যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নকে মিয়ানমারের হুমকি

প্রকাশঃ অক্টোবর ১২, ২০১৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক-

রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সামরিক বাহিনীর অত্যাচার, ধর্ষণ, হত্যা, নির্যাতন বন্ধসহ সংকট নিরসনে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভূক্ত দেশগুলো নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা করছে। আর এ নিষেধাজ্ঞায় ভালো হবে না বলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নকে হুমকি দিল মিয়ানমার।

রয়টার্স-এর সোমবারের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভূক্ত দেশগুলো বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা ও অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা, বৌদ্ধনেতাদের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাসহ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা রয়েছে আলোচনার টেবিলে।

এদিকে, দেশটির ক্ষমতাসীন ডি-ফ্যাক্টো সরকারের শীর্ষ বেসামরিক প্রতিনিধিরা মিয়ানমার টাইমসকে বলেছেন, ‘পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব না পড়লেও পরিবর্তন আসবে আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে। তবে এতে কর্মসংস্থার সংকট তৈরী হওয়ার মধ্য দিয়ে শান্তি প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

দেশটির পরিকল্পনা ও অর্থমন্ত্রী উ তুন তুন নাইং বলেন, ‘মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির কথা শোনা যাচ্ছে। এটা ভালো খবর নয়।আমরা সব দেশের সঙ্গেই বন্ধুত্ব বজায় রাখতে চাই। যখন কেউ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে চায়, আমাদেরকে রাখাইন নিয়ে সত্য বলতেই হয়। এই নিষেধাজ্ঞা আমরা চাই না। আমরা প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরবো।’

উ তুন তুন বলেন, ‘যেই দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক বেশি তাদের সঙ্গে ব্যবসায় প্রভাব ফেলতে পারে। চীন, জাপান, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ এর সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক অনেক কম। তাই এই নিষেধাজ্ঞায় অর্থনৈতিকভাব খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না মিয়ানমার।’

ক্ষমতাসীন এনএলডি সরকারের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ইউ ইয়ে মিন উ বলেছেন, পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞায় মিয়ানমারে বিভক্তি ও অনৈক্যর সৃষ্টি হতে পারে। নিষেধাজ্ঞায় দেশটি আরও বিপাকে পড়বে। এটা সরকারের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করবে। তাই এই মুহূর্তে নিষেধাজ্ঞা আরোপে কারোরই লাভ হবে না। তাই কোনও পরাশক্তি যদি নিষেধাজ্ঞা জারি করে, তার মানে হচ্ছে তারা আমাদের বিভক্ত করার চেষ্টা করছে। এতে কেউ উপকৃত হবে না।’

কমেন্টস