‘অপু-বুবলি’ হায় রে, কাকে দেখে শিখবো আমরা: পরীমনি

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৭

বিডিমর্নিং বিনোদন ডেস্ক-

শাকিব- অপুর সংসারে চিত্রনায়িকা বুবলীকে নিয়ে দ্বন্দ্ব অনেক আগে থেকেই। তবে দ্বন্দ্বটি এতো দিন অপ্রকাশ্য থাকলেও এখন রুপ নিয়েছে প্রকাশ্যে। নাম উল্লেখ না করলেও অপু এবং বুবলি দু’জনেই দু’জনকে উদ্দেশ্য করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি করছেন রীতিমত। গত ৯  সেপ্টেম্বর এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বুবলি কাউকে উদ্দেশ না করে লেখেন, ‘আর কত ক্ষতি করার চেষ্টা করবি? কিছু মানুষকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে আর কত ছোটলোকি করাবি? আর কত ধোঁকা দিবি মানুষকে? তোর মুখের ভাষা, কথাবার্তা, আচার-আচরণ, হাসি দেখলেই মানুষ বোঝে তুই কোন ক্যাটাগরির। ছোটলোক কোথাকার। তোর নাম উচ্চারণ করার রুচিও নেই। ‘

এই স্ট্যাটাস অপু বিশ্বাসের উদ্দেশে, এমনটা মনে করে অনেকেই বুবলির সমালোচনা করেন। তবে বুবলি পরে আরো একটি স্ট্যাটাস। এবারের স্ট্যাটাস ছিল যারা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন তাদের জন্য।

তবে এই প্রসঙ্গ স্থিমিত করার কথা জানিয়ে স্ট্যাটাস দেন পরীমনি। পরী নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন,’ হায় রে, কাকে দেখে শিখবো আমরা! কি ই বা শিখবো আর। বড়রা কি শিখাচ্ছেন এসব আমাদের! যাদের কাছে ফেসবুক এখন ঝগড়া করার উঠন। বাহ! কই কাজ করি আর কাদের সাথে কাজ করি! প্রফেশনাল খাতিরে পদবীটা একই “হিরোইন” 🤓 Plz stop bringing your personal problems to the public🙏 কারণ, লোকে স্বজাতি ভাবে আমাদের। ‘

পরীমনি বলেন, ‘এখানে কেউ ভালো করলে তার ভালোর ক্রেডিটের ভাগটাও যেমন সবাই পাই, তেমনি কারো মন্দ কাজের দ্বায়ভারও লোকে কাঁধে তুলে দেয় আমাদের।

আর কবে বুঝবেন সেটা আপনারা? আপনারা উচ্চ শিক্ষিত ভালো কথা। একটু উচ্চ মানসিকতারও হন এবার। কোটি হৃদয়ের ভালোবাসা আর সম্মানের জায়গায় বসবাস আপনাদের এসব বড্ড বেমানান। ‘

চিত্রনায়িকা বুবলি বিষয়ক জটিলতায় শাকিব খানের সঙ্গে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়েছিল অপু বিশ্বাসের। শাকিব খানকে নিয়ে বুবলির ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ছবি ও ক্যাপশনকে কেন্দ্র করেই ৮ বছরের লুকায়িত দাম্পত্য জীবনকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসেন অপু। একটি টেলিভিশন লাইভে এসে সবাইকে দেখিয়ে দেন, তিনি শুধু শাকিব খানের স্ত্রী-ই নন, তার সন্তানের মাও। সেই থেকে বুবলির সঙ্গে অপ্রকাশ্য একটি দ্বন্দ্ব লেগেই রয়েছে অপুর। নাম উল্লেখ না করলেও অপু এবং বুবলী দু’জনেই দু’জনকে উদ্দেশ্য করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি করেন।

সম্প্রতি ঈদ উপলক্ষে যমুনা টিভির শোবিজ টুনাইট অনুষ্ঠানে গিয়ে উপস্থাপনের এক প্রশ্নের জবাবে অপু বুবলির উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এবারের ঈদে আমি শাকিব খান আর বুবলি একসঙ্গে হলে গিয়ে ছবি দেখব। বুবলি আমার ছেলে জয়কে দেখবে আর আমি শাকিব খানকে ধরে থাকব। আমার জয়কে দেখার একজন লোক তো লাগবেই। আমি যখন জয়ের জন্মের জন্য কলকাতায় ছিলাম তখন শাকিবকে তো বুবলিই দেখে রেখেছে। এখন শাকিবের ছেলে হয়েছে তাকেও তো বুবলিকেই দেখতে হবে।’

এমন সব কথা বলে বেশ অট্টহাসিতে মেতে উঠেন অপু। কথাগুলো বুবলির কানেও গিয়েছে। বিষয়টিকে তিনি কীভাবে নিয়েছেন সেটা বোঝা মুশকিল।

তবে স্বাভাবিক যে নেননি সেটা অনুমেয়। তার ফলাফলই ৯ সেপ্টেম্বর দেখা গেল ফেসবুকে। বুবলি তার টাইমলাইনে লিখেছেন, ‘আমাকে নিয়ে আর কত ষড়যন্ত্র করবি? আর কত ক্ষতি করার চেষ্টা করবি? কিছু মানুষকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে আর কত ছোটলোকই করাবি? আর কত ধোঁকা দিবি মানুষকে? তোর মুখের ভাষা, কথাবার্তা, আচার-আচরণ, হাসি দেখলেই মানুষ বোঝে তুই কোন ক্যাটাগরির। তোর ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে কথা বলার রুচিও নেই, তোর ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে কথা বললে তো ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা হবে তোর। কিছু মানুষ জানে তোর ব্যাপারে যে তুই আসলে কি? কোন যোগ্যতায় তুই আমাকে নিয়ে কথা বলিস? আমাকে নিয়ে সারাক্ষণ পড়ে থাকিস? নিজেকে আলোচনায় রাখতে? রাখ এটাই পারবি তুই। সত্যিকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্যি বানিয়ে অট্টহাসি দিয়ে বাজে কথা বলে। মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করে হাত করে তাদের ক্ষতি করাই তোর কাজ।’

বুবলি যে বেশ ক্ষোভে এবং রাগে কথাগুলো লিখেছেন সেটা স্পষ্ট। কাকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন জানতে চাইলে স্বীকার করেননি। তবে সিনেমাসংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন কথাগুলো অপু বিশ্বাসকে উদ্দেশ্য করেই লিখেছেন। শোবিজ টুনাইট অনুষ্ঠানে অপুর দেয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই হয়তো এমন রাগ দেখিয়েছেন বুবলি। যদিও তিনি এসবের কিছুই স্বীকার করেননি।

তবুও সিনেমা সংশ্লিষ্ট সব আড্ডায় বুবলির এমন স্ট্যাটাস অপুর সঙ্গে দ্বন্দ্বের কথাই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সিনিয়র তারকা শিল্পী বলেছেন, দু’জনের মধ্যে দ্বন্দ্ব এভাবে প্রকাশ্যে নিয়ে আসা ঠিক নয়। তাদের মধ্যে মতবিরোধ বা মনোমালিন্য থাকতেই পারে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, তারা সাধারণ কেউ নন যে, কোমরে কাপড় পেঁচিয়ে ফেসবুকে কিংবা টিভি লাইভে এসে সারা দুনিয়ার মানুষের সামনে ঝগড়া-ফ্যাসাদে লিপ্ত হবেন। এতে বরং শিল্পের দৈন্যতাই প্রকাশ পায়। যদিও তারা আদৌ শিল্পী কী না আমার সন্দেহ। কারণ একজন প্রকৃত শিল্পী কখনোই প্রকাশ্যে নিজেদের ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি করেন না।’

Advertisement

কমেন্টস