‘সবাই স্রোতে গা ভাসায় না’

প্রকাশঃ অক্টোবর ১২, ২০১৭

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের মাইক্রবায়োলজী ডিপার্টমেন্টের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ড. ফারহানাজ ফিরোজ। ছবি- মামুনুর রশিদ রাজিব।

অনেকে সম্ভ্রান্ত বিত্তশালী পরিবারে জন্ম নিয়েও নিজের জীবনের একটা স্বতন্ত্র পরিচয় দাঁড় করাতে চান নিজের মত করে, যারা স্রোতের বিপরীতে গিয়ে কাজ করাটাকে পছন্দ করেন গড্ডালিকা প্রভাহে গা ভাষিয়ে নয়, এমনই একজন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের মাইক্রবায়োলজী ডিপার্টমেন্টের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ড. ফারহানাজ ফিরোজ। তার সাক্ষাতকার নিয়েছেন বিডিমর্নিং-এর স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি’র ক্যাম্পাস প্রতিনিধি মামুনুর রশিদ রাজিব।

আমরা যা ভাবি বা দেখি তা অনেক সময় ঘটে না, আর যা ঘটে তা অনেক সময় দেখতে পাইনা। আসলেই তাই। সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্ম নেয়া অনেকে সারা জীবন কাটিয়ে দেয় সোনার চামচ মুখে নিয়েই। কিন্তু অনেকে আছেন, যারা স্রোতের বিপরীতে গিয়ে কাজ করাটাকে পছন্দ করেন, গড্ডালিকা প্রভাহে গা ভাষিয়ে নয়।

যারা নিজের জীবনের একটা স্বতন্ত্র পরিচয় দাঁড় করাতে চান নিজের মতো করে। যার জন্য তাদেরকে করতে হয় কঠোর পরিশ্রম, থাকতে হয় দৃঢ় মনোবল। আর এদেরই একজন ড. ফারহানাজ ফিরোজ। বাবা স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট হান্নান ফিরোজ, মা ফাতিনাজ ফিরোজ স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট। দুই বোনের মধ্যে তিনিই বড়।

ঢাকার স্কলাস্টিকা স্কুলে লেখাপড়া শুরু করলেও পর্যায়ক্রমে পড়াশুনা করেন আমেরিকার জামাইকা স্টেটের পিএস-৫৪ স্কুল, জ্যাক উন হাউজের আইএস-২৩০ (জ্যাক্সন হাইটস) এবং হাইস্কুল ফর হেলথ প্রোফেশন অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিস, ম্যানহাটনে। কিং স্টোন ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডন থেকে বায়ো-মেডিকাল সায়েন্সে গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করলেও পিএইচ ডি ডিগ্রী অর্জন করেন ফুড মাইক্রবায়োলজীতে।

একটা সম্ভ্রান্ত বিত্তশালী পরিবারে জন্ম নিয়েও জীবনের শুরুতেই তিনি নিজের জীবনের দায়-দায়িত্তটা নিজের কাধে তুলে নিতেই পছন্দ করলেন। নিজের লেখাপড়ার খরচ নিজেই চালাতে শুরু করলেন। ইমিটেশন জুয়েলারীর দোকানে ট্রাভেল এজেঞ্ছিতে কাজের মধ্য দিয়ে ১৩ বছর বয়সে শিক্ষা জীবনের পাশাপাশি কর্মজীবনেও পা রাখলেন। পর্যায়ক্রমে তিনি কাজ করেছেন, বিভিন্ন স্যাটালাইট টিভি চ্যানেল, পপাইসের কাস্টোমার সার্ভিসার এমনকি বেবি কেয়ারে শিশুদের দেখাশোনাসহ অনেক প্রতিষ্ঠানে।

প্রথম দিকে লেখাপড়ায় খুব ভাল না হলেও যখন মিস কেল্ভিন এবং ক্রেস্পোর মত শিক্ষকদের সহচার্যে এলেন তখন তিনি যেন জাদুর কাঠির ছোয়া পেলেন। ধীরে ধীরে ভাল করতে থাকলেন। এক সময় তিনি গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করলেন নিউ ইয়র্ক সিটিতে সর্বোচ্চ মার্ক পাওয়া শিক্ষার্থীদের তালিকায় নাম লিখিয়ে। তারপর ফিরে এলেন নিজ দেশে এবং শুরু করলেন সেই ছোটকাল থেকে মনের মধ্যে পুষে রাখা মহান পেশা শিক্ষকতা।

তিনি নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় করে নিয়েছেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের মাইক্রবায়োলজী ডিপার্টমেন্টের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ড. ফারহানাজ ফিরোজ হিসেবে।

এছাড়া তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি বিভিন্ন গবেষণাধর্মী কাজের সাথে যুক্ত আছেন। এবং একটা গবেষনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন। স্বপ্ন দেখেন তার শিক্ষার্থীসহ পৃথিবীর সবাই কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে আপন স্বত্ত্বাকে প্রতিষ্ঠিত করবে, বংশ আভিজাত্তের উর্ধে গিয়ে।

কমেন্টস