সন্ধ্যার পর ঢাকার রাস্তায় কতটা নিরাপদ নারীরা?

প্রকাশঃ অক্টোবর ১২, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

কয়েকদিন আগে বাসে গণ ধর্ষণের  এক তরুণীকে হত্যা করে রাস্তায় ফেলে যাবার ঘটনার পর রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রায় সব যায়গায় সন্ধার পর নারীরা কতটুকু নিরাপদ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছ অনেকের মনে।

নার্গিস বেগম পেশায় চিকিৎসক। রাজধানীর আজিমপুরে তার চেমবার। তার বাড়ি মোহাম্মদপুরে। প্রতিদিন কাজ শেষে রাত নটার পর রিক্সা বা বাসে করে মোহাম্মদপুরে বাড়িতে ফেরেন তিনি। প্রায় প্রতিরাতেই তাকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পরতে হয় বলে জানান তিনি।

রাত প্রায় সাড়ে আটটার দিকে ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত সড়ক ফার্মগেটের রাস্তায় অল্প কয়েক জন নারীর মাঝে দাঁড়িয়ে ছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী কাশফি তানজিমা। মায়ের সাথে দায়ে অপেক্ষা করছিলেন উত্তরাগামী বাসের জন্য।

তিনি বলেন রাতে কোনো কাজ থাকলে সাথে কেউ না কেউ থাকে। কখনো বাবা সাথে থাকে আবার কখনো মা বা বন্ধুরা থাকে।

তিনি আরো বলেন, বাসে উঠলেই সব সময় ভয়ের মধ্যে থাকি। অনেক সময় দেখা যায় অন্য সিট খালি থাকলেও মেয়েদের পাশে বসতে চায় লোকে।

নিজের ভয়ের কথা আর মুখ ফুটে বলেনি কাশফি। নিরাপত্তাহীনতার কারণে তার সন্ধ্যার পর অভিভাবকেরা অনেক অনুষ্ঠানে তাকে যেতে দেন না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউ মার্কেট এবং গুলশানসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় শিক্ষার্থী এবং পেশাজীবী নারীরা বললেন, রাস্তায় চলাচলের ক্ষেত্রে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।

সাম্প্রতি একশন এইড বাংলাদেশের করা এক জরিপে বলছে, রাস্তায় আর স্কুল কলেজের বাইরে দেশের প্রায় ৮০ শতাংস নারী হয়রানির শিকার হন। গত কয়েক বছরে দেশে এসকল কারণে খুন হয়েছেন স্কুল-ক্লেজ পড়ুয়া অনেক মেয়ে।

নারী অধিকারকর্মী নীনা গোস্বামী বলছেন,পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ নেই। যথেষ্ট যানবাহন নেই। এগুলোই কারণ। এর সঙ্গে আছে বিচারহীনতার সংস্কৃতি।

Advertisement

কমেন্টস