জীবন বাঁচাতে সাড়ে ৩ ঘণ্টা সাঁতরে ১১ যুবক বাংলাদেশে

প্রকাশঃ অক্টোবর ১২, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও স্থানীয় মগদের অত্যাচার থেকে বাঁচতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ৫ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা। তবে কিছুতেই থামছে না নিরাপত্তা বাহিনীদের অত্যাচার। রোহিঙ্গাদের ঘর থেকে বের হতে না দেওয়ায় বাংলাদেশে পালিয়ে আসারও সুযোগ মিলছে না। সেইসাথে দেখা দিয়েছে চরম খাদ্য সংকট।

জীবন বাঁচাতে সাড়ে ৩ ঘণ্টায় নাফ নদী সাঁতরিয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে ১১ রোহিঙ্গা। তারা হলেন- বুচিডংয়ের সিন্ডং গ্রামের ফয়েজুল ইসলাম (১৭), ইসমাইলপাড়ার হামিদ হোসেন (১৯), কামাল হোসেন (৩০), আনসার উল্লাহ (১৬), হরমুড়াপাড়ার মোহাম্মদ উল্লাহ (২৩), পোহমের ইমাম হোসেন (২২), মো. রিয়াজ (১৯), রমজান আলী (২২), কাইন্দাপাড়ার সৈয়দ হোসেন (৩০), আজলীপাড়ার মো. আরফ (১৮) ও টারমপাড়ার আবদুল মতলব (২৮)।

রোহিঙ্গা যুবকরা জানান, টানা আট দিনে হেঁটে গতকাল বুধবার সকাল ৯টায় তাঁরা নাইক্ষ্যংদিয়ায় জড়ো হয়েছিলেন নৌকায় করে বাংলাদেশে আসার জন্য। বাড়ি থেকে যে খাবার নিয়ে পথ দিয়েছিলেন, তা তিন দিনেই ফুরিয়ে যায়। নদীর পারে এলেও তাঁরা কোনো যানবাহন পাননি। সীমান্তে এখন রোহিঙ্গা পারাপারে ব্যাপক কড়াকড়ি। তাই নদ পারাপারে বাহন মিলছে না রোহিঙ্গাদের। উপায় না দেখে ১১ যুবক ঝাঁপ দিলেন নাফ নদীতে। সবার হাতে একটি ছোট তেলের শূন্য জারিকেন ছিল। তাতে ভেসে প্রায় আড়াই ঘণ্টা নাফ নদে সাঁতার কেটে শাহপরীর দ্বীপ জেটির কাছাকাছি চলে আসেন। বিষয়টি নাফ নদীতে টহলরত কোস্টগার্ডের নজরে এলে তাঁদের উদ্ধার করে নিজেদের ট্রলারে নিয়ে কূলে তুলে নিয়ে আসেন।

কোস্টগার্ডের শাহপরীর দ্বীপ স্টেশন কমান্ডার লে জাফর ইমাম সজীব বলেন, উদ্ধার হওয়া ১১ রোহিঙ্গাকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিজিবি প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে গতকাল দুপুরে তাদের সেনাবাহিনীর মাধ্যমে অস্থায়ী ক্যাম্পে পাঠিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি মেম্বার আবদুস সালাম বলেন, ‘বুধবার সকালে আমরা নাফ নদীর তীর থেকে কয়েকজনকে মাঝনদীতে সাঁতার কাটতে দেখি। সবাই সাঁতার দিয়ে বাংলাদেশের দিকে আসছিলেন। তবে প্রত্যেকের হাতে একটি করে ছোট জারিকেন ছিল। তারা সবাই নিরাপদে এপারে উঠেছেন।’

Advertisement

কমেন্টস