বিশ্ব জয়ের পথে ঢাবির তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগ

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৭

মো. আরিফুল ইসলাম, ঢাবি প্রতিনিধি-

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের একটি হচ্ছে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগ, যা বর্তমান কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশ এবং বিদেশে সুনাম বয়ে এনেছে।

ইতিহাসের পাতায় তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগ: ১৯৬৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইলেকট্রনিক্সের উপর উচ্চতর শিক্ষার চাহিদা পূরণের জন্য ফলিত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ খোলা হয় এবং অধ্যাপক শাহ মোঃ ফজলুর রহমান বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান হন। পরে বিভাগটির কোর্স পাঠ্যক্রম আপগ্রেড করা হয় এবং  ১৯৭৪ সালে ডিপার্টমেন্টের নাম পরিবর্তন করে ফলিত পদার্থবিজ্ঞান এবং ইলেকট্রনিক্স রাখা হয়। ২১ শতকের বর্ধিত চাহিদা পূরণের জন্য ইলেকট্রনিক্স এবং যোগাযোগ প্রকৌশল ক্ষেত্রে আরও উন্নয়ন সুবিধার জন্য  পাঠক্রম পুনরায় আপডেট করা হয় এবং ২০০৫ সালের অক্টোবরে ফলিত পদার্থবিজ্ঞান, ইলেকট্রনিক্স ও কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং নামে বিভাগটির নতুন নামকরণ করা হয়। এরপর ২০০৮ সালের ২রা জুন এই বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের অংশ হয়। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ২৫ নভেম্বরে  আরও আপডেটেড পাঠ্যক্রমের সাথে বিভাগটি নতুন উদ্দীপনায় তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগ হিসাবে আবির্ভূত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ঢাবির এই তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগ দেশের বিভিন্ন প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানের মত প্রকৌশল শিক্ষার সোপানের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

ভর্তি প্রক্রিয়া: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাতালিকার ১ম সারির ছাত্র-ছাত্রীরা এই বিভাগে ভর্তি হবার সুযোগ পায়।

শিক্ষক-শিক্ষিকা: বর্তমানে বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ এইচ এম আসাদুল হক, যিনি ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে সফলভাবে বিভাগের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। বিভাগের ৭০ শতাংশ শিক্ষকই জাপান, আমেরিকা, যুক্তরাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন ভালো ভালো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনকারী। বর্তমানে বিভাগে ২৩ জন শিক্ষক রয়েছেন। তার মধ্যে ১০ জন অধ্যাপক, ৬ জন সহযোগী অধ্যাপক, ৩ জন সহকারী অধ্যাপক এবং ৪ জন প্রভাষক রয়েছেন। শিক্ষা ছুটিতে রয়েছেন ১১ জন। তার মধ্যে ৮ জন সহকারী অধ্যাপক এবং ৩ জন প্রভাষক রয়েছেন।

অফিসার ও স্টাফ: বর্তমানে বিভাগটিতে ৫ জন অফিসার এবং ১০ জন স্টাফ রয়েছে। বিভাগের সার্বিক উন্নয়নে তারা সর্বদা জাগ্রত।

একাডেমিক প্রোগ্রাম: বিভাগটি বর্তমানে বিএসসি ইন ইইই, এমএসসি ইন ইইই এবং পিএইচডি ডিগ্রি দেয়। যা অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই ডিগ্রির সমতুল্য।
১। বিএসসি লেভেলে ৮ সেমিস্টারের মাধ্যমে ৪ বছরের কোর্স সম্পন্ন করা হয়। ২২ সপ্তাহে একটি সেমিস্টার শেষ করা হয়। এর মধ্যে ক্লাস হয় ১৪ সপ্তাহ, পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক ছুটি ২ সপ্তাহ, পরীক্ষা ৩ সপ্তাহ এবং ফলাফল ৩ সপ্তাহ। বর্তমানে সর্বমোট ১৬৫ ক্রেডিট সম্পন্ন করে একজন শিক্ষার্থীকে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করতে হয়।
২। এমএসসি লেভেলে মোট ৪ টি মেজর গ্রুপ আছে। যেমনঃ এপ্লাইড ফিজিক্স এন্ড ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স, ইনস্ট্রুমেন্টেশন এন্ড কন্ট্রোল, কমিউনিকেশন এন্ড সিগন্যাল প্রসেসিং এবং পাওয়ার সিস্টেম। মোট ৩৬ ক্রেডিট সম্পন্ন করা হয় ৩ সেমিস্টারে। এরমধ্যে ৩য় সেমিস্টার হচ্ছে থিসিস কিংবা প্রোজেক্ট-ল্যাবের জন্য।

বিভাগের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: ১। আধুনিক শিক্ষার প্রতিশ্রুতিঃ সর্বোৎকৃষ্ট আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে দেশ ও জাতির কল্যাণে একটি দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা।
২। প্রত্যেকের জন্য শিক্ষাঃ আর্থিক অবস্থা, জাতি, বর্ণ, ধর্ম, নির্বিশেষে সবার জন্য উচ্চমানের শিক্ষার সুযোগ প্রদানের জন্য এই বিভাগটি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
৩। রিসার্চ এবং ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে সম্মাননাঃ উচ্চতর গবেষণা এবং ক্যারিয়ার উন্নয়নের জন্য এই বিভাগ সদা সক্রিয়।
৪। বিশ্লেষণাত্মক দক্ষতার উন্নয়নঃ বিভাগটি নিশ্চিত করবে যে সকল ছাত্র-ছাত্রীর গবেষণা,পাঠক্রম, সেমিনার, ওয়ার্কশপ এবং প্রতিযোগিতামূলক ইভেন্টে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় বাস্তব দক্ষতা রয়েছে।

গবেষণা গ্রুপ: মাইক্রোওয়েভ এন্ড অ্যান্টেনা, অপটিক্যাল ফাইবার কমিউনিকেশন, সিগন্যাল এন্ড ইমেজ প্রসেসিং, ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, সেমিকন্ডাকটর এন্ড ভেরি লার্জ স্কেল ইন্টিগ্রেশন টেকনোলজি, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ন্যানো সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং, নবায়নযোগ্য শক্তি প্রযুক্তি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অটোমেশন অ্যান্ড পাওয়ার ইলেকট্রনিক্স, পাওয়ার সিস্টেম, মাইক্রোপ্রসেসর অ্যান্ড এমবেডেড সিস্টেম, রোবোটিক্স এন্ড কন্ট্রোল ইঞ্জিনিয়ারিং।

ল্যাবরেটরি: বিভাগে বেশ কয়েকটি অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি আছে, যা সব শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চতর গবেষণার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। তারমধ্যে মাইক্রোওয়েব অ্যান্ড অপটিক্যাল ফাইবার কমিউনিকেশন ল্যাব, ভেরি লার্জ স্কেল ইনট্রিগ্রেশন ডিজাইন ল্যাব, মাইক্রো কন্ট্রোলার অ্যান্ড এমবেডেড সিস্টেম ডিজাইন ল্যাব, মেশিন ল্যাব, ফেব্রিকেশন ল্যাব, সেমিকন্ডাকটর টেকনোলজি রিসার্চ সেন্টার। ফলশ্রুতিতে বিভাগের শিক্ষক এবং ছাত্র-ছাত্রী প্রতিনিয়ত বিশ্বের সেরা সেরা জার্নাল এবং করফারেন্সে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছে।

তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক্স ক্লাব: বিভাগে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক্স ক্লাব নামে একটি সংগঠন রয়েছে। এই ক্লাবের উদ্যোগে প্রতিবছর সার্কিট প্রতিযোগিতা, প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা, ওয়াল ম্যাগাজিন, ওয়ার্কশপ, উচ্চশিক্ষার সেমিনার, জব সেমিনারের আয়োজন করা হয়। বিভাগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শিক্ষার্থীদের নিজ হাতে করা বিভিন্ন প্রোজেক্ট প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। তাছাড়া বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রতিবছর ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্যুরের আয়োজন করে বিভাগটি।

শিক্ষার্থীদের বৈশিষ্ট্য: ১। এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতা, উদ্যোক্তা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের দৃঢ় সংস্কৃতির সাথে জড়িত। ফলস্বরূপ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ইভেন্ট যেমন রোবোটিক্স, প্রকল্প প্রদর্শন এবং উদ্ভাবন চ্যালেঞ্জের আওতায় বিভিন্ন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে  নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে যাচ্ছে।
২। এই বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীরা বিভিন্ন ইভেন্টে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশপ্রেমিক ও সাংস্কৃতিক মনোভাব গড়ে তুলেছে। এই ধরনের চর্চা সবার মধ্যে লুকানো প্রতিভা খুঁজে বের করার পাশাপাশি “মঞ্চে ভীতি” দূর করে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষকে মোকাবেলা করার ক্ষমতাকে উদ্দীপিত করে। যা প্রকৌশলীদের জীবনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা। পাশাপাশি এসব ইভেন্ট বিনোদন, সামাজিকীকরণ এবং বিনোদনমূলক সুস্বাস্থ্যের উৎস হিসাবেও কাজ করে।

খেলাধূলায় সাফল্য: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া অঙ্গনে এই বিভাগের বিশেষ খ্যাতি হয়েছে। বাস্কেটবল, ফুটবল, ক্রিকেট এবং বার্ষিক অ্যাথলেটিক্সের আন্তঃবিভাগীয় গেমগুলিতে এই বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণ এবং সাফল্য ঈর্ষণীয়। যেমনঃ এই বিভাগ বর্তমানে আন্তঃবিভাগীয় ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন এবং ফুটবলে রানার্স আপ।

তা ছাড়াও ২০০৯ ও ২০১০ সালে ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন, ২০০৮ থেকে ২০১২ পর্যন্ত টানা ৫ বার বাস্কেটবলে চ্যাম্পিয়ন, ২০০৯ সালে ক্রিকেট এবং ২০১২ সালে ফুটবলে রানার্স আপ হয় এই বিভাগটি। অন্যদিকে ২০১৫ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা অ্যাথলেট হয় এই বিভাগের ছাত্র শ্রী কৃষ্ণ হালদার।

একাডেমিক পুরস্কার: এই বিভাগের স্নাতকরা পরীক্ষায় সর্বোচ্চ সমষ্টিগত গ্রেড পয়েন্ট অর্জনের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে ডীন (প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ) এর পুরস্কার লাভ করে। গত কয়েকবছরে ডিনের পুরষ্কার প্রাপ্তরা হলেন- শেখ মোঃ মাহমুদুল ইসলাম (২০১৩), মোঃ জাহিদুল ইসলাম (২০১৩), মিফতাহুল জান্নাত রাস্না (২০১৩), সাব্বির আখন্দ (২০১৬), জান্নাতুল তাহরিমা (২০১৬), নওয়াজ রাব্বানী (২০১৬)। তা ছাড়া ২০০৬-০৭ সেশনের ছাত্র এ বি এম হাসান তালুকদারকে ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে স্বর্ণ পদক প্রদান করা হয়।

জাতীয় প্রতিযোগিতায় সাফল্য: ২০১৪ সালে একটি সম্পূর্ণরূপে সম্পন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে রূপান্তর হওয়ার পর কিছু শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতামূলক রোবোটিক্স এবং গবেষণা প্রকল্প সংস্কৃতির সূচনা করেছিল। টিম অরিয়ন গ্ল্যাডিয়েটর্স এই বিভাগের প্রথম প্রতিযোগিতামূলক রোবোটিক্স দল, যা ২০১৫ সালের জুলাই মাসে গঠিত হয়। জাতীয় স্কেলে তাদের উল্লেখযোগ্য সাফল্যগুলি অন্যদের কাছে অনুপ্রেরণামূলক। যেমনঃ
১। IUT আয়োজিত Mecceleration 2015 তে প্রোজেক্ট প্রদর্শনীতে রানার আপ।
২।  IEEE Student Branch DU আয়োজিত IEEE Student Conference of Science & Engineering 2015 তে সেরা প্রকল্প পুরস্কার লাভ।
৩। EEE BUET আয়োজিত Project Competition (Junior Category) 2015 তে চ্যাম্পিয়ন।
৪। EEE BUET আয়োজিত Project Competition (Junior Category) 2016 তে চ্যাম্পিয়ন।
৫। ESAB আয়োজিত Global Robotics Challenge 2016 Bangladesh Round (Category: Techkriti Innovation Challenge) এ চ্যাম্পিয়ন। এই টিম গঠিত হয়েছিলো ঢাবির ইইই এবং সিএসই বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে।
৬। ডুয়েটের আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় রোবটিক্স প্রতিযোগিতা ডুয়েট টেকফেস্টে ইইই ঢাবির ৩টি টিম পুরস্কৃত হয়েছে।
৭। IEEE Daffodil University Student Branch আয়োজিত IEEE BDS Humanitarian Idea Contest 2017 তে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বিভাগের দুইজন শিক্ষার্থী।
৮। গ্রামীণফোন আয়োজিত Grameenphone-Telenor Youth Forum 2017 এ সেরা হয়েছেন এই বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী।
৯। DUSS Science Festival 2017 এর Robo-Race Contest এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এই বিভাগের শিক্ষার্থী।

আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা: ১। চলতি বছরে এপ্সকো স্টুডেন্ট স্মল স্যাটেলাইট প্রোজেক্টে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছে এই বিভাগের ৫ জনের একটি দল। এই দলটি চায়নাতে স্মল স্যটেলাইটের উপর উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে এবং হাতে কলমে একটি স্যাটেলাইট তৈরির কার্যপ্রণালী আত্মস্থ করেছে। তারা পেরু, পাকিস্তান, তুর্কী, থাইল্যান্ড, চায়না, মঙ্গোলিয়া এবং ইরানের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে এবং অন্যান্য দেশের সাথে ‘এক্সসিলেন্ট স্টুডেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে। এদিকে এপ্সকো এবং চায়নার বেইহাং বিশ্ববিদ্যালয় ঢাবিতে একটি  স্যটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন করতে সাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছে।
২। ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে Huawei আয়োজিত Seeds for the future প্রোগ্রামে বাংলাদেশ থেকে ৫ টি টিম চায়না যায়। এরমধ্যে এই বিভাগের সর্বমোট ৭ জন ছিলো।

এলামনাই এসোসিয়েশন: বিভাগের সাবেক ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে একটি এলামনাই এসোসিয়েশন গঠন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ ও বিশ্বের অনেক নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, যুগ্ম সচিব, উপসচিব, সিনিয়র সহকারি সচিব, ট্রেডকোর লিমিটেড কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ইউল্যাব বিশ্ববিদ্যালয়ে ইটিই বিভাগের প্রধান, স্পারসোর সাবেক চেয়ারম্যান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এর সিনিয়র ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার, ক্যাপ্টেন, আইইউটির কম্পিউটার বিভাগের চেয়ারম্যান, অস্ট্রেলিয়ার এসআইটিএ সফটওয়্যার ডেভেলপার, আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার বেচিপস এর সিইও, অনামিকা এন্টারপ্রাইজের এমডি, সোলার এন ফাউন্ডেশনের চিফ অপারেটিং অফিসার, বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন অথোরিটির পরিচালক, ইলেক্ট্রোপ্রসেস এর এমডি, বাংলাদেশ হেলথ সায়েন্স এন্ড হসপিটালের চিফ বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ার, হা-মিম গ্রুপের চেয়ারম্যান, ক্রিয়েটিভ ইঞ্জিনিয়ারস লিমিটেড এর নির্বাহী পরিচালক, টেকভ্যালি সলিউশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান, পরিচালক, এশিয়া ইনস্যুরেন্স লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট, এক্সপ্রেস লেদার কোম্পানীর এমডি, ম্যাক সিস্টেম সলিউশনের সিইও, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান, পরিচালক, চিফ সায়েন্টিফিক অফিসার, গ্রামীণ কমিউনেকশনের পরিচালক, রূপালি ও অগ্রণী ব্যাংকের ডেপুটি জিএম, বাংলাদেশ পুলিশের এসপি, এএসপি, বিটিসিএল এর ডেপুটি পরিচালক, ওএসএল ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির জিএম, বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডেপুটি পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম ম্যানেজার, রেডিটেক্স এর এমডি, বাংলাদেশ বেতারের ইঞ্জিনিয়ার, আমেরিকার ফেয়ারমন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক, জাপান মাইক্রো সিস্টেমের প্রোগ্রামার, আমিগো ইঞ্জিনিয়ারিং এর সিইও, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ডেপুটি পরিচালক, গ্রামীণফোনের জিএম, সিসকো সিস্টেমের টেকনিক্যাল লিডার, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালের সিনিয়র ম্যানেজার, বাংলাদেশ সরকারের এডিসি, আইবিএম বাংলাদেশ লিমিটেডের নেটওয়ার্ক ও সিকিউরিটি প্রধান, রবির জিএম, আমেরিকার ইন্টেল ইনকর্পোরেশনের সফটওয়্যার প্রোগ্রাম ম্যানেজার, ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজার, প্রোডাক্টস ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার, টেস্ট রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার, ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ার, বাপেক্স এর ম্যানেজার, ফেসবুকের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় ট্রান্সপোরটেশন অফিসার, ঢাকা স্টক এক্সচেন্স এর এজিএম, বাংলাদেশ পাট গবেষণা কেন্দ্রের সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার, এপসিলনের সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের আইটি ম্যানেজার, এডিএন টেলিকমের ম্যানেজার, গ্রিন প্ল্যানেট এসোসিয়েশনের পরিচালক, হুয়াই টেকনোলজির পরিচালক, ইঞ্জিনিয়ার, এডাপ্টিভ ফাউন্ডেশনের এমডি, ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টিলিজেন্সের সহকারি পরিচালক, এইচপি এন্টারপ্রাইজের প্রোজেক্ট ম্যানেজার, বিএএসই টেকনোলজির ম্যানেজার, বেনটেল লিমিটেডের ম্যানেজার, বাংলাদেশ নোকিয়া নেটওয়ার্ক লিমিটেডের গ্লোবাল সার্ভিস সলিউশন ম্যানেজার, বাংলাদেশ এরিকসনের নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার, আমেরিকার গ্লোবাল ফাউন্ডরিস এর প্রিন্সিপ্যাল ইঞ্জিনিয়ার, সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার, কোয়ালিটি ইঞ্জিনিয়ার, ক্যামেরা মার্কেটের এমডি, উইলি ল্যাব লিমিটেডের সিএফও, টেক্সাস ইনস্ট্রুমেন্টের পাওয়ার প্রসেস ইন্টিগ্রেশন ইঞ্জিনিয়ার, আমেরিকার সেমসাং ইলেকট্রনিক্সের ডিভাইস টেস্ট ইঞ্জিনিয়ার, ডি মানি বাংলাদেশ লিমিটেডের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, এসিআই লিমিটেডের ম্যানেজার, বাংলাদেশ সরকারের সহকারি কমিশনার, ওয়ালটন মাইক্রোটেকের এজিএম, ওয়ালটনের সহকারি পরিচালক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারি সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারি পরিচালক (আইসিটি), সান এডিসন সেমিকন্ডাক্টরের মেশিন ভিশন ইঞ্জিনিয়ার, এসো শিখি লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ অফিসার, বিসিএসআইআর এর গবেষকসহ আরো অনেক ভালো ভালো সেক্টরে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ রেখে চলেছেন। প্রতিবছর সবাইকে নিয়ে পুনর্মিলনী কিংবা রমজান মাসে ইফতারের আয়োজন করা হয়। ফলে সবার সাথে সবার পরিচয়ের মাধ্যমে বন্ডিং অনেক শক্ত থাকে।

বিনোদন: ১। প্রতিবছর বিভাগের সকল ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের নিয়ে বার্ষিক বনভোজনের আয়োজন করা হয়।
২। বছরের শুরুতে ইনডোর এবং আউটডোর গেম ফেস্টিভলের আয়োজন করা হয়।
৩। নবীন ও বিদায়ী ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে প্রতিবছর টিএসসিতে নবীনবরণ এবং বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
৪। প্রতিবছর ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সফরে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে যায়।
৫। বাংলা নববর্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এই বিভাগটি।

ক্যারিয়ার: ১। এই বিভাগের বৃহৎ সংখ্যক গ্র্যাজুয়েট Commonwealth Scholarship, Monbukagakusho Scholarship,  DAAD, AUSAID, ERASMUS MUNDAS and  Fulbright Scholarship এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের জন্য মনোনীত হন।
২। বিভাগের অনেক শিক্ষার্থী জিআরই কিংবা আইইএলটিএস দিয়ে আমেরিকা এবং ইউরোপের নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স এবং পিএইচডি করতে যায়।
৩। অনেক গ্র্যাজুয়েট বাংলাদেশ কিংবা বিশ্বব্যাপী বিখ্যাত Intel, Globalfoundries, Google, Schneider Electric, Dell, HP, Huawei সহ অনেক ভালো ভালো কোম্পানিগুলোতে আকর্ষনীয় পদে চাকরি করছেন।
৪। বাংলাদেশে চাকরি প্রত্যাশীদের জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা, বিসিএস ইঞ্জিনিয়ার, বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ, বিভিন্ন পাওয়ার প্ল্যান্ট, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি, মোবাইল ফোন কোম্পানি, বাপেক্স, পেট্রোবাংলা, গ্যাস ফিল্ড, বেসরকারি সফটওয়্যার ফার্ম, পল্লীবিদ্যুৎ, পরমাণু শক্তি কমিশন, ওয়ালটন ইত্যাদি কোম্পানিতে ইঞ্জিনিয়ার কিংবা গবেষক হিসেবে কাজের সুযোগ রয়েছে।

এভাবে বিভাগের সকল কার্যক্রম সফলভাবে চলতে থাকলে খুব শীঘ্রই সেরাদের সেরা হবে ঢাবির এই বিভাগটি।

Advertisement

কমেন্টস