তিনি।

জিডিতে চিত্তরঞ্জন দাস উল্লেখ করেন, গত ১০ই অক্টোবর দুপুরে তার ছেলের সঙ্গে বিমলা রানী দাসের মোবাইল ফোনে কথা হয়। তখন উৎপল অফিসে ছিল। এরপর বিকাল থেকে তার মোবাইল ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

তিনি আরো জানান, উৎপল ফকিরাপুলের এক নম্বর গলিতে যে বাসায় ভাড়া থাকতেন সেখানেও ফেরেননি। আত্মীয় স্বজন, বন্ধুবান্ধব, সহকর্মী কেউ উৎপলের কোনো খোঁজ দিতে পারেননি। তাকে খুঁজে না পেয়ে পুরো পরিবার শঙ্কায় রয়েছে।

চিত্তরঞ্জন বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে কারো কোনো বিরোধ বা শত্রুতা নেই। তাই কেউ আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে গেছে- এমন সন্দেহও করতে পারছি না। উৎপলের কোনো খবর না পেয়ে তার প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কাও করছি।’

প্রসঙ্গত, ১০ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে কাজ শেষে অফিস থেকে বের হন উৎপল দাস। পরদিন সকাল ৮টার পর থেকে তার ব্যবহার করা দুটি মোবাইল নম্বরই বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবার, সহকর্মী ও বন্ধুবান্ধবের কাছে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায় নি। নিখোঁজের ১২ দিন পর তার সন্ধান চেয়ে রবিবার মতিঝিল থানায় একটি জিডি করা হয়েছে।

নিখোঁজের কয়েকদিন আগে থেকে উৎপলের ফেসবুক পেজে কিছু পোস্ট ছিল রহস্যময়। নিখোঁজের দুই দিন আগে ৮ আগষ্ট একটি পোস্টে তিনি লিখেন, ‘ছয়মাস পর আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যাব’।

কমেন্টস