বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ২ লাখ শিশু

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

কক্সবাজরে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়া দুই লাখের বেশি রোহিঙ্গা শিশু মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ শিশু তহবিল ইউনিসেফ। তাদের জন্য জরুরি সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। জাতিসংঘের হিসাব অনুসারে ২৫ আগস্ট থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত অন্তত পৌনে চার লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

মঙ্গলবার ইউনিসেফের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এ মানবিক সংকট ক্রমশ বড় আকার ধারণ করছে। আর এ সংকটে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে শিশুরা। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শরণার্থীদের মোট সংখ্যার ৬০ শতাংশই শিশু।’

জাতিসংঘের এ সংস্থার শিশু সুরক্ষা বিভাগের প্রধান জ্যঁ লিবি জানান, এরই মধ্যে ঢাকা থেকে ইউনিসেফের সহায়তার জরুরি সামগ্রী কক্সবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে ক্যাম্পগুলোয় সুপেয় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা দরকার। সেজন্য প্রাথমিকভাবে ৭৩ লাখ ডলার প্রয়োজন।

জ্যঁ লিবি বলেন, প্রতিদিন যে সংখ্যায় রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসছে তা ‘নজিরবিহীন’। ৪ থেকে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শুধু ছয় দিনেই ২ লাখ ২০ হাজার শরণার্থী বাংলাদেশে এসেছে। তাদের বাংলাদেশে আসার এ প্রবণতা শিগগিরই থামার কোনো লক্ষণ আমরা দেখতে পাচ্ছি না।

ইউনিসেফ বলছে, কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় পাওয়া বিপুল সংখ্যক শিশু বহুদিন ঠিক মতো ঘুমাতে পারেনি। তারা ক্ষুধার্ত এবং দুর্বল হয়ে পড়ছে। রাখাইন থেকে দীর্ঘ দুর্গম পথ পেরিয়ে আসতে গিয়ে তাদের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এখনই তাদের চিকিৎসা প্রয়োজন।

লিবি জানান, তারা সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন সেসব শিশুকে নিয়ে যারা পরিবার থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এরকম ১ হাজার ১২৮ শিশুকে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো শনাক্ত করতে পেরেছে এবং আগামী দিনগুলোয় এ সংখ্যা আরও অনেক বাড়বে।

তিনি বলেন, শরণার্থী শিবিরগুলো প্রতিদিনই বড় হচ্ছে এবং সেখানে সুপেয় পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। পানিবাহিত কোনো রোগ যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেই চেষ্টা আমরা করছি। এখানে বহু নারী, শিশু ও বৃদ্ধ অল্প জায়গার মধ্যে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। এরকম পরিস্থিতিতে ক্যাম্পের শিশুরা পানিবাহিত রোগের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে, যা আমাদের ঠেকাতে হবে।

কমেন্টস